হরমুজ প্রণালি বন্ধে সার সংকটের আশঙ্কা, নতুন উৎস খোঁজা হচ্ছে
হরমুজ প্রণালি বন্ধে সার সংকট, নতুন উৎস খোঁজা

হরমুজ প্রণালি বন্ধে সার সরবরাহে উদ্বেগ, বাংলাদেশে নতুন উৎস খোঁজা

বিশ্বের সমুদ্রপথে সার পরিবহনের প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ শতাংশ ঘটে ওমান উপসাগরের হরমুজ প্রণালি দিয়ে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এই গুরুত্বপূর্ণ প্রণালিটি প্রায় বন্ধ হয়ে গেছে, যা বিশ্বজুড়ে সারের সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। বাংলাদেশেও এই পরিস্থিতিতে সার সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যদিও সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নিচ্ছে।

সার মজুত ও নতুন উৎস অনুসন্ধান

কৃষি মন্ত্রণালয়ের দাবি অনুযায়ী, জুন মাস পর্যন্ত দেশে সারের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। তবে ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখে সার আমদানির জন্য নতুন উৎস খোঁজার কাজ শুরু হয়েছে। শিল্প মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে চিঠি দিয়ে মালয়েশিয়া, ব্রুনেই ও ভিয়েতনাম থেকে সার আমদানির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের অনুরোধ করেছে। বাংলাদেশ দূতাবাসগুলোর মাধ্যমে এই প্রক্রিয়া চলছে এবং ইতিবাচক সাড়া পেলে এই দেশগুলো থেকে সার আমদানি করা হবে।

কৃষি মন্ত্রণালয়ও ব্রাজিল ও চীনের মতো দেশগুলোর সাথে যোগাযোগ শুরু করেছে। কৃষিসচিব রফিকুল ই মোহামেদ জানিয়েছেন, "আমাদের মজুত এ অর্থবছর পর্যন্ত পর্যাপ্ত আছে, কিন্তু আমরা বিকল্প উৎস খোঁজার চেষ্টা করছি। যেখান থেকে দাম কম পড়বে, সেখান থেকেই সার আনা হবে।"

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

সার আমদানি ও মজুত পরিস্থিতি

বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (বিসিআইসি) এবং বাংলাদেশ কৃষি উন্নয়ন করপোরেশন (বিএডিসি) সার আমদানির দায়িত্বে রয়েছে। বিসিআইসি ইউরিয়া সার আমদানি করে, অন্যদিকে বিএডিসি টিএসপি, এমওপি ও ডিএপির মতো নন-ইউরিয়া সার আমদানি করে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বর্তমানে ইউরিয়া সারের মজুত ৩ লাখ ৭৫ হাজার টন, যা নিরাপদ স্তর ৪ লাখ টনের কাছাকাছি। তবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় সৌদি আরব ও আরব আমিরাত থেকে জিটুজি ভিত্তিতে তিন লাখ টন ইউরিয়া আনার পরিকল্পনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, মার্চ থেকে জুন মাস পর্যন্ত ইউরিয়া সারের চাহিদা ৪ লাখ ২৪ হাজার ২১৩ টন, যা মজুতের তুলনায় বেশি।

উৎপাদন লক্ষ্য ও চ্যালেঞ্জ

আমন মৌসুমে দেশের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ কোটি ৮১ লাখ মেট্রিক টন ধান উৎপাদন, যা ৬০ লাখ হেক্টর জমিতে চাষের মাধ্যমে অর্জন করা হবে। সার আমদানি না হলে এই লক্ষ্য পূরণে বাধা সৃষ্টি হতে পারে। বিসিআইসির তথ্য অনুযায়ী, দেশীয় সার কারখানাগুলো গ্যাস সংকটের কারণে উৎপাদনে পিছিয়ে আছে। নরসিংদীর ঘোড়াশাল-পলাশ ইউরিয়া সার কারখানা চালু করতে জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা চলছে।

সারের দাম বৃদ্ধি ও বৈশ্বিক প্রভাব

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে বিশ্বব্যাপী সারের দাম বেড়ে চলেছে। ইউরিয়া সারের দাম জানুয়ারিতে প্রতি টন ৪০০-৪৫০ মার্কিন ডলার থেকে মার্চে ৭১৭ ডলারে পৌঁছেছে। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা সতর্ক করেছে যে, সংঘাত অব্যাহত থাকলে বাংলাদেশ, ভারত ও আফ্রিকার দেশগুলো সার সংকটে পড়বে, যা খাদ্য উৎপাদন ও মূল্যবৃদ্ধিকে প্রভাবিত করতে পারে।

বিএডিসির কর্মকর্তারা বলছেন, সার আমদানি থেকে কৃষকের কাছে পৌঁছাতে কমপক্ষে ১৮০ দিন সময় লাগে, তাই অক্টোবরে শুরু হওয়া বোরো মৌসুমের জন্য এখন থেকেই নতুন উৎস খোঁজা জরুরি। সরকারের গাণিতিক বিশ্লেষণের মাধ্যমে সাশ্রয়ী উৎস থেকে সার আমদানির চেষ্টা চলছে, যাতে কৃষকদের কোনো সমস্যার সম্মুখীন হতে না হয়।