বগুড়ার শিবগঞ্জে কৃষক কার্ড বিতরণ: প্রধানমন্ত্রী উদ্বোধন করবেন
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় প্রাক্-পাইলটিং পর্যায়ে ৩ হাজার ১৪৭ জন কৃষক কৃষক কার্ড পাচ্ছেন। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ইতিমধ্যে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ৩ হাজার ৫১৬ জন কৃষকের তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই-বাছাইয়ের কাজ সম্পন্ন করেছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ১৪৭ জন কৃষক ব্যাংক হিসাব খুলেছেন এবং প্রথম পর্যায়ে তাঁদের হাতেই কৃষক কার্ড পৌঁছানো হবে।
প্রধানমন্ত্রীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান
আগামীকাল মঙ্গলবার পয়লা বৈশাখে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন। বেলা ১১টায় বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের উথলি উচ্চবিদ্যালয় মাঠে প্রধানমন্ত্রীর এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। অনুষ্ঠানে ৩ হাজার ১৪৭ জন কৃষককে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর ১৫ জন কৃষক ও কিষানির হাতে প্রতীকী কৃষক কার্ড তুলে দেওয়া হবে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত অতিথিবৃন্দ
বগুড়ায় কৃষক কার্ড উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক (মিলন)। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী। এছাড়াও বগুড়ার জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান ও পুলিশ সুপার সায়েম মাহমুদ বক্তব্য রাখবেন।
কৃষক কার্ডের সুবিধা ও পর্যায়
বগুড়া কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক সোহেল মো. শামসুদ্দীন নিশ্চিত করেছেন যে, সরকার প্রাক্-পাইলটিং, পাইলটিং ও দেশব্যাপী কার্যক্রম—এই তিন ধাপে পর্যায়ক্রমে সব কৃষককে কৃষক কার্ড দেবে। কার্ডটি পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করে দেওয়া হবে এবং এর মাধ্যমে কৃষকেরা ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন:
- ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ
- সহজ শর্তে কৃষিঋণ
- স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি
- সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা
- মুঠোফোনে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজারের তথ্য
প্রাক্-পাইলটিং পর্যায়ে ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি ব্লকে ফসল উৎপাদনকারী কৃষক, মৎস্যচাষি, প্রাণিসম্পদ খামারি, দুগ্ধ উৎপাদনকারী খামারি, ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় শ্রেণির কৃষকরা কৃষক কার্ড পাবেন। তবে বার্ষিক ২ হাজার ৫০০ টাকা করে প্রণোদনা সুবিধা শুধু ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকরা পাবেন।
আর্থিক সহায়তা ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার উথলি ব্লকে নির্বাচিত ৩ হাজার ১৪৭ জন কৃষকের মধ্যে ১ হাজার ১৪১ জনই ভূমিহীন, ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষক। তাঁদের প্রত্যেকের ব্যাংক হিসাবে ইতিমধ্যে এক বছরের প্রণোদনা বাবদ ২ হাজার ৫০০ টাকা পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানিয়েছেন, প্রাক্-পাইলটিং শেষে আগামী আগস্ট থেকে ১৫টি উপজেলায় পাইলট কার্যক্রম শুরু হবে এবং এরপর পর্যায়ক্রমে সারা দেশে কৃষক কার্ড বিতরণ সম্পন্ন হবে। প্রাক্-পাইলটিং কর্মসূচিতে সরকারের ব্যয় হবে ৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা।
কৃষক কার্ড একটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড হিসেবে কাজ করবে, যার মাধ্যমে কৃষকেরা সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় শাখায় খোলা হিসাব ব্যবহার করে পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিনের মাধ্যমে সার, বীজ, মৎস্য বা প্রাণিখাদ্যসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ কিনতে পারবেন। ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, যার মধ্যে ২০ হাজার ৬৭১ জন ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের কার্ডের মাধ্যমে বছরে আড়াই হাজার টাকা দেওয়া হচ্ছে।



