সবজির দামে নাভিশ্বাস, ডিম ও পেঁয়াজের বাজারেও চাপ
সবজির দামে নাভিশ্বাস, ডিম-পেঁয়াজের বাজারেও চাপ

সবজির বাজারে আবারও ঊর্ধ্বমুখী দাম ভোক্তাদের মধ্যে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে। একশ’ টাকার নিচে সবজি মিলছে হাতে গোনা কয়েকটি। বেগুন, করলা, বরবটি থেকে শুরু করে কচুমুখীসহ সব ধরনের সবজির দামই এখন চড়া। একই সঙ্গে স্বস্তি নেই ডিম ও পেঁয়াজের বাজারেও।

বাজার পরিস্থিতি

শুক্রবার (১৫ মে) রাজধানীর রায়সাহেব বাজার, কলতা বাজার ও নারিন্দা বাজার ঘুরে এই চিত্র পাওয়া যায়। ব্যবসায়ীরা জানান, বৃষ্টির কারণে বাজারে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। পাশাপাশি গ্রীষ্মকালীন সবজির মৌসুম হওয়ায় উৎপাদনও সীমিত। এসব কারণেই দাম বেড়েছে বলে তারা জানান।

সবজির দাম

বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বিভিন্ন ধরনের সবজির মধ্যে প্রতি কেজি বেগুন ৭০ থেকে ১২০ টাকা, কচুমুখী ৮০ থেকে ৯০ টাকা, করলা ৭০ থেকে ৮০ টাকা, বরবটি ৮০ থেকে ১০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া চিচিঙ্গা, ধুন্দুল ও ঝিঙা ৭০ থেকে ৯০ টাকা, পটোল ও ঢ্যাঁড়শ ৫০ থেকে ৭০ টাকা কেজি দরে পাওয়া যাচ্ছে। অন্যদিকে, প্রতি কেজি টমেটো ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং শশা ৮০ থেকে ১২০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। কাঁচা মরিচের দামও বেড়ে প্রতি কেজিতে ২০ টাকা বৃদ্ধি পেয়ে ১০০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মাছের বাজার

মাছের বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রতি কেজি পাঙাস ২০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৩০ টাকা, রুই ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং মৃগেল ২৫০ থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এছাড়া বাইন ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা, চিংড়ি ৯০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকা, পাবদা ৩৫০ টাকা, কই ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, শিং ৪০০ টাকা, পোয়া ২৬০ টাকা, সইল ৭০০ টাকা এবং টাকি ৪০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মুরগি ও পেঁয়াজ

তবে মুরগির বাজার আগের মতোই স্থিতিশীল রয়েছে। ব্রয়লার মুরগি প্রতি কেজি ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকা এবং সোনালি মুরগি ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। রাজধানীর বাজারে বর্তমানে দেশি ভালো মানের পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৪৫ থেকে ৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সপ্তাহের শুরুতে ছিল ৪০ থেকে ৪৫ টাকা। অন্যদিকে, পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৫৫ টাকায়ও বিক্রি হতে দেখা গেছে। তবে হাইব্রিড জাতের পেঁয়াজ ৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীদের বক্তব্য

রায়সাহেব বাজারের একটি ডিপার্টমেন্টাল স্টোরের স্বত্বাধিকারী নুরুল ইসলাম বলেন, পাইকারি বাজারে পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। এর প্রভাব পড়েছে খুচরা বাজারেও। কলতা বাজারের সবজি ব্যবসায়ী মফিজুল ইসলাম বলেন, দেশের বিভিন্ন এলাকায় টানা বৃষ্টির কারণে রাজধানীর বাজারে সবজির সরবরাহ কমে গেছে। এছাড়া, এখন গ্রীষ্মকালীন সবজির মৌসুম হওয়ায় উৎপাদনও তুলনামূলকভাবে কম। সব মিলিয়ে বাজারে সবজির দাম বেশি বলে তিনি জানান।

ভোক্তাদের প্রতিক্রিয়া

সাপ্তাহিক ছুটির দিনে রাজধানীর রায়সাহেব বাজারে বাজার করতে আসেন বেসরকারি চাকরিজীবী বরকত উদ্দিন। সবজির দামের বিষয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আজ বাজারে এসে দেখছি সব সবজি অতিরিক্ত দামে বিক্রি হচ্ছে। ১০০ টাকার নিচে কোনও সবজি নেই। হাতে গোনা দুই-এক ধরনের সবজি ৮০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। মাছ-মাংস, মুরগির দাম তো আগেই বেশি, এখন ডিমের দামও বেড়েছে। এর মধ্যে সবজির দামও যদি এত বেশি হয়, তাহলে আমাদের মতো সাধারণ মানুষ কী খাবে? একটি সবজির কেজি ১০০ টাকা—এটা কল্পনাও করা যায় না। তিনি আরও বলেন, আগে ১ কেজি করে সবজি কিনলেও এখন আধা কেজি বা ২৫০ গ্রাম করে কিনতে হচ্ছে। বিক্রেতারা যার যার মতো দাম বাড়িয়ে বিক্রি করছেন। সবজির বাজারে কোনও মনিটরিং চোখে পড়ে না। মনিটরিং থাকলে অন্তত কেউ এভাবে ইচ্ছেমতো দাম বাড়াতে পারত না।

কলতা বাজারে বাজার করতে আসা গৃহিণী শারমিন বেগম বলেন, এখন বাজারে কোনও কিছুই আর সাধ্যের মধ্যে নেই। আগে ১০০ টাকার বাজার করলে ৩–৪ দিন চলত, কিন্তু এখন ১ টাকায় ১ দিনের বাজারও হয় না। তিনি আরও বলেন, মাছ-মাংস তো কিনতেই পারেন না। আগে মাঝেমধ্যে ডিম কিনতেন, এখন ডিমের দামও বেড়ে গেছে। কী করবেন, কিভাবে চলবেন—তা বুঝতে পারছেন না। সংসার চালানো দিন দিন আরও কষ্টকর হয়ে উঠছে বলেও জানান তিনি।

ডিমের দাম বৃদ্ধি

এদিকে সবজির চড়া দামের কারণে বাজারে ডিমের চাহিদা বেড়ে গেছে। এতে এক সপ্তাহের ব্যবধানে প্রতি ডজন ডিমের দাম ১৫ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বর্তমানে ফার্মের বাদামি রঙের ডিম প্রতি ডজন ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা এক সপ্তাহ আগে ছিল ১৩০ থেকে ১৩৫ টাকা। সাদা ডিম বিক্রি হচ্ছে ১৪০ থেকে ১৪৫ টাকা ডজন। রাজধানীর পাড়া-মহল্লার দোকানগুলোতে আরও বেশি দামে ডিম বিক্রি হতে দেখা গেছে। রাজধানীর রায়সাহেব বাজারের ডিম বিক্রেতা মো. রফিক বলেন, সবজির দাম বেশি থাকায় অনেক ক্রেতাই এখন ডিমের দিকে ঝুঁকছেন। চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় পাইকারিতেও ডিমের দাম বেড়েছে। তারা বেশি দামে কিনছেন বলেই খুচরা বাজারেও আগের তুলনায় বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।