বগুড়ায় পেঁয়াজের ভালো ফলন, কিন্তু দাম কমায় কৃষকরা হতাশ
বগুড়ায় পেঁয়াজের ভালো ফলন, দাম কমায় কৃষক হতাশ

বগুড়ায় পেঁয়াজের ভালো ফলন, কিন্তু দাম কমায় কৃষকরা হতাশ

বগুড়ার সারিয়াকান্দি উপজেলায় এবার পেঁয়াজের চাষে মোটামুটি ভালো ফলন হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় বিঘাপ্রতি গড়ে ৪০ থেকে ৪৫ মণ পেঁয়াজ উৎপাদিত হচ্ছে। তবে বাজারে প্রতিমণ পেঁয়াজের দাম মাত্র এক হাজার টাকা হওয়ায় কৃষকরা লাভের মুখ দেখতে পারছেন না। এই অবস্থায় অনেক কৃষক তাদের জমি থেকে পরিপক্ব পেঁয়াজ উত্তোলন করতেও দ্বিধাবোধ করছেন।

লক্ষ্যমাত্রা ও অর্জন

সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি অফিসের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর পেঁয়াজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল এক হাজার ৬০০ হেক্টর জমি। অর্জন হয়েছে এক হাজার ৪১০ হেক্টর জমি। এ পর্যন্ত প্রায় ১ হাজার ৪২০ হেক্টর জমির পেঁয়াজ উত্তোলন করা হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন সন্তোষজনক হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

কৃষকদের বাস্তব অভিজ্ঞতা

ধাপ গ্রামের কৃষক ফারুক মিয়া জানান, গত নব্বইয়ের দশকে যমুনা নদী ভাঙনের শিকার হওয়ার পর গত কয়েক বছর পলি পড়ে জেগে ওঠা ১১ বিঘা জমিতে তিনি পেঁয়াজের আবাদ করেছেন। আবহাওয়া ভালো থাকায় বিঘাপ্রতি ৩০ থেকে ৩৫ মণ ফলন হয়েছে। কিন্তু সার, পানি, কীটনাশক, বীজ এবং শ্রমিক খরচ বাবদ তার তিন লাখ টাকার বেশি খরচ হয়েছে। তিনি তার পেঁয়াজ বাজারে মাত্র ৯০০ থেকে ১১০০ টাকা মণ দরে বিক্রি করেছেন, যা তাকে কোনো লাভ দিতে পারেনি।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চালুয়াবাড়ী গ্রামের কৃষক দুলাল কাজী প্রায় ৯ বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছেন। ফলন ভালো হলেও বাজারে দাম কম থাকায় তিনি পেঁয়াজ নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন। দাম কমের কারণে তিনি তার জমি থেকে পেঁয়াজ তুলতে সাহস পাচ্ছেন না।

সরকারি সহায়তার আহ্বান

কৃষক ফারুক মিয়া সরকারের কাছে পেঁয়াজের সর্বনিম্ন মূল্য মণপ্রতি দেড় হাজার টাকা করার অনুরোধ জানিয়েছেন। তিনি বলেন, "লাভের আশায় যমুনা নদীর উত্তপ্ত বালুচরে পানি সেচ দিয়ে পেঁয়াজের আবাদ করে সফল হয়েছি। কিন্তু বাজারে দাম কম থাকায় হতাশ হয়েছি। দামি কীটনাশক ও চড়ামূল্যের শ্রমিক নিয়ে চাষ করে লাভের মুখ দেখতে পারছি না।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শ

সারিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ বলেন, "নদীবেষ্টিত বগুড়া সারিয়াকান্দির বেলে দোআঁশ মাটি পেঁয়াজ চাষের জন্য খুবই উপযোগী। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলন ভালো হয়েছে। বাজারে দাম কম পেয়ে কৃষকরা হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই।" তিনি কৃষকদের বাড়ির আড়ায় পেঁয়াজ সংরক্ষণ করে রাখার পরামর্শ দিয়েছেন। এছাড়া পেঁয়াজ সংরক্ষণের জন্য উপজেলার বেশকিছু কৃষকের মাঝে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম বিতরণ করা হয়েছে।

এই পরিস্থিতিতে কৃষকরা সরকারি পদক্ষেপ কামনা করছেন, যাতে তারা তাদের উৎপাদিত পেঁয়াজ থেকে ন্যায্য মূল্য পেতে পারেন এবং ভবিষ্যতে চাষাবাদে উৎসাহিত হতে পারেন।