শ্রীমঙ্গলের চা–বাগানে বৃষ্টির ছোঁয়ায় ফিরেছে সবুজের প্রাণ
শ্রীমঙ্গলের চা–বাগানে বৃষ্টিতে ফিরেছে সবুজের প্রাণ

শ্রীমঙ্গলের চা–বাগানে বৃষ্টির পর ফিরেছে সবুজের প্রাণ

মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলার চা–বাগানগুলো দীর্ঘদিনের রুক্ষতা কাটিয়ে প্রাণ ফিরে পেয়েছে। গতকাল শুক্রবার রাত থেকে আজ শনিবার ভোর পর্যন্ত হওয়া বৃষ্টির ছোঁয়ায় বাগানগুলোয় ফিরেছে সতেজ সবুজ ভাব। এই বৃষ্টিপাত চা উৎপাদনের জন্য ইতিবাচক বার্তা নিয়ে এসেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ও প্রভাব

শ্রীমঙ্গল আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আনিসুর রহমানের তথ্য অনুযায়ী, ১৩ মার্চ রাত থেকে ১৪ মার্চ ভোর পর্যন্ত শ্রীমঙ্গলে মোট ৪৪ দশমিক ৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। চলতি সপ্তাহেও এ অঞ্চলে আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে, যা চা–বাগানসহ কৃষি খাতের জন্য ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

চা–বাগানের অবস্থা ও প্রতিক্রিয়া

শীতের শুরুতে গাছ ছাঁটাইয়ের পর দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় অনেক বাগানে কৃত্রিম সেচে পানি দিতে হচ্ছিল। বৃষ্টির ছোঁয়ায় ধুলাবালু ধুয়ে চা–বাগানজুড়ে ফিরেছে সতেজতা। ইস্পাহানি জেরিন চা–বাগানের উপমহাব্যবস্থাপক সেলিম রেজা বলেন, ‘শীত শুরুর পর থেকেই আমরা কৃত্রিমভাবে চা–গাছে পানির ব্যবস্থা করে আসছিলাম। দীর্ঘদিন বৃষ্টি না হওয়ায় গাছগুলো কিছুটা রুক্ষ হয়ে পড়েছিল। এই বৃষ্টি চা–বাগানের জন্য খুবই উপকারী।’

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

উৎপাদনের আশা ও সম্ভাবনা

বাংলাদেশীয় চা সংসদের (বিসিএস) সিলেট অঞ্চলের চেয়ারম্যান ও ফিনলে চা ভাড়াউড়া ডিভিশনের মহাব্যবস্থাপক গোলাম মোহাম্মদ বলেন, ‘নতুন চা–গাছ এবং প্রুনিং করা গাছগুলোর জন্য এই বৃষ্টি খুবই উপকারী। ইতিমধ্যে অনেক গাছে কুঁড়ি দেখা যাচ্ছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টি হলে খুব দ্রুত চা–পাতা সংগ্রহ শুরু করা সম্ভব।’ বৃষ্টির পরপরই চা–গাছে কুঁড়ি বের হতে শুরু করেছে, যা মৌসুমের শুরুতেই চা–পাতা সংগ্রহ ও উৎপাদন বাড়াতে পারে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বিভিন্ন বাগানের দৃশ্য

উপজেলার ভাড়াউড়া, জেরিন, ফুলছড়া, কাঘাটলিসহ বিভিন্ন চা–বাগান ঘুরে দেখা গেছে, সবুজ পাতায় ধীরে ধীরে প্রাণ ফিরে পাচ্ছে চা–বাগানগুলো। বৃষ্টির প্রভাবে বাগানগুলোয় এখন উজ্জ্বল সবুজের সমারোহ লক্ষ্য করা যাচ্ছে।

এই বৃষ্টিপাত কেবল চা–বাগানই নয়, পুরো কৃষি খাতের জন্যই আশার আলো বয়ে এনেছে। আবহাওয়া বিভাগের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আরও বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকায় আগামী দিনগুলোতে উৎপাদন বৃদ্ধির অপেক্ষা করছেন চা–কৃষকরা।