সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে আহত মৌয়াল বাবলু গাজী
সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে আহত মৌয়াল বাবলু গাজী

সুন্দরবনের গভীরে মধু সংগ্রহ করতে গিয়ে বাঘের মুখ থেকে বেঁচে ফিরেছেন বাবলু গাজী (৪৮) নামের এক মৌয়াল। সহযাত্রী মৌয়ালদের সাহসী প্রতিরোধ আর লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত বাঘের থাবা থেকে উদ্ধার করা সম্ভব হলেও গুরুতর আহত হয়েছেন তিনি।

ঘটনার বিবরণ

গতকাল রোববার সকাল আটটার দিকে সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের কাছিকাটা এলাকার পায়রাটুনি খাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর আজ সোমবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে তাঁকে লোকালয়ে নিয়ে আসা হয়।

বাবলু গাজী সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুরা ইউনিয়নের ডুমুরিয়া গ্রামের মালেক গাজীর ছেলে। চিকিৎসার জন্য প্রথমে তাঁকে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এবং পরে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

চিকিৎসা ও অবস্থা

বিষয়টি নিশ্চিত করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগের প্রধান শরিফুল ইসলাম আজ সকালে প্রথম আলোকে বলেন, ওই রোগীর অবস্থা আপাতত স্থিতিশীল। তাঁর শরীরে অনেকটা ক্ষত আছে, তাঁর অস্ত্রোপচার করতে হবে।

প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনা

মৌয়াল দলটির নেতা ইউসুফ গাজী বলেন, গত বুধবার সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন থেকে বৈধ পাস নিয়ে ১১ সদস্যের একটি দল সুন্দরবনে মধু সংগ্রহে যায়। বাবলু গাজী ও তাঁর বাবা মালেক গাজীও সেই দলে ছিলেন। গতকাল সকালে পায়রাটুনি খাল এলাকায় মধুর চাক খোঁজা হচ্ছিল। বাবলু গাজী ছিলেন একটু সামনে। এ সময় ঝোপের আড়াল থেকে অতর্কিত বাবুলের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে একটি বাঘ। মুহূর্তের মধ্যে অন্য মৌয়ালরা চিৎকার করে লাঠিসোঁটা নিয়ে বাঘটির ওপর পাল্টা আক্রমণ চালায়। প্রায় ১৫ মিনিট ধরে চলে মানুষ আর বাঘের এই লড়াই। একপর্যায়ে বাঘটি বাবলুকে ছেড়ে দিয়ে জঙ্গলের ভেতরে চলে যায়। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাঁকে উদ্ধার করে বনসংলগ্ন এলাকায় প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

বাবুলের বাবা মালেক গাজী বলেন, ‘পোলার নে একলগে মধু ভাঙতি গেলাম। হঠাৎ বাঘ অ্যাসে পোলার উপর ঝাঁপ দে পড়ল। পরে লাঠিসোঁটা নে আমরা বাঘের উপর ঝাঁপ দে পড়ি। ১৫-২০ মিনিট ধুরে ৫-৬ জন বাঘের তরে নড়াই কুরে পোলাডারে বাঁচাতি পারেছি। কিন্তু তাঁর শরীরের অনেক জায়গায় জখম হইছে।’

মৌয়ালদের ঝুঁকি

সুন্দরবনে মধু সংগ্রহ করতে যাওয়া মানেই মৃত্যুর ঝুঁকি বলে জানান মৌয়াল আরাফাত গাজী। তিনি বলেন, কখনো বাঘ, কখনো কুমির, আবার কখনো বনদস্যুদের আতঙ্কে থাকতে হয়। এর সঙ্গে আছে মহাজনদের চাপ। সংগ্রহ করা মধু মহাজনদের কাছে নির্ধারিত দামে বিক্রি করতে বাধ্য হন তাঁরা।

বন বিভাগের বক্তব্য

বন বিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশনের কর্মকর্তা ফজলুল হক বলেন, একজন মৌয়াল বাঘের আক্রমণে আহত হয়েছেন বলে তাঁরা জানতে পেরেছেন। আহত ব্যক্তির স্বজনেরা এখনো সরাসরি যোগাযোগ করেননি। তবে তাঁর চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।