ঝিনাইদহের মহেশপুরে বৈদ্যুতিক সেচ পাম্পের তারে জড়িয়ে মামা-ভাগ্নের মর্মান্তিক মৃত্যু
ঝিনাইদহের মহেশপুর উপজেলায় ধান খেতে কীটনাশক ছিটানোর সময় বৈদ্যুতিক সেচ পাম্পের তারে জড়িয়ে এক মামা ও তার ভাগ্নের মৃত্যুর মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। রোববার (৫ এপ্রিল) দুপুরে উপজেলার বাঁশবাড়িয়া ইউনিয়নের হেলেনচা মাঠে এ দুর্ঘটনা ঘটে। নিহতরা হলেন বাগানমাঠ গ্রামের জমসেদ সরকারের ছেলে রফিকুল ইসলাম (৫৪) ও আবু সামার ছেলে নুর আলম বাবু (৩৫)।
দুর্ঘটনার বিস্তারিত বিবরণ
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মামা রফিকুল ইসলাম ধান খেতে কীটনাশক ছিটানোর সময় অসাবধানতাবশত সেচ পাম্পের বৈদ্যুতিক তারে জড়িয়ে পড়েন। এতে তিনি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। ঘটনাটি দেখে ভাগ্নে নুর আলম বাবু তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে তিনিও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে স্থানীয় কৃষকরা ওই সেচ পাম্পের সংযোগ বিছিন্ন করে তাদের উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে আসেন। তবে দুর্ভাগ্যবশত, ঘটনাস্থলেই তাদের মৃত্যু হয়।
পুলিশের তদন্ত ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া
মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান জানিয়েছেন, খবর পাওয়ার পরপরই ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, "আমরা ঘটনাটি তদন্ত করছি এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।" স্থানীয় বাসিন্দারা এই দুর্ঘটনায় শোক প্রকাশ করে বলেছেন, কৃষি কাজের সময় বৈদ্যুতিক নিরাপত্তা বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি জরুরি।
এই ঘটনা কৃষি ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ব্যবস্থার গুরুত্ব তুলে ধরেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বৈদ্যুতিক সেচ পাম্প ব্যবহারের সময় নিম্নলিখিত সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত:
- পাম্পের তার নিয়মিত পরীক্ষা করা
- কাজের সময় বৈদ্যুতিক সংযোগ বিছিন্ন রাখা
- প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের মাধ্যমে কাজ করানো
ঝিনাইদহ জেলায় এ ধরনের দুর্ঘটনা আগেও ঘটেছে, যা গ্রামীণ নিরাপত্তা ব্যবস্থার উন্নতির প্রয়োজনীয়তা নির্দেশ করে। স্থানীয় প্রশাসন ও কৃষি বিভাগের উচিত কৃষকদের মধ্যে সচেতনতা কার্যক্রম জোরদার করা।



