দিনাজপুরে খাল খনন উদ্বোধন: কৃষি ও অর্থনীতিতে ব্যাপক পরিবর্তনের প্রত্যাশা
সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন শুক্রবার (১৩ মার্চ) দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, বর্তমান সরকার একটি পূর্ণাঙ্গ প্যাকেজ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে, যা খাল খনন কর্মসূচির মাধ্যমে কৃষি জমি, মাছ চাষ, হাঁস পালনসহ বিভিন্ন সেক্টরে আর্থিক লাভ বয়ে আনবে।
প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের পদক্ষেপ
মন্ত্রী সাহাপাড়া খাল পুনঃখনন কাজ উদ্বোধনের লক্ষ্যে এলাকা পরিদর্শনকালে বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল খাল খনন, পরিবেশ সংরক্ষণ, কৃষি উন্নয়ন, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং সবুজ বিপ্লব সাধন। এই ধারাবাহিকতায়, দিনাজপুরের কাহারোল উপজেলায় খাল খনন কর্মসূচির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী নিজেই।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, খাল খনন প্রকল্প সম্পন্ন হলে কৃষিতে সেচের পানি ব্যবহার করে এই অঞ্চলে ধানসহ অন্যান্য ফসলের উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে। এর ফলে কৃষকদের ভাগ্য উন্নয়ন হবে এবং সরাসরি জাতীয় জিডিপিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, যা দেশের অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা জোরদার করবে।
সারাদেশে ব্যাপক কর্মসূচির সূচনা
সমাজকল্যাণ মন্ত্রী জানান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে সেদিন সারাদেশের ৫৩টি এলাকায় একযোগে খনন কর্মসূচি শুরু হবে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নিম্নলিখিত সুবিধাগুলো অর্জিত হবে:
- খালের নাব্যতা বৃদ্ধি পাবে, যা শুষ্ক মৌসুমে পানি ধরে রাখতে সহায়তা করবে।
- কৃষকরা সেচের জন্য পর্যাপ্ত পানি পাবেন, ফলে ফসল উৎপাদন বাড়বে।
- খালের দুই পাড়ে ব্যাপক হারে বৃক্ষরোপণ করা হবে, যা পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় ভূমিকা রাখবে।
এই কর্মসূচি শুধুমাত্র কৃষি নয়, বরং মৎস্য ও হাঁস পালনের মতো খাতেও নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করবে, যার মাধ্যমে স্থানীয় জনগণ আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হতে পারবেন।
উপস্থিত বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ
এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, দিনাজপুর-১ আসনের জাতীয় সংসদ সদস্য মো. মনজুরুল ইসলাম, দিনাজপুর জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম, কাহারোল উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. গোলাম মোস্তফা বাদশা এবং সাধারণ সম্পাদক প্রভাষক মো. শামীম আলীসহ অন্যান্য গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। তাদের উপস্থিতি এই প্রকল্পের গুরুত্ব ও ব্যাপকতা তুলে ধরে।
সরকারের এই উদ্যোগকে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা কৃষি ও অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদী ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হবে বলে বিশেষজ্ঞরা মত প্রকাশ করেছেন।
