আজ বুধবার দেশের মুদ্রাবাজারে লেনদেন শেষ হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্য সংকটসহ বিভিন্ন কারণে দুই মাস ধরেই বিদেশি মুদ্রার দাম ওঠানামা করছে, তবে দামের বাড়তি প্রবণতা বেশি। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুসারে, আজ ডলারের দাম অপরিবর্তিত আছে। ডলারের গড় দাম ১২২ টাকা ৭৫ পয়সা। কয়েক মাস ধরেই ডলারের দাম ওঠানামা করছে, তবে গত এক মাসে ডলারের দাম অল্প কিছুটা বেড়েছে।
প্রধান মুদ্রার দর পরিবর্তন
আজ দেশের মুদ্রাবাজারে বেশির ভাগ প্রধান মুদ্রার দর বেড়েছে। দাম বেড়েছে পাউন্ড, রুপি, ইউয়ান, ইয়েন ও সিঙ্গাপুরি ডলারের। অপরিবর্তিত আছে ইউরোর দাম, কমেছে অস্ট্রেলীয় ডলারের দাম। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রকাশিত বৈদেশিক মুদ্রার দামের চেয়ে কিছুটা বেশি দামে খোলাবাজারে বিক্রি হয়। বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হারের ওঠানামার সঙ্গে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের খরচও ওঠানামা করে।
বাজার বিশ্লেষণ
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকট এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিরতার কারণে বিদেশি মুদ্রার দামে এই ওঠানামা চলছে। বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার স্থিতিশীল রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে, তবে দীর্ঘমেয়াদী সমাধানের জন্য আরও কঠোর নীতি প্রয়োজন। ব্যবসায়ীরা বলছেন, ডলারের দাম স্থিতিশীল থাকলেও অন্যান্য মুদ্রার দাম বেড়ে যাওয়ায় আমদানি ব্যয় বেড়েছে, যা পণ্যের দামকে প্রভাবিত করছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, গত এক মাসে ডলারের দাম ১২২ টাকা ৭৫ পয়সায় স্থিতিশীল থাকলেও পাউন্ডের দাম ১৫৫ টাকা থেকে ১৫৭ টাকায় উন্নীত হয়েছে। ভারতীয় রুপির দাম ১.৪৭ টাকা থেকে ১.৪৯ টাকায় বেড়েছে। চীনা ইউয়ানের দাম ১৭.২০ টাকা থেকে ১৭.৪০ টাকায় এবং জাপানি ইয়েনের দাম ০.৮২ টাকা থেকে ০.৮৪ টাকায় পৌঁছেছে। সিঙ্গাপুরি ডলারের দাম ৯১ টাকা থেকে ৯২ টাকায় উঠেছে।
অন্যদিকে, ইউরোর দাম ১৩৫ টাকায় অপরিবর্তিত থাকলেও অস্ট্রেলীয় ডলারের দাম ৮২ টাকা থেকে কমে ৮০ টাকা হয়েছে। খোলাবাজারে ডলার বিক্রি হচ্ছে ১২৩ টাকা থেকে ১২৪ টাকায়, যা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্ধারিত দামের চেয়ে কিছুটা বেশি।
মুদ্রাবাজারের এই অস্থিরতা ব্যবসা-বাণিজ্যে প্রভাব ফেলছে। আমদানিকারকরা বলছেন, ডলারের দাম স্থিতিশীল থাকলেও অন্যান্য মুদ্রার দাম বেড়ে যাওয়ায় তাদের খরচ বেড়েছে। রপ্তানিকারকরা অবশ্য কিছুটা সুবিধা পাচ্ছেন, কারণ তাদের আয়ের পরিমাণ বেড়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেছেন, বাজার স্থিতিশীল রাখতে তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিচ্ছেন। তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, মধ্যপ্রাচ্য সংকট যদি দীর্ঘায়িত হয়, তাহলে মুদ্রাবাজারে আরও অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।



