কুমারখালীতে রাতে সেচপাম্পের ট্রান্সফরমার চুরি, কৃষকদের দুর্ভোগ
কুমারখালীতে ট্রান্সফরমার চুরি, কৃষকদের সেচ বন্ধ

কুমারখালীতে রাতে সেচপাম্পের ট্রান্সফরমার চুরি, কৃষকদের দুর্ভোগ

কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলায় এক রাতে দুই কৃষকের সেচপাম্পের দুটি পাঁচ কেভিএ ট্রান্সফরমারের ভেতরের যন্ত্রাংশ চুরির ঘটনা ঘটেছে। গতকাল মঙ্গলবার রাতের কোনো এক সময় উপজেলার যদুবয়রা ইউনিয়নের জোতমোড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পেছনের মাঠে এ ঘটনা ঘটে। আজ বুধবার সকালে ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, মাঠে পড়ে আছে ট্রান্সফরমারের খোলস, কিন্তু ভেতরের যন্ত্রপাতি নেই।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বক্তব্য

ক্ষতিগ্রস্ত দুই কৃষক হলেন যদুবয়রা ইউনিয়নের জোতমোড়া গ্রামের আমির ফরায়েজি (৪৫) ও সাজিদুল ইসলাম (২৫)। আমির ফরায়েজি আক্ষেপ করে বলেন, "বছরখানেক আগে একবার খোলস ফেলে ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছিল। তখন দুই-তিন মাস সেচ বন্ধ ছিল। পরে ৪০ হাজার টাকা দিয়ে পুরোনো ট্রান্সফরমার কিনে লাগিয়েছিলাম। চুরি ঠেকানোর জন্য লোহার শিকল ও খাঁচা লাগিয়েছিলাম। এত কিছুর পরও আবার একইভাবে ট্রান্সফরমার চুরি হয়েছে।" তিনি সরকারি খরচে ট্রান্সফরমার স্থাপনের দাবি জানান।

চুরির পরিসংখ্যান ও কর্তৃপক্ষের প্রতিক্রিয়া

কুমারখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জোনাল কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, এ নিয়ে চলতি বছর পাঁচটি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। গত বছর এ চুরির সংখ্যা ছিল ৩৩টি। ২০২৩ সাল থেকে এ পর্যন্ত প্রায় ১১৭টি ট্রান্সফরমার চুরির ঘটনা ঘটেছে। প্রতিটি পাঁচ কেভিএ ধারণসম্পন্ন ট্রান্সফরমারের বর্তমান দাম প্রায় ৫৯ হাজার ১১২ টাকা।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কুমারখালী পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) বিপাশা ইসলাম চুরির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, "প্রতিটি চুরির ঘটনায় থানায় অভিযোগ জমা দেওয়া হয়েছে। চুরি প্রতিরোধে গ্রাহকদের বিভিন্নভাবে সচেতন করা হচ্ছে। চুরি যাওয়া ট্রান্সফরমার গ্রাহকদের নিজ খরচে কিনে নিতে হবে।"

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

পুলিশ ও প্রশাসনের পদক্ষেপ

কুমারখালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জামাল উদ্দিন বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার বলেন, "চুরি প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ, কৃষকদের সহজ শর্তে ট্রান্সফরমারের ব্যবস্থা করার বিষয়টি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হবে।"

কৃষি কাজে প্রভাব

ঘটনাস্থলে দেখা যায়, বিস্তৃর্ণ মাঠজুড়ে পেঁয়াজ, ভুট্টা, রসুন, কলা, মরিচ, লালশাকসহ হরেক রকম ফসলের চাষাবাদ করেছেন কৃষকেরা। জমিতে সেচ দেওয়ার জন্য দুটি মোটরচালিত বৈদ্যুতিক সেচপাম্প আছে। সেখানকার বিদ্যুতের খুঁটিতে তার, পাম্পে মোটর ও অন্যান্য সামগ্রী থাকলেও নেই ট্রান্সফরমার। এটি কৃষি কাজে ব্যাপক ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে, যা স্থানীয় অর্থনীতির জন্য উদ্বেগজনক।