জামালপুরে ৮০০ কেজির ‘ক্রিস গেইল’ কিনতে ক্রেতাদের ভিড়
জামালপুরে ৮০০ কেজির ‘ক্রিস গেইল’ কিনতে ভিড়

ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে জামালপুর পৌর শহরের পাথালিয়া এলাকার ময়না এগ্রো ফার্মের বিশাল আকৃতির গরু ‘ক্রিস গেইল’ আলোচনায় উঠে এসেছে। ৮০০ কেজি ওজনের এই গরুটি কিনতে ইতিমধ্যেই ফার্মে ভিড় করছেন ক্রেতারা। তবে প্রত্যাশিত দাম পাওয়ার আশায় ঈদের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে রাজি আছেন গরুটির মালিক মো. দিয়া মিয়া।

গরুটির পরিচিতি ও নামকরণ

খামারের মালিক দিয়া মিয়া গণমাধ্যমকে জানান, তিন বছর আগে এক খামারির কাছ থেকে ৬৫ হাজার টাকা দিয়ে গরুটি কেনা হয়। তখন গরুটির বয়স ছিল ছয় মাস। কেনার পর তিনি গরুটির নাম রাখেন ‘ক্রিস গেইল’, কারণ তিনি ওয়েস্ট ইন্ডিজের ক্রিকেটার ক্রিস গেইলের ভক্ত। তিন বছর লালন-পালনের পর বর্তমানে গরুটির উচ্চতা ৫ ফুট ৬ ইঞ্চি, দৈর্ঘ্য ৬ ফুট ৬ ইঞ্চি এবং ওজন প্রায় ৮০০ কেজি।

দাম নিয়ে দরকষাকষি

খামার সূত্রে জানা গেছে, গরুটি বিক্রির জন্য দিয়া মিয়া দাম চাচ্ছেন ৬ লাখ টাকা। ইতিমধ্যে অনেক ক্রেতা গরুটি কিনতে এসেছেন, কিন্তু প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় তিনি এখনও বিক্রি করেননি। তিনি ঈদের দিন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে রাজি আছেন। দিয়া মিয়া বলেন, ‘ক্রিস গেইল’ অনেক মায়াবী একটি গরু। আমি কখনো ওকে একটি বেত আঘাত করতে দেইনি। ওকে যখন আমার খামার থেকে নিয়ে যাবে তখন আমার কেমন লাগবে সেটা একমাত্র আমিই জানি। ওর সামনে কেউ দামাদামি করলে ওর যেমন খারাপ লাগে, ওর চোখ দিয়ে পানি পড়ে, তেমন আমারও খারাপ লাগে, আমারও চোখ দিয়ে পানি পড়ে। আমি এটার দাম চাচ্ছি ৬ লাখ। অনেকে দাম করেছে কিন্তু আমার প্রত্যাশিত দাম কেউ বলেনি। আমি ঈদের দিন পর্যন্ত দেখবো।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

ক্রেতার মতামত

‘ক্রিস গেইল’কে কেনার উদ্দেশ্যে দেখতে আসা আব্বাস বেপারি (৬৫) বলেন, ‘আমি অন্য বেপারিদের কাছে শুনলাম এই খামারে বড় গরু আছে। গরুটি ভালো জাতের, উঁচা-লম্বা, মাংস ভালোই হবে। তবে গরুর মালিক যে দাম চাচ্ছে, ওই দামে আমি গরুটি নিতে পারবো না। ওই দামে নিয়ে আমি বিক্রি করে লাভ করতে পারব না।’

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রাণিসম্পদ দপ্তরের বক্তব্য

জেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের প্রশিক্ষণ কর্মকর্তা ডা. এ.টি.এম হাবিবুর রহমান গণমাধ্যমে বলেন, ‘আমি ময়না এগ্রো ফার্মের সবচেয়ে বড় গরু ‘ক্রিস গেইল’-এর কথা শুনেছি। আমাদের মেডিকেল টিম গিয়ে দেখেও এসেছে। আমাদের সারা জেলায় মোট ১ লাখ ৭ হাজার ৬৫টি কুরবানির পশু প্রস্তুত আছে। জেলার কুরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৮২ হাজার ১৫টি। আমাদের কাছে যে পশু আছে তা দিয়ে জেলার চাহিদা মিটিয়ে আরও প্রায় ২৫ হাজার পশু ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় পাঠাতে পারব। আমরা খামারগুলোতে যাচ্ছি এবং খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিচ্ছি।’