চাঁদপুরে ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জেলেদের মহোৎসব চলছে
চাঁদপুরে ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জেলেদের মহোৎসব

চাঁদপুরে ইলিশ ধরার নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে জেলেদের মহোৎসব চলছে

চাঁদপুরের পদ্মা ও মেঘনা নদীতে ইলিশের পোনা জাটকা রক্ষার জন্য মার্চ থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত সব প্রকার মাছ ধরা নিষিদ্ধ করা হলেও এ বছর জেলেরা এই নিষেধাজ্ঞা মানছেন না। বিশেষ করে পয়লা বৈশাখের প্রাক্কালে চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীতে ইলিশ ধরার এক মহোৎসবের সূচনা হয়েছে, যা স্থানীয় পরিবেশ ও আইনকে চ্যালেঞ্জ করছে।

নদীতে জেলেদের প্রকাশ্য কার্যক্রম

সোমবার সকাল ছয়টা থেকে আটটা পর্যন্ত সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, মেঘনা নদীর চাঁদপুর লঞ্চঘাট থেকে শুরু করে মতলব উত্তরের এখলাসপুর পর্যন্ত এলাকায় দ্রুতগামী ইঞ্জিনচালিত নৌকা নিয়ে জেলেদের মাছ ধরার এই মহোৎসব অব্যাহত রয়েছে। জেলেরা প্রকাশ্যে নদীতে নেমে মাছ ধরছেন এবং নদীর পাড়েই এসব মাছ বিক্রি করছেন, যা নিষেধাজ্ঞার সরাসরি লঙ্ঘন।

বিশেষ করে সন্ধ্যা থেকে শুরু করে সকাল পর্যন্ত ইলিশ ধরার জন্য নদীতে নামছেন জেলেরা। স্থানীয় সূত্রে অভিযোগ উঠেছে, এখানে বসবাসরত জেলেরাই বেশি নদী থেকে মাছ ধরে পাড়ে বিক্রি করছেন, যা সরেজমিন পরিদর্শনেও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। স্থানীয় লোকজনের দাবি, জেলেদের এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে যদি জ্বালানি তেলের সরবরাহ বন্ধ করা হয়, তাহলে তাঁরা নদীতে নামতে পারবেন না, কারণ ইঞ্জিনচালিত নৌকা চালানোর জন্য জ্বালানি অপরিহার্য।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

মৎস্য কর্মকর্তার বক্তব্য

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ ফখরুল ইসলাম এই পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমরা অভিযান অব্যাহত রেখেছি। নদীতে নৌপুলিশ ও কোস্টগার্ড অভিযান করছে। জ্বালানি সংকটে আমাদের অভিযান কিছুটা ব্যাহত হচ্ছে এমন অভিযোগ ঠিক নয়।’ তাঁর বক্তব্য থেকে বোঝা যায়, কর্তৃপক্ষ এই নিষেধাজ্ঞা লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করছেন, যদিও জেলেদের কার্যক্রম এখনও চলমান রয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

এই ঘটনা চাঁদপুরের পদ্মা-মেঘনা নদীর ইলিশ সংরক্ষণ প্রচেষ্টাকে হুমকির মুখে ফেলেছে। নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও জেলেদের মহোৎসব চলার ফলে ইলিশের পোনা জাটকা রক্ষা কঠিন হয়ে পড়ছে, যা দীর্ঘমেয়াদে মৎস্য সম্পদের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। স্থানীয় কর্তৃপক্ষের কঠোর নজরদারি ও আইন প্রয়োগের মাধ্যমে এই সমস্যা সমাধানের আহ্বান জানানো হচ্ছে।