মাদকবিরোধী অভিযানে ১১ দিনে ২৫৯ কেজি গাঁজা উদ্ধার, গ্রেফতার ১ হাজার ৪১৮ জন
মাদকবিরোধী অভিযানে ১১ দিনে ২৫৯ কেজি গাঁজা উদ্ধার

দেশজুড়ে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানে গত ১১ দিনে ২৫৯ কেজি গাঁজা উদ্ধার করেছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর (ডিএনসি)। একই সময়ে সারা দেশে গ্রেফতার করা হয়েছে ১ হাজার ৪১৮ জনকে। মঙ্গলবার (১২ মে) ডিএনসির তথ্য অনুযায়ী, ১ মে থেকে ১১ মে পর্যন্ত সারা দেশে ৪ হাজার ১৮৭টি অভিযান পরিচালনা করা হয়। এসব অভিযানে ৩২৭টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারদের মধ্যে তালিকাভুক্ত মাদক কারবারিও রয়েছেন।

উদ্ধারকৃত মাদক ও জব্দকৃত সম্পদ

ডিএনসির কর্মকর্তারা জানান, অভিযানে ২৫৯ কেজি গাঁজার পাশাপাশি উদ্ধার করা হয়েছে ২ লাখ ৯৬ হাজার ৬৬ পিস ইয়াবা, ৩৭৫ বোতল ফেনসিডিল, ৪৮ বোতল বিদেশি মদ, ১৬ হাজার ৬৩৭ পিস টাপেন্টাডল ট্যাবলেট, ৩৪৩ লিটার চোলাই মদ, ১৭১ গ্রাম হেরোইন, ১ হাজার ৪৪৯ পিস অ্যাম্পুল ইনজেকশন, ১৫ গ্রাম আইস এবং ৭ ক্যান বিয়ার। এছাড়া জব্দ করা হয়েছে ১০ লাখ ৮ হাজার ১৫০ টাকা ও ১৮টি মোবাইল ফোনসেট।

ভ্রাম্যমাণ আদালত ও তাৎক্ষণিক সাজা

এ সময় ১ হাজার ৪০টি ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে মাদক সেবনকারী ও বিক্রেতাদের তাৎক্ষণিক সাজা দেওয়া হয়েছে। ডিএনসির উপ-পরিচালক (অপারেশন্স) মুকুল জ্যোতি চাকমা বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে 'জিরো টলারেন্স' নীতি অনুসরণ করে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এতে তালিকাভুক্ত অনেক মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা সম্ভব হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রাজধানীতে সমন্বিত অভিযান

ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) জানিয়েছে, ১ মে থেকে ১১ মে পর্যন্ত রাজধানীতে চাঁদাবাজি ও মাদক ব্যবসার অভিযোগে ১ হাজার ২৪৩ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে পুলিশের তালিকাভুক্ত ১৬৫ জন চাঁদাবাজ রয়েছেন। এছাড়া তালিকার বাইরে আরও ৩১৮ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। ডিএমপি জানায়, একই সময়ে ডাকাতিসহ বিভিন্ন অপরাধে ৪০৪ জন এবং মাদক ব্যবসার অভিযোগে ৩৫৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ডিএমপির ডিসি (মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স) এন এম নাসিরুদ্দিন বলেন, মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় চাঁদাবাজি, মাদক ব্যবসা, অবৈধ অস্ত্র প্রদর্শন ও অনলাইন জুয়া সংক্রান্ত অভিযোগ বৃদ্ধির পর সমন্বিত নিরাপত্তা কৌশল নেওয়া হয়েছে। অপরাধপ্রবণ এলাকায় ব্লক রেইড, গোয়েন্দা নজরদারি ও সিসিটিভি পর্যবেক্ষণ বাড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, ডিবি, সাইবার মনিটরিং টিম এবং আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে অপরাধীদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। বাজার, টার্মিনাল, কাঁচাবাজার ও স্পর্শকাতর এলাকায় নিয়মিত টহল ও ঝটিকা অভিযান চলছে।

ছয় অগ্রাধিকার নিয়ে বিশেষ অভিযান

আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানিয়েছে, গত ১ মে থেকে শুরু হওয়া বিশেষ অভিযানে ছয়টি বিষয়ে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এগুলো হলো—চাঁদাবাজি প্রতিরোধে হটস্পটভিত্তিক নজরদারি, মাদক নির্মূলে ব্লক রেইড ও বিশেষ চেকপোস্ট, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারে গোয়েন্দা তৎপরতা বৃদ্ধি, সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক ধ্বংসে সমন্বিত অভিযান, সাইবার প্রতারণা ও অনলাইন জুয়া দমন এবং কমিউনিটি পুলিশিং জোরদার।

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির বলেন, মাদক দেশের যুব সমাজ ও জাতির ভবিষ্যতের জন্য বড় হুমকি। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুলিশ সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দক্ষতার সঙ্গে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন, পুলিশ বাহিনীর কোনও সদস্য মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকলে তাকে কোনও ছাড় দেওয়া হবে না। অভিযুক্ত সদস্যদের ইতোমধ্যে আইনের আওতায় আনা হয়েছে বলেও জানান তিনি।