কুড়িগ্রামের চিলমারীতে ডিজেল সংকটে জেলেদের বিক্ষোভ, অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ
কুড়িগ্রামের চিলমারী উপজেলায় ডিজেলের সংকট ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগে স্থানীয় জেলেরা বিক্ষোভ ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন। আজ মঙ্গলবার সকালে চিলমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের সামনে প্রায় ১২ থেকে ১৪ জন জেলে ঘণ্টাব্যাপী এই বিক্ষোভে অংশ নেন। পরে তাঁরা সেখান থেকে চলে যান।
জেলেদের অভিযোগ: কৃত্রিম সংকট ও মূল্যবৃদ্ধি
জেলেদের পক্ষ থেকে অভিযোগ উঠেছে যে, সম্প্রতি কয়েকজন ডিলার বিপুল পরিমাণ ডিজেল পেলেও তা সরাসরি বাজারে সরবরাহ না করে মজুত রেখে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছেন। নির্ধারিত দামের চেয়ে লিটারপ্রতি ২০ থেকে ৩০ টাকা বেশি দিলে তেল পাওয়া যাচ্ছে বলে তাঁরা জানান।
স্থানীয় জেলে বেলাল, সুবল ও আশরাফসহ কয়েকজন বলেন, "ডিজেল না পাওয়ায় আমরা নদীতে মাছ ধরতে যেতে পারছি না। আয় বন্ধ হয়ে গেছে এবং এভাবে সংসার চালানো কঠিন হয়ে পড়েছে।"
স্থানীয় নেতাদের বক্তব্য
চিলমারী ইউনিয়নের ইউপি চেয়ারম্যান আমিনুল ইসলাম বলেন, তাঁর ইউনিয়নের অনেকেই পাশের জোড়গাছ এলাকা থেকে বেশি দামে তেল কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। রমনা মডেল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য রোকনুজ্জামান স্বপন জানান, তাঁর এলাকায় প্রায় ৩০০ জেলে পরিবারের মধ্যে অর্ধেকের বেশি ডিজেলচালিত নৌকার ওপর নির্ভরশীল। তেলের সংকট ও উচ্চমূল্যের কারণে এসব পরিবার এখন চরম বিপাকে রয়েছে।
প্রভাব ও আশঙ্কা
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শুধু চিলমারী নয়, উপজেলার অন্য এলাকায়ও জ্বালানি তেলের সংকট দেখা দিয়েছে। এতে পরিবহন, কৃষি ও সরবরাহব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। এই পরিস্থিতির প্রভাবে পরিবহন ব্যাহত হলে নিত্যপণ্য সরবরাহে বিঘ্ন ঘটবে এবং মূল্যবৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হবে বলে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন।
ইউএনওর প্রতিক্রিয়া
ডিজেলের কোনো ঘাটতি নেই বলে দাবি করেছেন চিলমারীর ইউএনও মো. মাহমুদুল হাসান। তিনি জানান, কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি বা অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।



