মানিকগঞ্জে শসাখেত পরিদর্শন: কৃষি বিভাগের তৎপরতা, নিম্নমানের বীজে কৃষকের ক্ষতি
মানিকগঞ্জের সিংগাইরে বারোমাসি শসা চাষে লোকসান ও কৃষকদের হতাশা নিয়ে সংবাদ প্রকাশের পর টনক নড়েছে কৃষি বিভাগের। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের খেত পরিদর্শন করেছেন সংশ্লিষ্ট বিভাগের কর্মকর্তারা। সোমবার (৬ এপ্রিল) বেলা ১১টায় উপজেলার সায়েস্তা ও জয়মন্টপ ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় সরেজমিনে শসাখেত পরিদর্শন করেন জেলা বীজ প্রত্যয়ন অফিসার একেএম হাসিবুল হাসান, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুল বাশার চৌধুরী, উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা অসীম কুমার তালুকদার ও মো. নুরুজ্জামান।
সংবাদ প্রকাশের পরিপ্রেক্ষিতে তৎপরতা
৩ এপ্রিল দৈনিক যুগান্তর অনলাইনে ‘সিংগাইরে বারোমাসি শসা চাষে লোকসানের মুখে কৃষক’ শিরোনামে প্রকাশিত সংবাদে নিম্নমানের বীজ, কম ফলন এবং চাষিদের আর্থিক ক্ষতির বিষয়টি তুলে ধরা হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে কৃষি বিভাগের এ তৎপরতা লক্ষ্য করা যায়। পরিদর্শনকালে কর্মকর্তারা শসাখেত ঘুরে দেখেন ও ফলনের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন।
কৃষকদের অভিযোগ ও হতাশা
কৃষকরা জানান, গাছ দেখতে ভালো হলেও ফলন অত্যন্ত কম হয়েছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে গাছ মাচায় ওঠার পরই হলুদ হয়ে নষ্ট হয়ে গেছে, ফলে প্রত্যাশিত উৎপাদন পাওয়া যায়নি। তারা বলেন, জমি প্রস্তুত, বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিক ব্যয়সহ উৎপাদন খরচ বেড়েছে। কিন্তু ফলন না হওয়ায় অধিকাংশ ক্ষেত্রেই খরচের অর্ধেকও ওঠেনি। কেউ কেউ লোকসান কমাতে আগাম গাছ কেটে ফেলতে বাধ্য হয়েছেন।
একাধিক কৃষক জানান, বাজার ও অনলাইন থেকে কেনা বীজের নিম্নমানই এ পরিস্থিতির জন্য দায়ী। চটকদার প্রচারণা ও বিক্রেতাদের আশ্বাসে বীজ কিনলেও ফলনে তার প্রতিফলন মেলেনি। অভিযোগ জানালেও বিক্রেতারা দায় এড়িয়ে যান বলে দাবি করেন তারা।
কৃষি বিভাগের প্রতিক্রিয়া
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুল বাশার চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, বিষয়টি গুরুত্বসহকারে দেখা হচ্ছে। মাঠ পর্যায়ে পরিদর্শন করে কৃষকদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে। তাদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। বীজের মান নিয়ে অভিযোগ থাকায় বীজ ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এই ঘটনা কৃষি খাতে নিম্নমানের বীজের প্রভাব এবং কৃষকদের সুরক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। কৃষি বিভাগের তৎপরতা আশা জাগায় যে, ভবিষ্যতে এমন সমস্যা সমাধানে কার্যকরী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।



