যশোরে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ
যশোর সদর উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে শনিবার বিকেলে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে বীজ ও সার বিতরণ করা হয়েছে। এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম। তিনি তাঁর বক্তব্যে কৃষকদের জন্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রীর গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা
অনিন্দ্য ইসলাম তাঁর বক্তব্যে বলেন, 'প্রয়োজনে শহরের গ্রাহকেরা বিদ্যুৎহীন থাকবে, কিন্তু গ্রামে কৃষকের ফসলের মাঠে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে, যাতে কোনোভাবেই তাদের সেচের ক্ষতি না হয়।' তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, কৃষকদের প্রতি বর্তমান সরকারের অঙ্গীকার ও জবাবদিহি অক্ষরে অক্ষরে পালনের জন্য তারা সচেষ্ট রয়েছেন।
বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী জানান, ১৪ এপ্রিল পরীক্ষামূলকভাবে ১০টি জেলায় কৃষক কার্ডের কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হতে যাচ্ছে। তিনি বলেন, 'দেশের কৃষকদের প্রতি, জনগণের প্রতি বিএনপির যে অঙ্গীকার রয়েছে, একে একে বাস্তবায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে।'
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে প্রতিমন্ত্রীর ব্যাখ্যা
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে অনিন্দ্য ইসলাম বলেন, 'মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে সারা পৃথিবীতে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। তারপরও শুধু কৃষকদের কথা বিবেচনা করে আমাদের সরকার জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করেনি।' এই মন্তব্যের মাধ্যমে তিনি সরকারের কৃষক-বান্ধব নীতির প্রতি ইঙ্গিত দেন।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উদ্যোগ
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. মোশাররফ হোসেন জানান, জেলায় ৩ হাজার ৪০০ জন ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষককে বিনামূল্যে এক কেজি করে পাটের বীজ, পাঁচ কেজি এমওপি ও পাঁচ কেজি ডিওপি সার দেওয়া হয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে কৃষকদের উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি ও আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্য রয়েছে।
অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ
যশোর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. শাহরিয়ার হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন যশোর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) খান মাসুম বিল্লাহ, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাজিয়া সুলতানা, যশোর প্রেসক্লাবের সভাপতি জাহিদ হাসান প্রমুখ। তাদের উপস্থিতি অনুষ্ঠানের গুরুত্বকে আরও বৃদ্ধি করেছে।
এই অনুষ্ঠানটি যশোর অঞ্চলের কৃষি উন্নয়নে একটি উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, যা স্থানীয় কৃষকদের জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে আশা করা যাচ্ছে। সরকারের এই ধরনের উদ্যোগ কৃষি খাতের টেকসই উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।



