রাজশাহীতে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি, চাষিদের দুশ্চিন্তা
রাজশাহীতে শিলাবৃষ্টিতে ফসল ক্ষতি, চাষি উদ্বিগ্ন

রাজশাহীতে কালবৈশাখী ঝড় ও শিলাবৃষ্টিতে ফসলের ব্যাপক ক্ষতি

রাজশাহী জেলায় বছরের প্রথম কালবৈশাখী ঝড়ের সঙ্গে আকস্মিক শিলাবৃষ্টি হয়েছে, যা স্থানীয় কৃষি খাতে ব্যাপক বিপর্যয় সৃষ্টি করেছে। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে দুর্গাপুর ও বাগমারা উপজেলার কিছু এলাকায় এই দুর্যোগ আঘাত হানে, প্রায় ২০ মিনিট স্থায়ী হওয়ায় ফসলের মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা ইঙ্গিত দিচ্ছেন যে, এই ঘটনা কৃষকদের জন্য একটি বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

ফসলের উপর প্রভাব ও ক্ষয়ক্ষতি

মাঠ পর্যায়ে সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা গেছে, গম কাটার আগমুহূর্তে পাকা ও আধাপাকা গম মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে, যা কৃষকদের জন্য একটি বড় ধাক্কা। শিলার তীব্র আঘাতে গমের শীষ ঝরে পড়ার পাশাপাশি, পেঁয়াজের বীজ কদমের শীষ ভেঙে জমিতে নুয়ে পড়েছে। এছাড়াও, ভুট্টা, মরিচ, এবং বিভিন্ন সবজি ক্ষেত ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা স্থানীয় খাদ্য উৎপাদনকে হুমকির মুখে ফেলেছে।

আমের মৌসুমের শুরুতেই এই দুর্যোগে গাছে আসা ছোট গুটি আম ঝরে পড়ায় বাগান মালিকরা উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন। সিংদা এলাকার পেঁয়াজ চাষি জলিল জানান, 'এক বিঘা জমিতে পেঁয়াজ চাষ করেছিলাম, এখনও ১০ কাঠা জমির পেঁয়াজ তোলা বাকি আছে। বৃষ্টির সময় শ্রমিক মাঠে কাজ করছিল, পানিতে পেঁয়াজ ভিজে গেছে, যা আমাদের জন্য বাড়তি সমস্যা তৈরি করেছে।'

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চাষিদের প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ

পেঁয়াজের বীজ কদম চাষি মো. আলম বলেন, 'শিলাবৃষ্টিতে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে, সার, সেচ ও শ্রমিকসহ সব খরচই বেড়েছে। এর মধ্যে এই ক্ষতি আমাদের পথে বসিয়ে দিতে পারে, আমরা এখন কী করব তা নিয়ে চিন্তিত।' আম চাষি আমিনুল হক যোগ করেন, 'মৌসুমের শুরুতেই ঝড় ও শিলাবৃষ্টি হয়েছে, এতে গাছের অনেক গুটি আম ঝরে পড়েছে, যা আমাদের আর্থিক অবস্থাকে দুর্বল করে দিয়েছে।'

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

দুর্গাপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সাহানা পারভীন লাবনী বলেন, 'শিলাবৃষ্টি হয়েছে, দুর্গাপুরের মাঠে গম ও পেঁয়াজের ক্ষতি হয়েছে। কিছু কিছু জমিতে ফসল টিকে আছে, কিন্তু ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ বুধবার জানা যাবে, আমরা এখনও মূল্যায়ন করছি।' এই ঘটনা স্থানীয় কৃষি সম্প্রদায়ের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কবার্তা হিসেবে কাজ করছে।

ভবিষ্যত সম্ভাবনা ও পদক্ষেপ

এই দুর্যোগের পর, কৃষকরা তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিতে কী পদক্ষেপ নেবেন তা নিয়ে আলোচনা চলছে। বিশেষজ্ঞরা সুপারিশ করছেন যে, সরকারি সহায়তা ও বীমা ব্যবস্থা জোরদার করা প্রয়োজন, যাতে ভবিষ্যতে এমন ঘটনায় কৃষকদের রক্ষা করা যায়। রাজশাহী অঞ্চলে কৃষি খাতের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।