জামালপুরে ডিজেল সংকটে বোরো ধানের সেচ বিপর্যয়, কৃষকদের উৎকণ্ঠা
জামালপুর সদর উপজেলার চরচন্দ্রা এলাকায় কৃষক মোহাম্মদ বজলু শেখের চার বিঘা জমিতে বোরো ধানের চারা পানির অভাবে ধীরে ধীরে ফ্যাকাসে হয়ে যাচ্ছে। খেতের পাশেই ডিজেলচালিত সেচপাম্প থাকলেও জ্বালানি তেলের অভাবে এটি এখন প্রায় অচল। মাটি ফেটে চৌচির হয়ে গেছে, আর কয়েক দিন সেচ দিতে না পারলে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা করছেন তিনি।
জেলাজুড়ে একই সংকট
পুরো জামালপুর জেলাতেই ডিজেলচালিত সেচপাম্পের ওপর নির্ভরশীল কৃষকরা এই সংকটে পড়েছেন। প্রতিদিন তেলের পাম্প ও খুচরা দোকানে ঘুরেও তাঁরা পর্যাপ্ত তেল সংগ্রহ করতে পারছেন না। মোটরসাইকেলসহ অন্যান্য যানবাহনের চাপের কারণে কৃষকদের জন্য তেল পাওয়া আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, সদরসহ সাতটি উপজেলায় চলতি মৌসুমে প্রায় দুই লাখ হেক্টর জমিতে বোরো চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। এর মধ্যে ১ লাখ ২৬ হাজার ১৩২ হেক্টর জমিতে বোরো চাষ করা হয়েছে। জেলায় ডিজেলচালিত সেচপাম্প ৩৬ হাজার ও বিদ্যুৎচালিত ১৯ হাজার ৭০০ সেচপাম্প রয়েছে।
কৃষকদের হতাশা ও উদ্বেগ
চরচন্দ্রা এলাকার বিস্তীর্ণ মাঠজুড়ে রয়েছে ১০ থেকে ১২টি ডিজেলচালিত সেচপাম্প, যা এখন প্রায় সবই অচল। কৃষক মো. মামুন মিয়া বলেন, ‘তেলের অভাবে ঠিকমতো আবাদই করতে পারছি না। প্রতিদিনই তেলের পাম্পে ঘুরছি, কিন্তু কোথাও পর্যাপ্ত তেল পাচ্ছি না। পানির অভাবে আমাদের ধানখেত শুকিয়ে যাচ্ছে, একপ্রকার মরে যাচ্ছে।’
সরেজমিনে দেখা গেছে, সদর উপজেলার শরিফপুর, মাছিমপুর, হাটচন্দ্রা ও মেলান্দহ উপজেলার চার নম্বর চর এলাকায়ও একই অবস্থা বিরাজ করছে। ডিজেলচালিত সেচের ওপর নির্ভরশীল অধিকাংশ কৃষকই পড়েছেন চরম সংকটে।
কৃষি বিভাগ ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া
জামালপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ শরীফ আলম খান বলেন, জেলায় ৭০ শতাংশ কৃষিজমি বিদ্যুৎচালিত সেচের আওতায় রয়েছে। তবে তিনি স্বীকার করেন, ‘কৃষকরা তেলের জন্য পাম্প পর্যন্ত যাচ্ছেন, কিন্তু তাঁরা উপজেলা কৃষি অফিস পর্যন্ত যাচ্ছেন না। তাঁরা যদি কৃষি অফিস পর্যন্ত যেতেন, নিশ্চয়ই তেলের ব্যবস্থা হতো।’ তিনি আরও জানান, কীভাবে কৃষকদের চাহিদা অনুযায়ী তেল সরবরাহ করা যায়, তা নিয়ে জেলা প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইউসুপ আলী বলেন, ‘বিভিন্ন পাম্পে শৃঙ্খলার মধ্য দিয়ে তেল বিক্রির কার্যক্রম চলছে। কৃষকদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে তাঁদের তেল দেওয়ার ব্যবস্থা করা হবে যাতে বোরো চাষের কোনো ধরনের ক্ষতি না হয়।’
এই সংকটের ফলে প্রান্তিক কৃষকদের মধ্যে উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তা বাড়ছে, এবং বোরো আবাদে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।



