পাথরঘাটায় কালমেঘা খাল পুনঃখননের দাবিতে কৃষকদের মানববন্ধন
বরগুনার পাথরঘাটা উপজেলার কালমেঘা খাল পুনঃখননের জরুরি দাবিতে এলাকাবাসী ও কৃষকরা মানববন্ধন করেছেন। আজ মঙ্গলবার সকালে খালের পাড়ে কাঁধে কলসি ও হাতে জাল নিয়ে এই মানববন্ধনে অংশ নেন অর্ধশতাধিক কৃষকসহ স্থানীয় বাসিন্দারা।
মরা খালে পরিণত হওয়ায় কৃষি উৎপাদনে মারাত্মক সংকট
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্যমতে, একসময় কালমেঘা খালে বড় বড় জাহাজ ও নৌকা চলাচল করত এবং কুমির দেখা যেত। কিন্তু বর্তমানে খালটি সম্পূর্ণ শুকিয়ে মরা খালে পরিণত হয়েছে। এই অবস্থার কারণে কৃষকরা দূরের পুকুর থেকে পানি টেনে আলু খেতে দিতে বাধ্য হচ্ছেন, যা খরচ ও সময় বাড়িয়ে দিচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে সেচ দেওয়াই সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান তারা।
কৃষক খলিলুর রহমান বলেন, "একসময় খাল থেকেই সহজে পানি পাওয়া যেত। এখন এক বিঘা জমিতে আলু চাষ করতে খরচ অনেক বেড়ে গেছে। শুধু পানির পেছনেই বড় অঙ্কের টাকা যাচ্ছে। লাভ তো দূরের কথা, খরচই ওঠানো কঠিন।"
খাল পুনঃখননের জন্য জরুরি পদক্ষেপের দাবি
মানববন্ধনের আগে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে কুপধন আলুচাষি সমিতির সভাপতি মিজানুর রহমানের সভাপতিত্বে বক্তব্য দেন সমাজকর্মী গোলাম মোস্তফা, ইউপি সদস্য জাহাঙ্গীর আলম ও আনোয়ার হাজী, পরিবেশকর্মী আরিফুর রহমান ও শফিকুল ইসলাম প্রমুখ। তারা বিষখালী নদীসংলগ্ন কালমেঘা বাজার থেকে দক্ষিণ কুপধন পর্যন্ত প্রায় পাঁচ কিলোমিটার খালটি দ্রুত পুনঃখননের আহ্বান জানান।
খলিলুর রহমান আরও উল্লেখ করেন, "আগে এই এলাকায় কয়েক শ একর জমিতে আলুর চাষ হতো। এখন পানির সংকটে অনেক কৃষক জমি চাষ কমিয়ে দিচ্ছেন, কেউ কেউ পুরোপুরি অন্য ফসলে চলে যাচ্ছেন।"
প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা
পাথরঘাটা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা শিপন চন্দ্র ঘোষ জানান, মরা খালের কারণে কৃষি উৎপাদনে দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব পড়ছে। সেচসুবিধা না থাকায় রূপদোন ও কুপধন এলাকায় আগের চেয়ে আলু চাষ কমেছে। তিনি বলেন, "সরকারের খাল খনন অগ্রাধিকার ভিত্তিতে শুরু হলে এই এলাকায় আলু চাষসহ কৃষি উৎপাদন বাড়বে।"
এ ব্যাপারে পাথরঘাটার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাপস পাল বলেন, খাল পুনঃখননের কাজ ধাপে ধাপে এগোচ্ছে এবং অগ্রাধিকার তালিকায় কালমেঘা খাল রয়েছে।
দক্ষিণ কুপধন আলুচাষি সমিতির উদ্যোগে আয়োজিত এই মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারীরা আশা প্রকাশ করেন যে দ্রুত খাল পুনঃখননের মাধ্যমে এলাকার কৃষি উৎপাদন ও অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নতি ঘটবে।



