কৃষকের উৎপাদিত সবজি ভোক্তা পর্যন্ত পৌঁছাতে বারবার হাতবদল ও দাম বৃদ্ধি
প্রথম আলোর একটি অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে, খেত থেকে ভোক্তা পর্যন্ত সবজি পৌঁছাতে কমপক্ষে পাঁচবার হাতবদল হয়। এই প্রক্রিয়ায় ধাপে ধাপে দাম বেড়ে যায়, যা কৃষক ও ভোক্তা উভয়ের জন্য চাপ সৃষ্টি করছে। উদাহরণস্বরূপ, বগুড়ার মহাস্থান হাটে ৫ টাকার শিম ঢাকায় ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা মূল্যের একটি বিশাল পার্থক্য নির্দেশ করে।
মধ্যস্বত্বভোগী ও চাঁদাবাজির প্রভাব
মধ্যস্বত্বভোগী এবং পরিবহন খাতে চাঁদাবাজির কারণে সবজির দাম ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষকদেরকে 'ধলতা' বাবদ প্রতি মণে ২ কেজি বেশি সবজি দিতে হয়, যা তাদের উৎপাদন খরচ বাড়িয়ে দেয়। এছাড়া, মহাস্থান থেকে যাত্রাবাড়ী পর্যন্ত পথে পথে ট্রাক থেকে চাঁদা ও কমিশন নেওয়া হয়, যা পণ্যের দাম আরও বাড়িয়ে ভোক্তাদের ওপর আর্থিক চাপ সৃষ্টি করে।
হাতবদলের ধাপসমূহ
সবজি বাজারজাতকরণ প্রক্রিয়ায় নিম্নলিখিত ধাপগুলো লক্ষ্য করা যায়:
- প্রথম ধাপ: কৃষক সরাসরি স্থানীয় হাটে সবজি বিক্রি করেন।
- দ্বিতীয় ধাপ: মধ্যস্বত্বভোগী বা আড়তদাররা কৃষকদের কাছ থেকে সবজি ক্রয় করেন।
- তৃতীয় ধাপ: আড়তদাররা সবজি পরিবহনকারীদের কাছে বিক্রি করেন, যেখানে চাঁদাবাজি শুরু হয়।
- চতুর্থ ধাপ: পরিবহনকারীরা শহরের বাজারে সবজি পৌঁছে দেন, আরও মধ্যস্বত্বভোগী জড়িত হন।
- পঞ্চম ধাপ: খুচরা বিক্রেতারা সবজি ক্রয় করে ভোক্তাদের কাছে বিক্রি করেন, যেখানে চূড়ান্ত দাম নির্ধারিত হয়।
এই বহুস্তরীয় প্রক্রিয়ার ফলে, কৃষকরা ন্যায্য মূল্য পান না এবং ভোক্তারা উচ্চ মূল্য দিতে বাধ্য হন। এটি কৃষি খাতের টেকসই উন্নয়নে একটি বড় বাধা হিসেবে কাজ করছে, যা সরকারি নজরদারি ও নীতিমালার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে।
