শহরের বাজারে ব্রয়লার মুরগির দাম ঈদের আগে বেড়েছে, খামারিরা লোকসান পুষিয়ে নিচ্ছেন
শহরের বিভিন্ন মুরগির বাজারগুলোতে ব্রয়লার মুরগির দাম ঈদুল ফিতরের আগে উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। খাত সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, এই সময়ে ভোক্তাদের চাহিদা বাড়ার কারণে দামের এই বৃদ্ধি ঘটেছে। গত ১২ মাসের বেশিরভাগ সময় ধরে দাম কম থাকায় খামারিরা লোকসানের মুখে ছিলেন, কিন্তু ঈদের আগে দাম বাড়ায় তারা তাদের লোকসানের কিছুটা পুষিয়ে নিতে পেরেছেন।
রোগের প্রাদুর্ভাব ও সরবরাহ কমে যাওয়া
সম্প্রতি অনেক মুরগির খামারে রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে, যার ফলে মুরগির সরবরাহ কমে গেছে এবং দামের আকস্মিক বৃদ্ধিতে এর ভূমিকা রয়েছে। নরসিংদীর শিবপুরের বিরাজনগর বাজারের খাজা পোল্ট্রি ফিড অ্যান্ড মেডিসিন কর্নারের স্বত্তাধিকারী এবং খামারি আবু হানিফা জানান, চাহিদা বেশি ও সরবরাহ কম হওয়ায় ব্রয়লারের দাম বেড়েছে। তিনি বলেন, তার এলাকার ৫০ শতাংশেরও বেশি খামার রোগে আক্রান্ত হয়েছে, যার ফলে অস্বাভাবিক হারে মুরগির মৃত্যু ঘটেছে এবং উৎপাদন কমে গেছে।
দামের তুলনামূলক বিশ্লেষণ
আবু হানিফা জানান, শিবপুরের খামারিরা সম্প্রতি প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৮০ থেকে ১৯৮ টাকায় বিক্রি করেছেন, যা ফেব্রুয়ারিতে প্রায় ১৪৫ টাকায় বিক্রি করতে হয়েছিল। পূর্ববর্তী মাসগুলোর দামের তুলনা নিম্নরূপ:
- জানুয়ারি: ১৩৬ থেকে ১৪৫ টাকা
- ডিসেম্বর: ১২০ থেকে ১৩০ টাকা
- নভেম্বর: ১৩৫ থেকে ১৪০ টাকা
তিনি আশা প্রকাশ করেন, ব্রয়লার মুরগির বর্তমান বাজার দর আরও কয়েক মাস অব্যাহত থাকলে খামারিরা নিকট অতীতের লোকসান পুষিয়ে নিতে পারবেন।
খামারিদের অভিজ্ঞতা ও মতামত
মোঃ জহিতুল হক, যিনি সাতটি শেডে ২২-২৩ হাজার মুরগি পালনের ক্ষমতাসম্পন্ন একটি পোল্ট্রি খামার চালান, বলেন, "গত এক মাস ধরে খামারিদের জন্য দাম ভালো ছিল, কিন্তু তার আগের ১০ মাসের ৯ মাসই খারাপ ছিল।" তিনি উল্লেখ করেন, কিছু খামারি বর্ধিত দামের কারণে লাভবান হচ্ছেন, আবার অন্যরা উচ্চ মৃত্যুহারের কারণে এখনও লোকসানে রয়েছেন।
শিবপুরের বয়লাবোতে নারী উদ্যোক্তা জীবনা বেগম (৩৬) তার স্বামী ও দুই ছেলের সহায়তায় দুটি শেডে ৩,৫০০ মুরগির একটি খামার চালান। তিনি বলেন, ১২ মার্চ তার খামারের ১,৬০০টি মুরগি বিক্রি করে ভালো মুনাফা পেয়েছেন এবং রমজান মাসে এত লাভের আশা ছিল না।
মো. রবিউল্লাহ (৩৫), একজন সিনিয়র স্কুল শিক্ষক, যিনি ১৬ বছর আগে পোল্ট্রি পালন শুরু করেছিলেন, বলেন, গত কয়েক মাস ধরে অব্যাহত লোকসানের পর অবশেষে লাভের মুখ দেখেছেন। তিনি মনে করেন, এলাকার আশেপাশের অনেক খামারে রোগে আক্রান্ত হয়ে মুরগি মারা যাওয়ায় উৎপাদন ও সরবরাহ কমে গেছে এবং দাম বেড়েছে। তিনি বলেন, "এই ব্যবসায় যে টিকে থাকে, শেষ পর্যন্ত সে-ই লাভ করে। কিছুদিন দাম কম থাকার পর বাজার আবার ভালো হয়ে যায়।"



