পহেলা বৈশাখে শুরু হচ্ছে কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচি
কৃষি মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিনুর রশিদ রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, আগামী পহেলা বৈশাখ থেকে কৃষক কার্ড বিতরণ কর্মসূচি শুরু হবে। প্রাথমিকভাবে ২২,০৬৫ জন কৃষককে এই কার্ড প্রদানের জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।
টাঙ্গাইলে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন
মন্ত্রী সচিবালয়ের তথ্য বিভাগের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বলেন, টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে আনুষ্ঠানিকভাবে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করা হবে।
প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ে ১০ জেলায় কার্যক্রম
তিনি উল্লেখ করেন, দেশের ৮টি বিভাগের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি ব্লকে প্রাক-পাইলটিং ভিত্তিতে এই কার্যক্রম শুরু হবে। বেশিরভাগ নির্বাচিত ব্লকে পহেলা বৈশাখ থেকেই কার্ড বিতরণ শুরু হবে। তবে কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার অরণ্যপুর ব্লকে ২০২৬ সালের ১৭ এপ্রিল থেকে কার্যক্রম শুরু হবে।
কৃষকদের শ্রেণিবিভাগ
মন্ত্রী জানান, ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ২২,০৬৫ জন কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। তাদের মধ্যে:
- ২,২৪৬ জন ভূমিহীন কৃষক
- ৯,৪৫৮ জন প্রান্তিক কৃষক
- ৮,৯৬৭ জন ক্ষুদ্র কৃষক
- ১,৩০৩ জন মাঝারি কৃষক
- ৯১ জন বড় কৃষক
নির্বাচিত সুবিধাভোগীদের প্রায় ৯৩.৭ শতাংশই ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষক।
কার্ডের মাধ্যমে সুবিধা
প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ে প্রতিটি কৃষক কার্ডের মাধ্যমে বার্ষিক ২,৫০০ টাকা নগদ সহায়তা পাবেন। এই কার্ডটি একটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড হিসেবে কাজ করবে এবং সোনালী ব্যাংকের মাধ্যমে কৃষকদের নামে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে।
কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা:
- সার, বীজ, মাছের খাদ্য ও পশুখাদ্য ক্রয় করতে পারবেন
- কৃষি ঋণ ও ভর্তুকি পাবেন
- আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজার দর জানতে পারবেন
- প্রশিক্ষণ, পোকামাকড় নিয়ন্ত্রণ পরামর্শ ও কৃষি বীমা সেবা পাবেন
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
মন্ত্রী বলেন, প্রাক-পাইলটিং পর্যায় সফল হলে আগস্ট ২০২৬ সালের মধ্যে ১৫টি উপজেলায় পাইলট কর্মসূচি শুরু হবে। পরবর্তী চার বছরের মধ্যে দেশব্যাপী কার্ড বিতরণ সম্প্রসারণ এবং একটি সমন্বিত কৃষক ডাটাবেস গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।
কর্মসূচির শুরুতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া ও শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে শ্রদ্ধা জানানো হয়।



