তিন ধাপে কৃষক কার্ড বিতরণ শুরু, পাবেন ১০ ধরনের সুবিধা
তিন ধাপে কৃষক কার্ড বিতরণ, ১০ সুবিধা

তিন ধাপে কৃষক কার্ড বিতরণ: পাবেন ১০ ধরনের সুবিধা

সরকার তিন ধাপে পর্যায়ক্রমে সারা দেশের সব কৃষককে 'কৃষি কার্ড' প্রদানের উদ্যোগ নিয়েছে। আজ রোববার সচিবালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। পাঁচটি শ্রেণিতে ভাগ করে দেওয়া হবে এই কার্ড, যা কৃষকদের ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ, সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণসহ মোট ১০ ধরনের সুবিধা প্রদান করবে।

প্রাক পাইলটিং শুরু পয়লা বৈশাখে

পয়লা বৈশাখ, অর্থাৎ আগামী মঙ্গলবার নতুন বাংলা বছরের প্রথম দিনে প্রাক পাইলটিং পর্যায়ের 'কৃষক কার্ড' বিতরণ উদ্বোধন করা হবে। টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে এই কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সংবাদ সম্মেলনে কৃষিমন্ত্রী জানান, কৃষক কার্ড বিতরণ তিন ধাপে বাস্তবায়িত হবে: প্রাক পাইলটিং (পরীক্ষামূলক), পাইলটিং এবং দেশব্যাপী কার্যক্রম।

প্রাক পাইলটিং পর্যায়ে ১০টি জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি ব্লকে ফসল উৎপাদনকারী কৃষক, মৎস্যচাষি, প্রাণিসম্পদ খামারি, দগ্ধ খামারি, ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় শ্রেণির কৃষক এবং লবণচাষীদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই পর্যায়ে ব্যয় হবে প্রায় আট কোটি ৩৪ লাখ টাকা। প্রাক পাইলটিং শেষে আগস্ট পর্যন্ত ১৫টি উপজেলায় পাইলট কার্যক্রম শুরু হবে এবং অভিজ্ঞতার আলোকে আগামী চার বছরে সারা দেশে কার্ড বিতরণ ও তথ্য ভাণ্ডার তৈরির কাজ সম্পন্ন করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কার্ডের ধরন ও সুবিধাসমূহ

প্রাক পাইলটিং পর্যায়ে কৃষকদের দেওয়া 'কৃষক কার্ড' একটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড হিসেবে কাজ করবে। সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় শাখায় সংশ্লিষ্ট কৃষকদের নামে কার্ডের বিপরীতে ব্যাংক হিসাব খোলা হয়েছে। ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে, যার মধ্যে ভূমিহীন কৃষক ২ হাজার ২৪৬ জন, প্রান্তিক কৃষক ৯ হাজার ৪৫৮ জন, ক্ষুদ্র কৃষক ৮ হাজার ৯৬৭ জন, মাঝারি কৃষক ১ হাজার ৩০৩ জন এবং বড় কৃষক ৯১ জন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের কার্ডের মাধ্যমে বছরে আড়াই হাজার টাকা নগদও দেওয়া হবে, যা ২০ হাজার ৬৭১ জন কৃষকের জন্য প্রযোজ্য। কৃষিমন্ত্রী জানান, কার্ডধারী কৃষকেরা ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন:

  1. ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ
  2. ন্যায্যমূল্যে সেচ সুবিধা
  3. সহজ শর্তে কৃষিঋণ
  4. স্বল্পমূল্যে কৃষি যন্ত্রপাতি প্রাপ্তি
  5. সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা
  6. মোবাইল ফোনে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজার তথ্য
  7. কৃষি বিষয়ক প্রশিক্ষণ
  8. ফসলের রোগ-বালাই দমনের পরামর্শ
  9. কৃষি বিমা সুবিধা
  10. ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রয়ের সুবিধা

কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা সংশ্লিষ্ট ডিলারের কাছে সরবরাহ করা পয়েন্ট অব সেল (পিওএস) মেশিন ব্যবহার করে সার, বীজ, মৎস্য বা প্রাণিখাদ্যসহ বিভিন্ন কৃষি উপকরণ কিনতে পারবেন। এই উদ্যোগ কৃষি খাতের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।