মীরসরাইয়ে পোল্ট্রি খামারে অ্যাসিড হামলা: ২০০ মুরগি নিহত, খামারির জীবন বিপন্ন
চট্টগ্রামের মীরসরাই উপজেলায় একটি পোল্ট্রি খামারে অ্যাসিড ছুড়ে প্রায় ২০০ মুরগিকে হত্যার মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৩ মার্চ) সকালে দুর্গাপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর এলাকায় নুরুল আলমের খামারে এ হামলা চালানো হয়। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, খামারটিতে দুই হাজার সেট মুরগি পালন করা হচ্ছিল, যেখানে খামারি নুরুল আলম প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকা বিনিয়োগ করেছিলেন।
খামারির বক্তব্য: বিরোধের জেরে ঘটনা
খামারের মালিক নুরুল আলম বিডি গেজেটকে বলেন, 'আমি ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে এই খামারটি পরিচালনা করে আসছি। এটি আমার পরিবারের ছয় সদস্যের একমাত্র আয়ের উৎস ছিল। খামারের পাশে দেলোয়ার নামের একজন ভাড়াটে থাকতেন, তাকে বাসা ছেড়ে দিতে বলা হলে তিনি অস্বীকৃতি জানান। এরপর আমাদের মধ্যে কয়েকবার বাগবিতণ্ডা হয়, যা স্থানীয়দের মাধ্যমে সাময়িকভাবে সমাধান করা হয়েছিল। আমি ধারণা করছি, তিনি এই অমানবিক ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন। আমার ২০০টি মুরগিকে হত্যা করা হয়েছে, যা আমাকে আর্থিক ও মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করেছে। আমি ইতিমধ্যে জোরারগঞ্জ থানায় অভিযোগ দায়ের করেছি।'
প্রত্যক্ষদর্শীর বিবরণ: শত্রুতার ইঙ্গিত
প্রত্যক্ষদর্শী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন ঘটনাটি সম্পর্কে বলেন, 'খামারি নুরুল আলমের সঙ্গে স্থানীয় এক ব্যক্তির সম্প্রতি কয়েকবার ঝগড়া হয়েছে বলে জানি। এটি নিঃসন্দেহে একটি অমানবিক ও নৃশংস কাজ। শত্রুতার কারণেই এমন ঘটনা ঘটতে পারে, কিন্তু এভাবে নিরীহ প্রাণী হত্যা করা কখনোই গ্রহণযোগ্য নয়। এই ঘটনা পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দিয়েছে।'
পুলিশের পদক্ষেপ: তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা
জোরারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী নাজমুল হক বিডি গেজেটকে নিশ্চিত করেন, 'আমরা পোল্ট্রি খামারে অ্যাসিড মেরে মুরগি হত্যার অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে। আমরা খামারি ও স্থানীয়দের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করছি এবং দ্রুততম সময়ে অপরাধীদের শনাক্ত করার চেষ্টা করব।'
এ ঘটনায় স্থানীয় সম্প্রদায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, এবং অনেকেই খামারি নুরুল আলমের পাশে দাঁড়িয়েছেন। পুলিশ আশ্বাস দিয়েছে যে, তদন্তের মাধ্যমে সত্যতা যাচাই করে দ্রুত ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।



