চট্টগ্রামের ডিএপি সার কারখানা বন্ধের পথে, অ্যামোনিয়া সরবরাহ সংকট তীব্র
চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় অবস্থিত ডিএপি ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (ডিএপিএফসিএল) বন্ধ হতে পারে আগামী ১০ দিনের মধ্যে। পার্শ্ববর্তী দুটি সার কারখানা থেকে অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। গ্যাস সংকটের কারণে চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড (সিইউএফএল) ও কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড (কাফকো) বন্ধ থাকায় ডিএপিএফসিএলের উৎপাদন হুমকির মুখে পড়েছে।
অ্যামোনিয়া সরবরাহ বন্ধ, উৎপাদন বন্ধের ঝুঁকি
ডিএপিএফসিএল সূত্র জানায়, প্রতিষ্ঠানটি ২০০৬ সাল থেকে সফলভাবে ডিএপি সারের বাণিজ্যিক উৎপাদন চালিয়ে আসছে। বর্তমানে দৈনিক ৬০০ থেকে ৭০০ টন ইউরিয়া উৎপাদন হচ্ছে। তবে প্রতিষ্ঠার পর থেকেই কারখানাটি সিইউএফএল ও কাফকো থেকে পাওয়া অ্যামোনিয়ার ওপর নির্ভরশীল। সাম্প্রতিক সময়ে এই দুই কারখানা বন্ধ থাকায় অ্যামোনিয়া সরবরাহ সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে গেছে। মজুদকৃত অ্যামোনিয়াও দ্রুত শেষ হয়ে আসছে।
ডিএপিএফসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ মঈনুল হক বলেন, "আমাদের কারখানায় অন্যান্য সার কারখানার মতো বেশি গ্যাসের প্রয়োজন হয় না। আবাসিক এলাকার মতো স্বল্প গ্যাসেই কারখানা চালু রাখা যায়। তবে ইউরিয়া উৎপাদনের জন্য সিইউএফএল ও কাফকো থেকে অ্যামোনিয়া না পেলে আগামী সপ্তাহ থেকেই উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাবে।"
জ্বালানি সংকটে ইস্টার্ন রিফাইনারির অবস্থা
এদিকে, মজুত ফুরিয়ে আসায় এসপিএম কমিশনিংয়ের সময়ে পাইপলাইনে জমে থাকা ৫ হাজার টন ক্রুড অয়েল (অপরিশোধিত জ্বালানি তেল) ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডে (ইআরএল) আনা হচ্ছে। এই ক্রুড অয়েল দিয়ে উৎপাদন আরও অন্তত দুই দিন চালিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
ইস্টার্ন রিফাইনারি সাধারণত দৈনিক গড়ে ৪ হাজার ৫০০ টন অপরিশোধিত তেল পরিশোধন করার সক্ষমতা রয়েছে। তবে বর্তমান সংকট বিবেচনায় পরিশোধন কমিয়ে দৈনিক ৩ হাজার ৫০০ টন করা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির কাছে ব্যবহারযোগ্য তেলের মজুত ২ হাজার টনের নিচে নেমে এসেছে, যা দিয়ে আগামী ১০ এপ্রিল পর্যন্ত উৎপাদন চালু রাখা সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতামত
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসপিএম প্রকল্প কমিশনিংয়ের সময় পাইপলাইনে কিছু পরিমাণ তেল থেকে যাওয়া স্বাভাবিক বিষয়। যা পরবর্তীতে ক্রুড প্রবাহের সময় ইস্টার্ন রিফাইনারিতে পৌঁছাত; কিন্তু পরিচালনা সংক্রান্ত জটিলতায় বর্তমানে এসপিএম বন্ধ রয়েছে। ফলে গত বেশ কয়েক মাস ধরে ক্রুডগুলো পাইপের ভিতরে পড়ে রয়েছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে পাইপে পড়ে থাকা তেলও মজুত তেলে পরিণত হয়েছে।
এই ৫ হাজার টন ক্রুড অয়েল পরিশোধনের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ডিজেল, পেট্রল এবং জেট ফুয়েলসহ অন্যান্য জ্বালানি উৎপাদন সম্ভব হবে; যা বর্তমান সংকটে কিছুটা হলেও কাজে লাগবে।
কারখানার ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থা
ডিএপিএফসিএল সূত্র অনুযায়ী, আনোয়ারা উপজেলার রাঙ্গাদিয়ায় দৈনিক ৮০০ টন ডিএপি সার উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন দুটি পৃথক ইউনিট (ডিএপি-১ ও ডিএপি-২) নির্মাণ করা হয়। নির্মাণকাজ শেষে এ কারখানা ২০০৬ সাল থেকে সফলভাবে ডিএপি সারের বাণিজ্যিক উৎপাদন শুরু করে। বর্তমানে কারখানাটিতে দৈনিক ৬০০ থেকে ৭০০ টন ইউরিয়া উৎপাদন হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা সতর্ক করে দিয়েছেন, আগামী সপ্তাহের মধ্যে নতুন করে অ্যামোনিয়া সরবরাহ শুরু না হলে ডিএপিএফসিএলের উৎপাদন পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাবে। এই পরিস্থিতি সার উৎপাদন শিল্পে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।



