বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে রেকর্ড ভুট্টা আবাদ, কৃষকদের মুখে হাসি
বগুড়ায় রেকর্ড ভুট্টা আবাদ, কৃষক লাভবান

বগুড়ার সারিয়াকান্দিতে রেকর্ড ভুট্টা আবাদ, কৃষকদের মুখে হাসি

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় এবার রেকর্ড পরিমাণ জমিতে ভুট্টার আবাদ হয়েছে, যা কৃষকদের জন্য ব্যাপক লাভের সুযোগ সৃষ্টি করেছে। পরিপক্ব হওয়ায় কৃষকরা ইতিমধ্যে ভুট্টা কর্তন শুরু করেছেন, আর অনুকূল আবহাওয়ার কারণে ফলনও হয়েছে উল্লেখযোগ্য। বাজারে ভালো দাম পাওয়ায় কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে, বিঘাপ্রতি ২০ হাজার টাকার বেশি লাভ হচ্ছে বলে জানা গেছে।

চরাঞ্চলে ভুট্টার সমারোহ

সারিয়াকান্দি উপজেলার ওপর দিয়ে যমুনা ও বাঙালি নদী প্রবাহিত হওয়ায় এখানে বিশালাকার চরাভূমি রয়েছে। এসব চরাঞ্চলে কৃষকরা গত কয়েক বছর ধরে পানিসেচের মাধ্যমে ভুট্টার আবাদ করে আসছেন। পুরো চরাঞ্চলজুড়ে এখন শুধু ভুট্টার ক্ষেত দেখা যাচ্ছে, যা অঞ্চলের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

গত কয়েক মাস আগে বপন করা ভুট্টার গাছ এখন বেশ বড় হয়েছে, আর গাছে গাছে ভুট্টার মোচা পরিপক্ব হয়েছে। কৃষকরা মাঠে মাঠে ভুট্টার মোচা সংগ্রহ করছেন, ঘোড়ারগাড়িতে করে বাড়িতে নিয়ে আসছেন, মাড়াই করছেন এবং শুকনো ভুট্টা বাজারজাত করতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কৃষকদের সাফল্যের গল্প

উপজেলার চালুয়াবাড়ী ইউনিয়নের কৃষক দুলাল কাজী জানান, গত বছর তিনি তার ১০ বিঘা জমিতে ভুট্টার আবাদ করেছিলেন। বিঘাপ্রতি তিনি কাঁচা প্রায় ৪৫ মণ ভুট্টা পেয়েছিলেন, যা শুকনায় ৩৫ মণে পরিণত হয়েছিল। তিনি জমিতেই প্রতি মণ ১,১০০ টাকা করে বিক্রি করে প্রায় ২০ লাখ টাকা লাভ করেছিলেন। এ বছর তিনি তার ১৫ বিঘা জমিতে ভুট্টার আবাদ করেছেন এবং গত বছরের মতোই ভালো ফলনের আশা করছেন। আগামী সপ্তাহ থেকে তিনি ভুট্টা কর্তন শুরু করবেন বলে জানিয়েছেন।

দুলাল কাজী আরও উল্লেখ করেন, এ বছর তার ভুট্টার আবাদে বিঘাপ্রতি প্রায় ১৫ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে, এবং তিনি আশা করছেন বিঘাপ্রতি ২০ হাজার টাকা লাভ হবে। চরের অন্যান্য কৃষকরাও ভুট্টা সংগ্রহ শুরু করেছেন, যা তাদের আর্থিক অবস্থার উন্নতি ঘটাচ্ছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কৃষি অফিসের তথ্য

সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসের সূত্র অনুযায়ী, গত বছর ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৮,৫০০ হেক্টর জমি, কিন্তু অর্জন হয়েছিল ৮,৬৫০ হেক্টর। অন্য ফসলের দিকে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে এ বছর ভুট্টা চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৭,৫০০ হেক্টর, কিন্তু তা পেরিয়ে ৮,৮৯৫ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। এ পর্যন্ত ১,৭২০ হেক্টর জমির ভুট্টা কর্তন করা হয়েছে, গড় ফলন হয়েছে হেক্টরপ্রতি ১০ মেট্রিক টন বা বিঘাপ্রতি প্রায় ৩৩ মণ।

বাজারে কৃষকরা শুকনা ভুট্টা প্রতি মণ ১,০০০ টাকা করে বিক্রি করছেন। গত বছরগুলোর মতো এ বছরও কৃষকরা যুবরাজ, পাইওনিয়ার, প্রেসিডেন্ট, সুপার সাইন, কাবেরীসহ নানা জাতের উচ্চ ফলনশীল ভুট্টার আবাদ করেছেন, যা উৎপাদন বৃদ্ধিতে সহায়ক হয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তার বক্তব্য

সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, নদীবেষ্টিত এই উপজেলার বিশালাকার চরাভূমির মাটি বেলে দোআঁশ হওয়ায় ভুট্টা চাষের জন্য খুবই উপযোগী। গত কয়েক বছর ধরে কৃষকরা ভুট্টার আবাদ করে লাভবান হচ্ছেন, আর এ বছরও তারা সফল হয়েছেন। আবহাওয়া ভালো থাকায় ফলন ভালো হয়েছে, এবং বেশকিছু কৃষক ভুট্টা কর্তন করে বাজারে বিক্রি করে ভালো দাম পেয়ে লাভবান হয়েছেন।

তিনি আরও জানান, ভুট্টা চাষের পাশাপাশি কৃষকদের অন্য ফসল চাষের জন্য উদ্বুদ্ধ করা হচ্ছে, যা কৃষি বৈচিত্র্য বাড়াতে সাহায্য করবে। সারিয়াকান্দির এই সাফল্য অঞ্চলের কৃষি উন্নয়নে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করছে, এবং ভবিষ্যতে আরও বেশি কৃষককে আকৃষ্ট করতে পারে।