পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের অগ্রগতি: সংসদে মন্ত্রীর বিস্তারিত তথ্য
পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের অগ্রগতি সম্পর্কে পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি সংসদে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ১৫তম দিনে রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন-অর-রশিদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ তথ্য দেন। ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই অধিবেশনে পদ্মা ব্যারেজের বর্তমান অবস্থা নিয়ে আলোচনা হয়।
প্রকল্পের গুরুত্ব ও অগ্রাধিকার
মন্ত্রী এ্যানি সংসদকে জানান, বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারেও পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, প্রস্তাবিত পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই অঞ্চল দেশের মোট আয়তনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশজুড়ে বিস্তৃত এবং এখানে প্রায় সাড়ে ছয় কোটি মানুষের বসবাস। প্রকল্পটি নদী নির্ভরশীল জনগণের জীবনরক্ষাকারী প্রকল্প হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
প্রকল্পের ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থা
পদ্মা ব্যারেজ নির্মাণের ধারণা দীর্ঘদিনের। ১৯৬০ থেকে ২০০০ সাল পর্যন্ত সময়ে প্রকল্প প্রণয়নের উদ্দেশ্যে মোট চারটি সমীক্ষা পরিচালিত হয়। পরে ২০০২ সালে প্রাক-সম্ভাব্যতা সমীক্ষার মাধ্যমে সম্ভাব্য স্থান নির্ধারণ করা হয়। ২০০৪ সালে ৪৫ কোটি টাকা ব্যায়ে একটি বিস্তারিত সমীক্ষা প্রকল্প গ্রহণ করা হয়, যা ২০১৩ সালে সম্পন্ন হওয়ার পর প্রকল্পের পূর্ণাঙ্গ নকশা চূড়ান্ত করা হয়।
মন্ত্রী আরও জানান, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় থেকে প্রকল্পের ডিপিপি ইতোমধ্যে প্রণয়ন করে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। প্রকল্পটির প্রস্তাবিত ব্যায় নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৪ হাজার ৪৯৭ কোটি ২৫ লাখ টাকা। প্রকল্পটির বাস্তবায়নকাল ধরা হয়েছে ২০২৬ সাল থেকে জুন ২০৩৩ পর্যন্ত।
সংসদ সদস্যের প্রশ্ন ও মন্ত্রীর জবাব
সংসদে রাজবাড়ী-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. হারুন-অর-রশিদ তার লিখিত প্রশ্নে বলেন, পদ্মা অববাহিকার বিশাল কৃষি অঞ্চলকে মুরুময়তা থেকে বাঁচাতে এবং শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করতে পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্প আমাদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রকল্প। পদ্মা সেতু সম্পন্ন হওয়ার পর এই ব্যারেজটির প্রয়োজনীয়তা এখন আরও বেশি অনুভূত হচ্ছে। তিনি প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি এবং অগ্রাধিকারমূলক সময়সীমা নির্ধারণ সম্পর্কে জানতে চান।
মন্ত্রীর জবাবে বলা হয়, প্রকল্পটি দ্রুত শেষ করে এর সুফল ২১ জেলার জনগণের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার জন্য সরকার অগ্রাধিকারমূলক পদক্ষেপ নিচ্ছে। প্রকল্পের ডিপিপি প্রণয়ন ও পরিকল্পনা কমিশনে প্রেরণ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে, যা বাস্তবায়নের দিকে একটি বড় পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ও গুরুত্ব
পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পটি শুধু পানির ব্যবস্থাপনার জন্যই নয়, কৃষি উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এটি দক্ষিণ-পশ্চিম ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের জনগণের জীবনমান উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে। সরকারের অগ্রাধিকারমূলক সময়সীমা নির্ধারণ এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনা প্রকল্পটির সফলতা নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে।
সর্বোপরি, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের অগ্রগতি এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনা দেশের উন্নয়ন ও জনকল্যাণে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে, যা সংসদে আলোচনার মাধ্যমে আরও স্বচ্ছতা পেয়েছে।



