সরকারি গুদামে ১৯.২০ লাখ টন খাদ্যশস্য মজুত, চাল-গম সংগ্রহ চলমান
সরকারি গুদামে ১৯.২০ লাখ টন খাদ্যশস্য মজুত

সরকারি গুদামে ১৯.২০ লাখ টন খাদ্যশস্য মজুত, চাল-গম সংগ্রহ চলমান

খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী সংসদে জানিয়েছেন, বর্তমানে দেশের সরকারি গুদামগুলোতে ১৯ লাখ ২০ হাজার মেট্রিক টন খাদ্যশস্য মজুত আছে। রোববার (৫ মার্চ) জাতীয় সংসদে সংসদ সদস্য এ এম মাহবুব উদ্দিন খোকনের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য দেন।

চাল ও গমের মজুত পরিসংখ্যান

প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, গত ৩০ মার্চ পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সরকারি গুদামে ১৫ লাখ ৭৯ হাজার মেট্রিক টন চাল এবং ৩ লাখ ৩৯ হাজার মেট্রিক টন গম মজুত রয়েছে। খাদ্য প্রাপ্যতা বাড়াতে সরকার জি-টু-জি (সরকার থেকে সরকার) এবং উন্মুক্ত দরপত্রের মাধ্যমে বিদেশ থেকে চাল ও গম আমদানি করে থাকে।

এছাড়া অভ্যন্তরীণভাবে বোরো ও আমন মৌসুমে খাদ্য অধিদপ্তরের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ চালকল থেকে চাল সংগ্রহ করা হয়। পাশাপাশি কৃষি সহায়তা কার্ডধারী প্রকৃত কৃষকদের কাছ থেকে সরকারি নির্ধারিত মূল্যে ধান ও গম সংগ্রহ করা হচ্ছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

২০২৫-২৬ অর্থবছরের আমদানি ও সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা

আব্দুল বারী বলেন, বর্তমান ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ৬ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির চুক্তি করা হয়েছে। এর বিপরীতে ইতিমধ্যে ৩ লাখ মেট্রিক টন চাল পাওয়া গেছে। এই চালের মধ্যে ৫ লাখ মেট্রিক টন আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে এবং ১ লাখ মেট্রিক টন জি-টু-জি পদ্ধতিতে সংগ্রহের কথা ছিল। অবশিষ্ট ৩ লাখ মেট্রিক টন চাল আসার অপেক্ষায় রয়েছে।

অন্যদিকে, বর্তমান অর্থবছরে গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৭ লাখ ১০ হাজার মেট্রিক টন। এর বিপরীতে আন্তর্জাতিক দরপত্রের মাধ্যমে ৫০ হাজার মেট্রিক টন এবং জি-টু-জি পদ্ধতিতে ৬ লাখ ৬০ হাজার মেট্রিক টনসহ মোট ৫ লাখ ৩৫ হাজার মেট্রিক টন গম পাওয়া গেছে বলে তিনি জানান। অবশিষ্ট পৌনে ২ লাখ মেট্রিক টন গম নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পাওয়া যাবে বলেও প্রতিমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ভবিষ্যত সংগ্রহ পরিকল্পনা

আব্দুল বারী আরও জানান, খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অধীনে অভ্যন্তরীণ খাদ্যশস্য সংগ্রহের নীতিনির্ধারণী ফোরাম বোরো সংগ্রহ মৌসুমে (মে-আগস্ট) ৫ লাখ মেট্রিক টন ধান এবং ১২ লাখ ১৩ হাজার মেট্রিক টন চাল সংগ্রহ শুরু করবে। এছাড়া, প্রয়োজন অনুযায়ী আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরেও আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে চাল ও গম সংগ্রহ করা হবে বলে তিনি সংসদে উল্লেখ করেন।

এই উদ্যোগগুলো দেশের খাদ্য নিরাপত্তা জোরদার করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন। সরকারের এই সংগ্রহ ও মজুত কৌশল ভবিষ্যতের চাহিদা মেটাতে সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।