বাংলা নববর্ষে কৃষকদের জন্য বিশেষ উপহার: 'কৃষক কার্ড' চালু
বাংলা নববর্ষ ১৪৩২ উপলক্ষে কৃষকদের জন্য একটি বিশেষ উপহার হিসেবে 'কৃষক কার্ড' চালু করতে যাচ্ছে সরকার। এই উদ্যোগের মাধ্যমে প্রান্তিক কৃষকদের আর্থিক ও কৃষি সহায়তা প্রদান করা হবে, যা কৃষি খাতে মৌলিক পরিবর্তন আনতে সহায়ক ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
টেকনাফে পাইলট প্রকল্পের সূচনা
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নে পাইলট প্রকল্প হিসেবে প্রথম ধাপে ১,৬৯৮ জন কৃষক-কৃষাণীকে 'কৃষক কার্ড' প্রদান করা হবে। পহেলা বৈশাখে টেকনাফের এজাহার উচ্চ বিদ্যালয়ে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ প্রান্তিক কৃষকদের হাতে এই কার্ড তুলে দেবেন বলে জানিয়েছেন কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক এম. এ. মান্নান। তিনি সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাতে কক্সবাজারে পৌঁছান এই অনুষ্ঠানের প্রস্তুতির জন্য।
কার্ডধারীদের সুবিধাসমূহ
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর, কক্সবাজার কার্যালয়ের উপ-পরিচালক বিমল কুমার প্রামাণিক জানান, প্রথম পর্যায়ে তিন শ্রেণির কৃষক এই সুবিধার আওতায় আসছেন। কার্ডধারীরা প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা করে ভাতা পাবেন। পাশাপাশি তারা নিম্নলিখিত ১০ ধরনের সুবিধা উপভোগ করবেন:
- ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ প্রাপ্তি
- সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা
- সেচ সুবিধা
- সহজ শর্তে কৃষিঋণ
- কৃষি বিমা
- ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রয়ের সুযোগ
- কৃষি প্রশিক্ষণ
- আবহাওয়ার তথ্য সরবরাহ
- রোগবালাই দমনে পরামর্শ
কৃষক শ্রেণিবিভাগ ও প্রকল্পের বিস্তার
টেকনাফের বাহারছড়ায় একটি ব্লকে এই প্রকল্প পাইলটিং করা হয়েছে। এখানে প্রথম তালিকায় ১,৪৬৩ জন পুরুষ ও ২৩৫ জন নারী অন্তর্ভুক্ত হয়েছেন। তাদের মধ্যে:
- শস্য খাতে ১,৬৪১ জন
- মৎস্য খাতে ২ জন
- খামারি ১০ জন
- লবণ চাষি ২ জন
- ভূমিহীন ১২৪ জন
ক্ষুদ্র, প্রান্তিক, ভূমিহীন, মাঝারি ও সচ্ছল—এই পাঁচ শ্রেণিতে কৃষকদের অন্তর্ভুক্ত করার কাজ চলমান রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানান, 'কৃষক কার্ড' চালুর মাধ্যমে কৃষি ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, কৃষকের আয় বৃদ্ধি, খাদ্য উৎপাদন বাড়ানো, কৃষিতে বৈচিত্র্য আনা, উৎপাদন খরচ কমানো এবং বিপণন ব্যবস্থা উন্নত করার পাশাপাশি ভর্তুকি বিতরণে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা হবে।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট ও পূর্ববর্তী উদ্যোগ
সূত্র জানায়, বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম অঙ্গীকার ছিল 'কৃষক কার্ড'। কৃষি খাতে মৌলিক পরিবর্তন আনতে এই কর্মসূচি চালুর প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে সরকার ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি মন্ত্রিসভার বৈঠকে শস্য, ফসল, পশুপালন ও মৎস্য খাতে মোট ১ হাজার ৫৫০ কোটি টাকার ঋণ মওকুফ করা হয়, যার মাধ্যমে প্রায় ১২ লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছেন।
প্রকল্পের ব্যয় ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, দেশে মোট কৃষক পরিবারের সংখ্যা প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ। প্রাথমিকভাবে 'কৃষক কার্ড' প্রকল্পের ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ বছরে ৬৮১ কোটি টাকা, যা চূড়ান্ত অনুমোদনের পর পরিবর্তিত হতে পারে। জেলা প্রশাসক এম. এ. মান্নান জানান, পহেলা বৈশাখে এই কর্মসূচির উদ্বোধনে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। প্রথম ধাপে টেকনাফের ১,৬৯৮ জন কৃষকের হাতে কার্ড তুলে দেওয়া হবে এবং পর্যায়ক্রমে জেলার সব কৃষককে এই কর্মসূচির আওতায় আনা হবে।



