সুনামগঞ্জের কৃষকরা দেশের ১২.৫% ধান উৎপাদন করেন: ভূমিমন্ত্রী
ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেছেন, সুনামগঞ্জের কৃষকরা দেশের আটভাগের একভাগ বা ১২.৫ শতাংশ ধান উৎপাদন করেন। তিনি কৃষকদের কষ্টের কথা উল্লেখ করে বলেন, অতি বৃষ্টিতে হাওরের ফসল পানির নিচে চলে যাওয়ায় নতুন দুশ্চিন্তা সৃষ্টি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বিষয়টি সম্পর্কে সজাগ ও অবগত আছেন।
জাতীয় কর্মশালায় মন্ত্রীর বক্তব্য
শনিবার (৪ এপ্রিল) দুপুরে সুনামগঞ্জ শিল্পকলা একাডেমির হাসনরাজা মিলনায়তনে ‘সরকারি জলমহাল আইন’ ২০২৬-এর খসড়া চূড়ান্তকরণ শীর্ষক জাতীয় কর্মশালায় এসব কথা বলেন ভূমিমন্ত্রী। তিনি বলেন, হাওড়ে পানি নিষ্কাশনে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়েছে, যা বিগত সরকারের সময় শুরু হয়। তিনি অভিযোগ করেন, ভাতের হোটেল নামে পরিচিত হারুনের মতো ব্যক্তির কারণে হাজার হাজার কোটি টাকা নষ্ট করে রাস্তা তৈরি করা হয়েছিল, যেখানে স্বাভাবিক পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা ছিল না। ভারি বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলের কারণে জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ায় সরকার সংকট ও সম্ভাবনা পুনর্বিবেচনা করছে।
মধ্যস্বত্বভোগীদের বিরুদ্ধে সতর্কতা
মন্ত্রী আরও বলেন, জলমহাল ব্যবস্থাপনায় মধ্যস্বত্বভোগীদের ব্যাপারে সরকার সতর্ক রয়েছে। যারা ১৭ বছর ধরে মৎস্যজীবীদের শোষণ করে অবৈধভাবে ভূমির মালিক হয়েছেন, তাদের আর সুযোগ দেওয়া হবে না। তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন সরকার মৎস্যজীবী ও কৃষকদের অধিকার রক্ষায় সোচ্চার। প্রকৃত মৎস্যজীবীদের মূল্যায়ন করে জলমহাল ইজারার পাশাপাশি মৎস্য সম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষির অনুকূল পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। তিনি দেশপ্রেমিক নাগরিকদের অতি উগ্রবাদীদের বিরুদ্ধে সতর্ক থাকতে আহ্বান জানান।
দুর্ভিক্ষ ও বিদ্যুৎ সংকটের প্রসঙ্গ
ভূমিমন্ত্রী বলেন, চুয়াত্তরে দেশে মারাত্মক দুর্ভিক্ষ হয়েছিল, যা অযোগ্যতা ও কিছু ব্যক্তির পরিকল্পিত কর্মকাণ্ডের ফল। গরিব জনসাধারণের খাবার বাইরের দেশে পাচার করে দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি করা হয়েছিল, এবং সরকার এ বিষয়ে সতর্ক রয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, বিদ্যুতের কারণে হাওরে ধানের উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হতে দেওয়া হবে না। প্রয়োজনে বাড়ির বিদ্যুৎ সঞ্চালন বন্ধ রাখা হলেও কৃষকের উৎপাদন নিশ্চিতে বিদ্যুতের ব্যবস্থা রাখতে হবে। সরকার সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দেশপ্রেম ধারণ করে সবাইকে নিয়ে নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে চায় এবং এজন্য দেশের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেন।
অনুষ্ঠানে উপস্থিতি
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, সুনামগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন, সুনামগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, সুনামগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট নুরুল ইসলাম, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সংসদ সদস্য কামরুজ্জামান কামরুল, এবং সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার খান মো. রেজা-উন-নবী প্রমুখ।
কর্মশালার সূচনা অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ভূমি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব এএসএম সালেহ আহমেদ, এবং স্বাগত বক্তব্য দেন সুনামগঞ্জের জেলা প্রশাসক ড. মোহাম্মদ ইলিয়াস মিয়া। এতে রাজধানী ঢাকা থেকে সরকারের সংশ্লিষ্ট উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, বেসরকারি সংস্থা বেলা, টিআইবিসহ উন্নয়ন সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সিলেট বিভাগসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মৎস্যজীবী প্রতিনিধিরাও মতামত তুলে ধরেন।



