বাম্পার ফলনেও বিপাকে আমতলীর তরমুজ চাষিরা, শত কোটি টাকা লোকসানের আশঙ্কা
বাম্পার ফলনেও বিপাকে আমতলীর তরমুজ চাষিরা

বাম্পার ফলনেও বিপাকে আমতলীর তরমুজ চাষিরা, শত কোটি টাকা লোকসানের আশঙ্কা

বরগুনার আমতলী উপজেলায় তরমুজের বাম্পার ফলন সত্ত্বেও চাষিরা ক্রেতা সংকটের কারণে মহাবিপাকে পড়েছেন। চলতি মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে বেশি জমিতে তরমুজ চাষ করা হয়েছে, কিন্তু বড় ক্রেতাদের অনুপস্থিতি ও উত্তরাঞ্চলে চাহিদা কমে যাওয়ায় উৎপাদিত তরমুজ বিক্রি করতে পারছেন না কৃষকরা। এ অবস্থায় উপজেলায় অন্তত শত কোটি টাকা লোকসান হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করা হচ্ছে।

লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে চাষ, কিন্তু বাজার সংকট

এ বছর আমতলীতে তরমুজ চাষের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছিল ৪ হাজার ২৪৯ হেক্টর জমিতে। কিন্তু বাস্তবে তা ছাড়িয়ে ৪ হাজার ৩০৯ হেক্টর জমিতে তরমুজের চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উৎপাদনও হয়েছে রেকর্ড পরিমাণ। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হয়েছিল, ভালো ফলন ও দাম পেলে ২৭০ কোটি টাকা বিক্রির লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে। কিন্তু মৌসুম শুরুতেই আমতলীর তরমুজ বিক্রিতে তীব্র ক্রেতা সংকট দেখা দিয়েছে।

বিগত বছরগুলোতে বড় তরমুজ ব্যবসায়ীরা আমতলীর তরমুজ চড়া দামে কিনে নাটোর, দিনাজপুর ও ঢাকাসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় রপ্তানি করতেন। কিন্তু এবার উত্তরাঞ্চলে তরমুজের চাহিদা কম থাকায় বড় ব্যবসায়ীরা ক্রয়ে আগ্রহ দেখাচ্ছেন না। ফলে চাষিরা বাধ্য হয়ে স্থানীয় বাজারে কম দামে তরমুজ বিক্রির চেষ্টা করছেন, যা দিয়ে উৎপাদন খরচ উঠানোও কঠিন হয়ে পড়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চাষিদের করুন অবস্থা

সরেজমিনে আমতলীর হলদিয়া, চাওড়া, আঠারোগাছিয়া ও গুলিশাখালী ইউনিয়নে ঘুরে দেখা গেছে, হাজার হাজার হেক্টর জমিতে তরমুজ পেকে গেলেও চাষিরা বড় ক্রেতা সংকটে তা খেত থেকে তুলছেন না। অনেক চাষি তরমুজ কেটে রেখে দিয়েছেন, কিন্তু বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন না।

হলদিয়া গ্রামের তরমুজ চাষি আল আমিন বলেন, "৫ লাখ টাকা ব্যয়ে তিন হেক্টর জমিতে তরমুজ চাষ করেছি। কিন্তু ক্রেতা সংকটে বিক্রি করতে পারছি না। এভাবে চললে লাভ তো দূরের কথা, আসল টাকাও উঠবে না।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চাওড়া ইউনিয়নের পাতাকাটা গ্রামের মামুন মোল্লা জানান, তিনি ৫ লাখ টাকায় ১২ হেক্টর জমি লিজ নিয়ে ৫০ হাজার তরমুজের চারা রোপণ করেছেন। ফলন ভালো হলেও কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় লোকসানের মুখোমুখি হতে হবে।

গুলিশাখালী ইউনিয়নের চাষি শাহিন সিকদার ও সবুজ খান বলেন, "বড় ব্যবসায়ীরা তরমুজ কিনছেন না। স্থানীয় বাজারে যে দামে বিক্রি করতে হচ্ছে, তাতে শ্রমিকদের বেতন দিয়েই টেকা যাবে না।"

প্রশাসনের উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ আশঙ্কা

আমতলী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মো. রাসেল বলেন, চলতি বছর তরমুজের উৎপাদন ভালো হয়েছে, কিন্তু বাজার দর কম থাকায় চাষিরা কাঙ্ক্ষিত লাভ করতে পারবে না। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, "এভাবে চলতে থাকলে উপজেলায় অন্তত শত কোটি টাকার লোকসান হবে।" চাষিদের কথা বিবেচনা করে বড় ব্যবসায়ীদের তরমুজ ক্রয়ে উদ্বুদ্ধ করার চেষ্টা চলছে বলে জানান তিনি।

আমতলী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ জাফর আরিফ চৌধুরী বলেন, আমতলীর চাষিরা বাণিজ্যিকভাবে তরমুজ উৎপাদন করে স্থানীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। ভালো দামে চাষিরা যাতে তরমুজ বিক্রি করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা করার চেষ্টা করা হচ্ছে।

তবে স্থানীয় বাজারে চাহিদা সীমিত হওয়ায় উৎপাদিত তরমুজের একটি বড় অংশ উদ্বৃত্ত থেকে যাচ্ছে। আমতলী, বরগুনা ও পটুয়াখালীসহ দক্ষিণাঞ্চলের চাহিদা মিটিয়েও কয়েক হাজার টন তরমুজ বিক্রি করা যাচ্ছে না। এ পরিস্থিতিতে চাষিরা যেমন আর্থিক সংকটে পড়েছেন, তেমনি স্থানীয় অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।