বৃষ্টিতে আলুখেত তলিয়ে কৃষকদের দুশ্চিন্তা, সৈয়দপুরে ইটভাটার ব্যাপক ক্ষতি
আলু উত্তোলনের ভরা মৌসুমে গত বুধবার ও বৃহস্পতিবার ভোরে আকস্মিক ভারী বৃষ্টিপাতে বগুড়া ও রংপুরের বিভিন্ন এলাকার আলুখেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে জমিতে থাকা আলু পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় স্থানীয় কৃষকরা গভীর দুশ্চিন্তায় পড়েছেন। অন্যদিকে, সৈয়দপুরে একই বৃষ্টিপাতে প্রায় ৫০ লাখ কাঁচা ইট নষ্ট হয়ে গেছে, যা ইটভাটা মালিকদের জন্য ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়েছে।
বগুড়ার শিবগঞ্জে আলু উত্তোলন ব্যাহত
শিবগঞ্জ (বগুড়া) সংবাদদাতার বরাতে জানা যায়, হঠাৎ বৃষ্টিপাতের কারণে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় আলু উত্তোলনের ঠিক আগ মুহূর্তে জমিতে পানি জমে যাওয়ায় আলু উত্তোলন কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে শিবগঞ্জ উপজেলায় প্রায় ১৮ হাজার ৮০০ হেক্টর জমিতে বিভিন্ন জাতের আলুর চাষ করা হয়েছিল। এরই মধ্যে অধিকাংশ জমির আলু উত্তোলন সম্পন্ন হলেও, অবশিষ্ট খেতের আলু পরিপক্ব হওয়ায় কৃষকরা উত্তোলনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। কিছু কিছু খেতে আলু উত্তোলন করে জমিতেই রাখা ছিল, যা বৃহস্পতিবার ভোরের আকস্মিক বৃষ্টিপাতে পানির নিচে তলিয়ে গেছে।
রংপুরের গঙ্গাচড়ায় কৃষকদের উদ্বেগ
গঙ্গাচড়া (রংপুর) সংবাদদাতার প্রতিবেদন অনুসারে, গত বুধবার ভোর রাতে ভারী বর্ষণের ফলে গঙ্গাচড়া এলাকার কৃষকদের আলুর খেত তলিয়ে গেছে। কৃষকরা এখন খেত থেকে পানি নিষ্কাশনের জন্য নিরলসভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, পানি দুই-তিন দিন জমিতে থাকলে আলু পচে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কিসামত হাবু গ্রামের কৃষক হেলাল মিয়া জানান, তার ৪৪ শতক জমির আলু সম্পূর্ণভাবে তলিয়ে গেছে। একই গ্রামের মোনজাব আলী বলেন, তার ৬৬ শতক জমির আলুখেতে পানি জমে আছে। এছাড়া, এফতারুল মেম্বারের প্রায় এক একর জমির উত্তোলনকৃত আলুও পানিতে তলিয়ে গেছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রুবেল হোসেন সতর্ক করে দিয়েছেন যে, পানি চার-পাঁচ দিন জমিতে জমে থাকলে আলু পচে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে, তাই দ্রুত আলু উত্তোলন করতে হবে।
সৈয়দপুরে ইটভাটার ব্যাপক ক্ষতি
সৈয়দপুর (নীলফামারী) সংবাদদাতার তথ্য মতে, সৈয়দপুরে হঠাৎ বৃষ্টিপাতের কারণে ২২টি ইটভাটার প্রায় ৫০ লাখ তৈরি করে রাখা কাঁচা ইট সম্পূর্ণরূপে বিনষ্ট হয়েছে। এতে ইটভাটা মালিকরা ব্যাপক আর্থিক ক্ষতির শিকার হয়েছেন। গত বৃহস্পতিবার ভোরের বৃষ্টির কারণে ঐ ইটগুলো নষ্ট হয়ে যায়। সৈয়দপুর উপজেলার খাতামধুপুর ইউনিয়নের খিয়ারজুম্মা এলাকায় ইটভাটা মালিক মো. সোহেল রানার ইটভাটায় তৈরি করে রাখা ৪ লাখ কাঁচা ইট হঠাৎ বৃষ্টিতে গলে মাটির সঙ্গে মিশে গেছে। তিনি বলেন, কিছু বুঝে উঠার আগেই এ ধরনের বৃষ্টিপাতে তার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সৈয়দপুর শহরের পাশে কামারপুকুর ইউনিয়নের ১০টি ইটভাটায়ও বৃষ্টির কারণে ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে, যেখানে প্রতিটি ইটভাটায় দুই থেকে আড়াই লাখ কাঁচা ইট গলে গেছে। কয়েক দিনের মধ্যে এসব ইট পোড়ানোর কথা ছিল বলে জানা গেছে। ইটভাটা মালিকদের একটি সূত্র জানায়, জেলায় প্রায় ৫৩টি ইটভাটায় এ বৃষ্টির কারণে ক্ষতির মুখে পড়েছেন ইটভাটা মালিকরা। তারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এ কারণে বাজারে ইটের দাম বাড়তে পারে, যা নির্মাণ শিল্পে প্রভাব ফেলতে পারে।
