সিলেটে চালু হলো সরকারি কৃষক বাজার, সরাসরি কৃষকের কাছ থেকে পণ্য পাবেন ক্রেতারা
সিলেটে চালু হলো সরকারি কৃষক বাজার, কৃষক-ক্রেতার সরাসরি সংযোগ

সিলেটে চালু হলো প্রথম সরকারি কৃষক বাজার

মধ্যস্বত্বভোগীদের প্রভাব কমানো, কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা এবং ক্রেতাদের নিরাপদ ও সাশ্রয়ী মূল্যে খাদ্য সরবরাহের লক্ষ্যে সিলেটে চালু হয়েছে প্রথম সরকারি কৃষক বাজার। শনিবার সকালে শহরের তিলাগড় পয়েন্টের কাছে বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির আনুষ্ঠানিকভাবে এই বাজারের উদ্বোধন করেন।

কৃষক-ক্রেতার সরাসরি সংযোগের উদ্যোগ

সিলেট জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে চালু হওয়া এই বাজারের স্লোগান হলো “কৃষকের কাছ থেকে সরাসরি নিরাপদ ও তাজা পণ্য”। এখানে প্রান্তিক কৃষকরা মধ্যস্বত্বভোগী ছাড়াই সরাসরি ক্রেতাদের কাছে তাদের উৎপাদিত পণ্য বিক্রি করতে পারবেন।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, “বাজার ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা ও ভারসাম্য আনতে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিচ্ছে। কৃষিপণ্য ক্রেতার কাছে পৌঁছানোর আগে চার-পাঁচবার হাত বদল হয়, যার ফলে অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধি ঘটে। ‘কৃষক বাজার’ এই স্তরগুলো কমিয়ে কৃষক ও ক্রেতা উভয়ের জন্য জয়-জয় পরিস্থিতি তৈরি করবে।”

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সপ্তাহে নির্দিষ্ট দিনে বাজার বসবে

মন্ত্রী আরও জানান, জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সপ্তাহের নির্দিষ্ট দিনে নির্ধারিত স্থানে এই বাজার বসবে। কড়া নজরদারির মাধ্যমে চাঁদাবাজি বা অপ্রত্যাশিত খরচ রোধ করা হবে। তিনি সরকারের পরিকল্পনার কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমদানি থেকে খুচরা পর্যন্ত সরবরাহ শৃঙ্খল আধুনিকীকরণের জন্য একটি সমন্বিত ডিজিটাল সিস্টেম চালু করা হবে। এটি বাজার নজরদারি সহজ করবে এবং কোনো অনিয়ম দ্রুত শনাক্ত করতে সাহায্য করবে।”

অত্যাবশ্যকীয় পণ্যের বাজারে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে ট্রেডিং কর্পোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্যক্রম শক্তিশালী করা হবে বলে মন্ত্রী উল্লেখ করেন। এছাড়া কার্যকর ভারসাম্য তৈরি করতে আমদানি বাড়ানো হবে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সফল হলে বাজার ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলম। এছাড়া বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজাউন নবী, স্থানীয় বিএনপি নেতা ও উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, নির্ধারিত স্থানে প্রতিদিন সকালে এই বাজার চলবে। উদ্যোগটি সফল হলে কৃষকদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত হবে এবং ক্রেতারা তাজা, নিরাপদ ও যুক্তিসঙ্গত মূল্যের পণ্য পাবেন। এতে সামগ্রিক বাজার ব্যবস্থায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।