মূল্যস্ফীতি আবার ৯ শতাংশ ছাড়াল, খাদ্যেও বেড়েছে অস্বস্তি
মূল্যস্ফীতি আবার ৯ শতাংশ ছাড়াল, খাদ্যেও বেড়েছে অস্বস্তি

গত এপ্রিল মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি আবারও ৯ শতাংশের ঘর ছাড়িয়েছে। একইসঙ্গে অস্বস্তি বেড়েছে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতিতেও। বুধবার বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এপ্রিল মাসের মূল্যস্ফীতির চিত্র প্রকাশ করেছে। এর আগে মার্চ মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ।

সার্বিক মূল্যস্ফীতি

বিবিএসের সবশেষ তথ্য বলছে, এপ্রিল মাসে দেশের সার্বিক মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়ে ৯ দশমিক ০৪ শতাংশ হয়েছে, যা গত মার্চ মাসে ছিল ৮ দশমিক ৭১ শতাংশ। অর্থাৎ এক মাসের ব্যবধানে মূল্যস্ফীতি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

খাদ্য মূল্যস্ফীতি

অস্বস্তি বেড়েছে খাদ্য মূল্যস্ফীতিতেও। এপ্রিল মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ১৫ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৩৯ শতাংশে। মার্চ মাসে যেটি ছিল ৮ দশমিক ২৪ শতাংশ। খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি

এদিকে মার্চ মাসে সার্বিক খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ০৯ শতাংশ থাকলেও এপ্রিলে সেটি বেড়ে ৯ দশমিক ৫৭ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। এই খাতে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে শূন্য দশমিক ৪৮ শতাংশ। খাদ্যবহির্ভূত পণ্য ও সেবার দাম বৃদ্ধি ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।

গ্রাম ও শহরের চিত্র

এছাড়া এপ্রিলে গ্রামাঞ্চলে সার্বিক মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ৩৩ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ০৫ শতাংশে। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ২৩ শতাংশ ও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ৮১ শতাংশ। অন্যদিকে, এপ্রিল মাসে শহরে সার্বিক মূল্যস্ফীতি শূন্য দশমিক ৩৪ শতাংশ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ০২ শতাংশে। এর মধ্যে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ৮ দশমিক ৮১ শতাংশ ও খাদ্যবহির্ভূত মূল্যস্ফীতি ৯ দশমিক ১৫ শতাংশ।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব

গত ১৯ এপ্রিল সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম বাড়িয়েছে সরকার। প্রতি লিটার ডিজেলের দাম ১০০ থেকে বাড়িয়ে ১১৫ টাকা, কেরোসিন ১১২ থেকে বাড়িয়ে ১৩০ টাকা, অকটেন ১২০ থেকে বাড়িয়ে ১৪০ টাকা ও পেট্রলের দাম ১১৬ থেকে বাড়িয়ে ১৩৫ টাকা করা হয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানো হলে জীবনযাত্রার ওপর ব্যাপক প্রভাব পড়ে। এটি পরিবহন খরচ থেকে শুরু করে পণ্যের উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দেয়। ফলে ভোক্তাদের আগের চেয়ে বেশি দামে পণ্য কিনতে হয়, যা মূল্যস্ফীতির চাপকে আরও বাড়িয়ে তোলে।