সিলেটের হাওরে ধান কাটার সংকট: জ্বালানি ও জলাবদ্ধতা কৃষকদের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে
সিলেটের হাওরে ধান কাটার সংকট: জ্বালানি ও জলাবদ্ধতা

সিলেটের হাওরে ধান কাটার সংকট: জ্বালানি ও জলাবদ্ধতা কৃষকদের দুর্ভোগ বাড়াচ্ছে

সিলেটের হাওর অঞ্চলে ধান কাটার মৌসুমে নতুন সংকট দেখা দিয়েছে। জলাবদ্ধতার পাশাপাশি জ্বালানি তেলের অভাব কৃষকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধান দ্রুত কেটে ঘরে তোলার জন্য হারভেস্টার মেশিন চালাতে ডিজেল তেলের জন্য হন্যে হয়ে ঘুরছেন কৃষকেরা। তবে অনেক স্থানে জলাবদ্ধতার কারণে হারভেস্টার মেশিন নামানো যাচ্ছে না, আর বিকল্প হিসেবে ধান কাটার শ্রমিকও পাওয়া যাচ্ছে না।

জলাবদ্ধতা ও বৃষ্টির প্রভাব

দিনের বেলা সূর্যের আলো থাকলেও রাতের বৃষ্টি হাওরগুলোর জলাবদ্ধতা সমস্যার উন্নতি হতে দিচ্ছে না। সুনামগঞ্জে গত শুক্রবার পর্যন্ত ৪ হাজার ৯৮ হেক্টর জমির ধান তলিয়ে গেছে, যার মধ্যে ৫০ ভাগ জমির ফসল সম্পূর্ণ নষ্ট হয়েছে। ইতিমধ্যে সুনামগঞ্জের ১২ উপজেলায় হাওর রক্ষা বাঁধের ৪০টি স্থানে বাঁধ কেটে পানি বের করা হচ্ছে। এবার ১৪৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ৬০৩ কিলোমিটার অস্থায়ী ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে, যা সাড়ে ৪ হাজার কোটি টাকার বোরা ধান রক্ষার জন্য।

জ্বালানি সংকট ও তেল বিতরণ

কৃষকদের চাহিদা মেটাতে রেশনিং পদ্ধতিতে হারভেস্টার মেশিনের জন্য তেল দেওয়া হচ্ছে। স্থানীয় উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও কৃষি অফিসার মিলে স্লিপ দিলেই কম্বাইন্ড হারভেস্টার বা রিপার মেশিনের মালিক বা চালকদের কাছে ডিজেল বিক্রয় করা হবে। তবে অনেক স্থানে জ্বালানি-সংকটের কারণে হারভেস্টার মেশিন চালানো যাচ্ছে না। সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার নিয়ামতপুর গ্রামের হারভেস্টার মালিক আব্দুল হক জানান, তেল সংগ্রহের জন্য পাম্পে পাম্পে ঘুরতে হয়েছে, যা ধান কাটতে বিলম্ব ঘটাচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ
Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কৃষকদের অবস্থা ও উদ্বেগ

সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার মদনপুরের কৃষক আব্দুল্লাহ মিয়া ৩০ একর জমি চাষাবাদ করেছিলেন, কিন্তু বাকি পাকা ধান কাটা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। একই এলাকার গোবিন্দপুরের কৃষক ইকবাল আহমদ বলেছেন, হারভেস্টার মেশিনের মালিক-চালকরা তেল পাচ্ছেন না। মাটিয়ান হাওরে ৩৬ বিঘা জমিতে বোরো ধান আবাদ করা কৃষক মাফি আলম ধান কাটার শ্রমিক পাচ্ছেন না এবং তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় মেশিন চালাতে দ্বিগুণ টাকা গুনতে হচ্ছে।

কৃষি বিভাগের পদক্ষেপ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

সিলেট কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মোশারফ হোসেন জানিয়েছেন, মেঘালয়ে ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস নেই, তবে সুরমা-কুশিয়ারা অববাহিকায় বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে। জেলায় ধান কাটার হারভেস্টার মেশিন সচল আছে ৬০২টি এবং রিপার মেশিন ১৫৫টি। জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক দাবি করেছেন, জেলায় জ্বালানি তেলের সংকট নেই এবং বিধি মোতাবেক স্লিপ নিয়ে তেল ক্রয় করা যাবে। সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মামুন হাওলাদার বলেন, হাওরের জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য প্রতিটি উপজেলায় কমিটি করা হয়েছে এবং আগামী বছর থেকে প্রয়োজনীয় স্থানে স্লুইসগেট নির্মাণ করা হবে।

এদিকে, কৃষি বিভাগ ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের প্রণোদনা দেওয়ার চিন্তাভাবনা করছে। তবে কৃষকরা আশঙ্কা করছেন, যে কোনো সময় ঢল নেমে পাকা ধান তলিয়ে দিতে পারে, যা তাদের জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করছে।