কেআইবিতে বিএনপিপন্থি কৃষিবিদদের সংঘর্ষে মুলতবি সভা পণ্ড
বাংলাদেশ কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটের (কেআইবি) একটি জরুরি মুলতবি সভা বিএনপিপন্থি কৃষিবিদদের সংগঠন এগ্রিকালচারিস্ট অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (এ্যাব) দু’পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের কারণে সম্পূর্ণ পণ্ড হয়ে গেছে। শনিবার বেলা ১১টার দিকে কেআইবির হলরুম-১-এ সংঘটিত এ ঘটনায় একজন কৃষিবিদ আহত হয়েছেন এবং চরম হট্টগোল ও উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।
সভাপতিত্ব নিয়ে মতবিরোধের জের
জানা গেছে, সভার শুরুতেই সভাপতিত্ব করা নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে তীব্র মতবিরোধ দেখা দেয়। এ্যাবের সদস্য সচিব শাহাদত হোসেন বিপ্লব কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের সাবেক মহাপরিচালক ইব্রাহিম খলিলের নাম প্রস্তাব করেন। অন্যদিকে, যুগ্ম আহ্বায়ক ড. শফিকুল ইসলাম শফিক বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনের সদস্য অধ্যাপক ড. এ.এস.এম. গোলাম হাফিজ কেনেডির নাম প্রস্তাব করেন। এ নিয়ে বাগবিতণ্ডা দ্রুত হাতাহাতি ও মারধরে রূপ নেয়, যা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়।
নির্বাচন না হওয়ার ইতিহাস ও নিয়ন্ত্রণ দ্বন্দ্ব
কেআইবির কয়েকজন নেতার বরাত দিয়ে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানটিতে ২০০৯ সালের পর থেকে কোনো নির্বাচন হয়নি। এই দীর্ঘ সময়ে আওয়ামী লীগপন্থি বঙ্গবন্ধু কৃষিবিদ পরিষদের নিয়ন্ত্রণে ছিল কেআইবি। বিভিন্ন সময়ে নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হলেও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের কারণে বারবার তা স্থগিত হয়েছে। সর্বশেষ ২০১৬ সালে আয়োজনের চেষ্টাও ব্যর্থ হয়।
৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর কেআইবির নিয়ন্ত্রণ নেয় বিএনপিপন্থি কৃষিবিদদের সংগঠন এ্যাব। তবে, সংগঠনটির নেতারা নিজেদের মধ্যেই নেতৃত্বের দ্বন্দ্ব প্রকট আকার ধারণ করে। গত বছরের ১৭ জানুয়ারি একাধিকবার সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে দু’পক্ষ। তখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গত ২০ জানুয়ারি লে. কর্নেল (অব.) মো. আব্দুর রব খানকে কেআইবির প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
নির্বাচন কমিশন গঠন ও বিক্ষোভ
পরে ২৯ সেপ্টেম্বর সাত সদস্যের একটি নির্বাচন কমিশন গঠন করা হয়। তবে, এই কমিশন গঠনের পর থেকেই এ্যাবের একটি অংশ জাতীয় নির্বাচনের আগে কেআইবির নির্বাচন না করার দাবি জানিয়ে আসছিলেন। এরই প্রেক্ষিতে ২০ অক্টোবর কেআইবি কমপ্লেক্সের সামনে বিক্ষোভ ও সমাবেশ করে সংগঠনটি। এরপর ২৭ অক্টোবর এ্যাবের একদল নেতাকর্মী কেআইবি ভবনে হামলা ও ভাঙচুর চালায়।
নেতাদের বক্তব্য ও অভিযোগ
এ্যাবের যুগ্ম আহ্বায়ক ড. শফিকুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “সিনিয়র কারও সঙ্গে আলোচনা না করেই পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে মুলতবি সভার আয়োজন করেন সদস্য সচিব। তারপরও আমরা অংশ নিই। সব সিদ্ধান্ত এককভাবে নেওয়ার কারণেই এ ধরনের পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। তবে, এ নিয়ে বর্তমানে আমাদের মধ্যে তেমন কোনো বিরোধ নেই। আশা করি, আমাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
অন্যদিকে, এ্যাবের সদস্য সচিব শাহাদাৎ হোসেন বিপ্লব বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, “কেআইবির প্রশাসক দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই বিভিন্ন অনিয়মে জড়িয়ে পড়েন। তার পছন্দের সাত কর্মকর্তাকে নিয়োগ দিয়ে প্রতি মাসে বেতন বাবদ ১০ থেকে ১২ লাখ টাকা তুলে নিচ্ছেন। অথচ, আমাদের সাধারণ কৃষিবিদদের চাঁদার টাকা থেকেই এর ব্যয়ভার বহন করতে হয়। মূলত এসব বিষয়ে মুলতবি সভা আহ্বান করা হয়। এতে একটি পক্ষ হট্টগোলের সৃষ্টি করে।”
পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে সভা স্থগিত ঘোষণা করা হয় এবং কেআইবির কার্যক্রমে এই সংঘর্ষের প্রভাব কতটা গভীর হবে, তা এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।



