পটুয়াখালীতে রঙিন ফুলকপি চাষে নারী উদ্যোক্তার সাফল্য
পটুয়াখালীর দশমিনা উপজেলার বহরমপুর ইউনিয়নের নারী কৃষি উদ্যোক্তা সালেহা বেগম রঙিন ফুলকপি চাষ করে স্থানীয় কৃষিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছেন। তার এই উদ্যোগ শুধু অর্থনৈতিক সাফল্যই বয়ে আনেনি, বরং অন্যান্য কৃষকদেরও অনুপ্রাণিত করছে। সালেহা বেগমের চাষাবাদ পদ্ধতি ও ফলাফল নিয়ে বিস্তারিত জানানো হলো।
রঙিন ফুলকপির বিশেষত্ব ও চাষ পদ্ধতি
সালেহা বেগমের মতে, রঙিন ফুলকপি শুধু দেখতেই সুন্দর নয়, এর পুষ্টিগুণও প্রচলিত সাদা ফুলকপির চেয়ে বেশি। তিনি বিশেষ করে হলুদ জাতের 'ক্যারোটিনা ইয়েলো' নামের ফুলকপি চাষে সাফল্য পেয়েছেন, যা উচ্চ বিটা-ক্যারোটিন সমৃদ্ধ। শুধুমাত্র জৈব সার ব্যবহার করে এই ফুলকপি চাষ করা যায়, যা পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্যসম্মত। অনুকূল আবহাওয়া, সময়মতো বীজ বপন এবং সুষম সার ব্যবহারের মাধ্যমে তিনি ভালো ফলন অর্জন করেছেন।
চাষের বিস্তারিত ও অর্থনৈতিক সুবিধা
সালেহা বেগম উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের এসএসিপি-রেইনস প্রকল্পের আওতায় ৩৩ শতাংশ জমিতে রঙিন ফুলকপি চাষ করেছেন। তিনি এ বছর হলুদ, সবুজ, বাসন্তি, বেগুনি, গোলাপি ও সাদা রঙের ফুলকপির চাষাবাদ সম্পন্ন করেছেন। তার মতে, রঙিন ফুলকপি থেকে অর্জিত লাভ তাকে আরও বেশি করে এ ধরনের চাষে উৎসাহিত করেছে। বাজারে রঙিন ফুলকপির প্রচুর চাহিদা রয়েছে এবং চড়া দাম পাওয়া যাচ্ছে। অল্প জমিতে কম পরিমাণ চাষাবাদ করেও তিনি অধিক আয়ের কথা উল্লেখ করেছেন, যা কৃষকদের জন্য একটি লাভজনক বিকল্প হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।
স্থানীয় প্রভাব ও কৃষি বিভাগের ভূমিকা
সালেহা বেগমের সাফল্য দেখে অন্য কৃষকরাও 'ক্যারোটিনা ইয়েলো' ও ব্রকলিসহ রঙিন সব ফুলকপি চাষে আগ্রহ দেখাচ্ছেন। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. জাফর আহমেদ বলেন, "রঙিন ফুলকপি বাংলাদেশের কৃষিতে একটি নতুন ও লাভজনক ফসল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। প্রচলিত সাদা ফুলকপির তুলনায় এটি বেশি বিটা-ক্যারোটিন ধারণ করে এবং বাজারে চাহিদাও বেশি। ফলে কৃষকরা স্বল্প সময়ে ভালো লাভবান হতে পারেন।" উপজেলা কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে কৃষকদের এ ধরনের চাষাবাদে আগ্রহী করা হচ্ছে এবং বিভিন্নভাবে সহযোগিতা প্রদান করা হচ্ছে।
ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা
কম উৎপাদন খরচ এবং বেশি লাভের কারণে রঙিন ফুলকপি চাষ দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠবে বলে মনে করেন সালেহা বেগম। তার এই উদ্যোগ শুধু দশমিনা উপজেলায়ই নয়, সারাদেশের কৃষকদের জন্য একটি অনুপ্রেরণাদায়ক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। রঙিন ফুলকপি চাষ কৃষি খাতের বৈচিত্র্য বাড়ানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
