জলবায়ু তথ্যে কৃষকের লাভ ১৮ গুণ, ঢাকায় কর্মশালায় উঠে এলো সাফল্যের চিত্র
জলবায়ু তথ্যে কৃষকের লাভ ১৮ গুণ, কর্মশালায় সাফল্য

জলবায়ু তথ্যে কৃষকের লাভ ১৮ গুণ, ঢাকায় কর্মশালায় উঠে এলো সাফল্যের চিত্র

আবহাওয়ার আগাম বার্তা ও জলবায়ুভিত্তিক তথ্যের সঠিক ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষকদের বিনিয়োগের বিপরীতে প্রায় ১৮ গুণ আর্থিক লাভ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে। ‘অ্যাগ্রোমেট ফার্ম স্কুল’ মডেলের অভিজ্ঞতা বিনিময়বিষয়ক এক জাতীয় কর্মশালায় মাঠপর্যায়ের এমন ইতিবাচক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে।

কর্মশালার আয়োজন ও অংশগ্রহণ

বাংলাদেশে জলবায়ুসহিষ্ণু কৃষির প্রসার ও আগাম তথ্যের কার্যকর ব্যবহার নিয়ে রাজধানী ঢাকার একটি হোটেলে বৃহস্পতিবার এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়। রিজিওনাল ইন্টিগ্রেটেড মাল্টি-হ্যাজার্ড আর্লি ওয়ার্নিং সিস্টেম (রাইমস) ও সেভ দ্য চিলড্রেন যৌথভাবে এই কর্মশালার আয়োজন করে। এতে সহায়তা দিয়েছে জার্মান ফেডারেল ফরেন অফিস (জিএফএফও)।

কর্মশালায় কৃষক ও মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তারা বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানে কৃষি মন্ত্রণালয়, উন্নয়ন সহযোগী ও বিভিন্ন কারিগরি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। সেভ দ্য চিলড্রেনের ডেপুটি কান্ট্রি ডিরেক্টর এ এস এম রহমত উল্লাহর উদ্বোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে অনুষ্ঠান শুরু হয়।

অ্যাগ্রোমেট ফার্ম স্কুল মডেলের সাফল্য

কর্মশালায় জানানো হয়, ‘অ্যাগ্রোমেট ফার্ম স্কুল’ মডেলে কৃষকদের ১৮ গুণ লাভের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক বিনিয়োগের বিপরীতেও ৭ গুণ আর্থিক সুফল বা ‘রিটার্ন’ নিশ্চিত হয়েছে। ‘চাইল্ড সেন্টারড অ্যান্টিসিপেটরি অ্যাকশন’ প্রকল্পের আওতায় পটুয়াখালী, গাইবান্ধা ও চট্টগ্রামের নির্বাচিত এলাকায় পাইলট ভিত্তিতে এই কার্যক্রম পরিচালিত হয়।

এর মূল লক্ষ্য ছিল কৃষকদের আবহাওয়া ও জলবায়ুর আগাম তথ্য ব্যবহারের মাধ্যমে সঠিক কৃষি সিদ্ধান্ত গ্রহণে দক্ষ করে তোলা। মাঠপর্যায়ের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জানানো হয়, সময়োপযোগী তথ্যের কারণে কৃষকদের ক্ষয়ক্ষতি অনেক কমেছে।

মাঠপর্যায়ের বাস্তব অভিজ্ঞতা

উদাহরণস্বরূপ, গাইবান্ধার এক কৃষক ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস পেয়ে বপন পিছিয়ে দিয়ে ২৫ হাজার টাকার বীজ রক্ষা করেছেন। চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে আরেক কৃষক বৃষ্টির সতর্কবার্তা পেয়ে কীটনাশক প্রয়োগ স্থগিত করে ৯ হাজার টাকা সাশ্রয় করেছেন এবং প্রায় ৬০ হাজার টাকার ফসল রক্ষা করেছেন।

রাইমসের পরামর্শক আবদুল মুইদ ও ক্লাইমেট সার্ভিস এক্সপার্ট আসিফ উদ্দিন বিন নূর প্রকল্পের ফলাফল উপস্থাপন করেন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আবহাওয়া অধিদপ্তরের পরিচালক মোমেনুল ইসলাম।

প্রাতিষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) মহাপরিচালক মো. আবদুর রহিম বলেন, ডিএই এই অ্যাগ্রোমেট ফার্ম স্কুলের অভিজ্ঞতাকে বিভাগের বিদ্যমান সম্প্রসারণ সেবার সঙ্গে যুক্ত করবে। এতে কৃষকেরা আরও ব্যবহারিক ও জলবায়ুনির্ভর পরামর্শ পাবেন।

রাইমসের কান্ট্রি প্রোগ্রাম লিড রায়হানুল হক খানের ধন্যবাদ জ্ঞাপনের মাধ্যমে কর্মশালাটি শেষ হয়। এই উদ্যোগ জলবায়ু পরিবর্তনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কৃষি খাতের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।