টাঙ্গাইলে প্রধানমন্ত্রীর হাতে শুরু হলো কৃষক কার্ড বিতরণ
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মঙ্গলবার টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে কৃষক কার্ড বিতরণ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেছেন। বেলা সোয়া বারোটার দিকে এই অনুষ্ঠানে তিনি স্থানীয় ১৫ জন কৃষক-কৃষাণীর হাতে কৃষক কার্ড ও গাছের চারা তুলে দেন।
প্রথম ধাপে ২১ হাজার কৃষক পাবেন কার্ড
প্রথম পর্যায়ে সারা দেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় প্রায় ২১ হাজার ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকের মধ্যে এই কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন (টুকু)।
কৃষক কার্ড বিতরণ উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী শহরের শহীদ স্মৃতি পৌর উদ্যানে কৃষি মেলারও উদ্বোধন করেন। উল্লেখ্য, তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হওয়ার পর এটিই তাঁর টাঙ্গাইলে প্রথম সফর। তাই দলীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা গেছে।
কৃষক কার্ডের মাধ্যমে ১০ ধরনের বিশেষ সুবিধা
এই কৃষি কার্ডের মাধ্যমে কৃষক, মৎস্যচাষি ও দুগ্ধ খামারিরা নিম্নলিখিত সুবিধাগুলো পাবেন:
- নগদ প্রণোদনা সহায়তা
- ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ প্রাপ্তি
- সেচসুবিধা লাভ
- সহজ শর্তে ঋণ সুবিধা
- কৃষিবিমা সুরক্ষা
মোট ১০ ধরনের বিশেষ সুবিধা এই কার্ডধারী কৃষকরা ভোগ করতে পারবেন। পেশাজীবী হিসেবে কৃষকের স্বীকৃতি প্রদান, আয় বৃদ্ধি এবং ভর্তুকি বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
চার বছরে ১ কোটি ৬৫ লাখ কৃষকের লক্ষ্যমাত্রা
সরকার আগামী চার বছরে ১ কোটি ৬৫ লাখ কৃষকের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। এ কর্মসূচির প্রাক্কলিত ব্যয় ধরা হয়েছে ৬৮১ কোটি টাকা। কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ সোমবার শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে কৃষি কার্ড বিতরণের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানস্থল পরিদর্শনকালে সাংবাদিকদের জানান, কৃষক কার্ড বিতরণে টাঙ্গাইলসহ সারা দেশে ১১টি পয়েন্টে প্রি-পাইলটিং শুরু হবে।
মন্ত্রী আরও বলেন: "প্রথমে প্রি-পাইলটিং পর্যায় সম্পন্ন হবে, তারপর পাইলটিং কার্যক্রম চলবে। এর পরই বড় পরিসরে কার্ড বিতরণ শুরু করা হবে। আমরা আশা করছি, আগামী চার বছরের মধ্যে সারা বাংলাদেশে কৃষক কার্ড বিতরণ সম্পন্ন হবে।"
এই উদ্যোগটি কৃষি খাতের উন্নয়নে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা দেশের কৃষি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও কৃষকদের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন।



