ময়মনসিংহে কোরবানির ষাঁড়ের জিহ্বা কেটে ফেলার মর্মান্তিক ঘটনা, খামারির আহাজারি
ময়মনসিংহে কোরবানির ষাঁড়ের জিহ্বা কাটার ঘটনা, খামারি আহাজারি

ময়মনসিংহে কোরবানির ষাঁড়ের জিহ্বা কেটে ফেলার মর্মান্তিক ঘটনা

ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলায় আসন্ন কোরবানি ঈদকে কেন্দ্র করে একটি মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। দুর্বৃত্তরা একটি ষাঁড় গরুর জিহ্বা কেটে ফেলেছে, যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। বুধবার (১ এপ্রিল) এই ঘটনা জানাজানি হয়, তবে মূল ঘটনা সংঘটিত হয় মঙ্গলবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে।

খামারির বর্ণনায় ঘটনার বিবরণ

খামারি আকরাম হোসেন জানান, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিজ খামারে গরুগুলো সন্তানের মতো লালনপালন করে আসছেন। মূলত কোরবানি ঈদে শুধুমাত্র কোরবানিদাতাদের কাছে গরু বিক্রি করেন তিনি। মঙ্গলবার রাতে গরুদের খাবার দেওয়ার পর খামারের পাশেই তার বাড়িতে যান। সেখানে রাত ৯টার দিকে লোডশেডিং হয় এবং সাড়ে ৯টার দিকে বিদ্যুৎ ফিরে আসে। বিদ্যুৎ আসার পর তিনি খামারে গিয়ে দেখতে পান, খামারের সবচেয়ে বড় ষাঁড় গরুর মুখ দিয়ে রক্ত ঝরছে এবং পাশেই জিহ্বার অর্ধেক অংশ পড়ে রয়েছে।

আকরাম হোসেন বলেন, "আমি গরু পালন করেই সংসার চালাই। প্রতি কোরবানি ঈদে যারা কোরবানি করে, তাদের কাছেই সওয়াবের আশায় গরু বিক্রি করে থাকি। এখন আমি কার কাছে বিচার দিমু?" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তার সঙ্গে কারো কোনো শত্রুতা নেই এবং তিনি এই ঘটনায় গভীরভাবে আহত ও অসহায় বোধ করছেন।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ঘটনার পরবর্তী অবস্থা ও স্থানীয় প্রতিক্রিয়া

ঘটনার পর আকরাম হোসেন রাতেই ২ লাখ টাকা মূল্যের ষাঁড় গরুটি মাত্র এক লাখ টাকায় বিক্রি করে দেন। বুধবার সকালে স্থানীয় পিডিবি বাজারে গরুটি জবাই করে মাংস বিক্রি করা হয়। এসময় কাটা জিহ্বাটি হাতে নিয়ে খামার মালিক আকরাম হোসেনকে আহাজারি করতে দেখা যায়। তিনি বাজারে আগতদের দেখিয়ে নিজের অসহায়ত্বের কথা বলছিলেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

স্থানীয় বাসিন্দা ফখরুল ইসলাম বলেন, "শত্রুতা থাকলে খামার মালিকের সঙ্গে থাকতে পারে। গরুর সঙ্গে কিসের শত্রুতা? বিষয়টি খোঁজ করে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।" আছিম পাটুলি ইউনিয়নের পরিষদের চেয়ারম্যান ইমরুল কায়েস ঘটনাটিকে দুঃখজনক আখ্যা দিয়ে বলেন, "খামারিদের গরুগুলো অনিরাপদ থাকলে তাদের মাঝে আতঙ্ক সৃষ্টি হবে। খামারিদের মধ্যে যেন আতঙ্ক সৃষ্টি না হয়, সে জন্য প্রশাসনকে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছি।"

খামারির জীবনযাত্রা ও প্রভাব

আকরাম হোসেনের প্রতিবেশীরা জানান, তিনি আছিম পাটুলী গ্রামে ফইরা পাড়ায় বসবাস করেন এবং তার সংসার কৃষি কাজ ও খামারে গরু লালনপালনের মাধ্যমে চলে। তার খামারে ষাঁড় গরুসহ মোট ৭টি গরু রয়েছে, যা প্রতিদিন রাতে তালাবদ্ধ থাকে। এই ঘটনা তার আর্থিক ও মানসিকভাবে ব্যাপক ক্ষতি করেছে, কারণ গরুটি কোরবানির জন্য প্রস্তুত ছিল এবং তিনি এর মাধ্যমে আয় করার আশা করছিলেন।

স্থানীয় সূত্রগুলো ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, এই ধরনের ঘটনা খামারিদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে দিতে পারে, বিশেষ করে কোরবানি ঈদের মতো গুরুত্বপূর্ণ সময়ে। প্রশাসনের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও তদন্তের দাবি উঠেছে স্থানীয় পর্যায় থেকে।