ঈশ্বরদী আবহাওয়া অফিসের জরাজীর্ণ অবস্থা
জরাজীর্ণ ভবন, ভাঙাচোরা সীমানাপ্রাচীর আর কার্যালয়ের অভ্যন্তরে মাদকসেবীদের অবাধ যাতায়াত। প্রথম দেখায় যে কারও মনে হতে পারে এটি কোনো পরিত্যক্ত আবাসিক এলাকা। অথচ এটি দীর্ঘদিনের জনবল সংকট ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত ঈশ্বরদীস্থ বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের কার্যালয়। প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন পরিচালিত এই স্থাপনাটি একটি পাইলট বেলুন পর্যবেক্ষণাগার।
প্রতিষ্ঠার ইতিহাস ও বর্তমান অবস্থা
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ঈশ্বরদী বিমানবন্দর এলাকার ভেতরে ১৯৬৫ সালে প্রায় ৫ একর জমির ওপর সরকারি উদ্যোগে এই পাইলট বেলুন পর্যবেক্ষণাগার প্রতিষ্ঠিত হয়। শুরুতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য একাধিক আবাসিক ভবন ও একটি পর্যবেক্ষণাগার নির্মাণ করা হলেও দীর্ঘদিন সংস্কার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে পুরো এলাকাজুড়ে এখন বিরাজ করছে ভুতুড়ে পরিবেশ। তদারকির অভাবে ভবনগুলোর দরজা, জানালা, এমনকি জানালার গ্রিল পর্যন্ত চুরি হয়ে গেছে।
যন্ত্রপাতির অপ্রতুলতা
এদিকে আবহাওয়া পরিমাপের জন্য ব্যবহৃত দুটি যন্ত্রের মধ্যে একটি দীর্ঘদিন ধরে বিকল। ফলে একটি যন্ত্র দিয়েই কোনোমতে আবহাওয়া পর্যবেক্ষণের কাজ চালিয়ে যেতে হচ্ছে সংশ্লিষ্টদের। স্থানীয়দের অভিযোগ, পরিত্যক্ত আবাসিক ভবনগুলো এখন মাদকসেবীদের আড্ডাখানায় পরিণত হয়েছে। স্থানীয় ও বহিরাগতদের আনাগোনায় দিন-রাত সেখানে চলে নানা ধরনের অবৈধ কর্মকাণ্ড।
কর্মকর্তাদের বক্তব্য
আবহাওয়া অফিসের সহকারী পর্যবেক্ষক নাজমুল হক রঞ্জন জানান, ভারত থেকে আনা অটোমেটিক ওয়েদার স্টেশন (অ্যাওয়াস) স্থাপন করা হলেও সেটি একদিনের জন্যও চালু করা সম্ভব হয়নি। নির্জন এলাকা হওয়ায় এবং কোনো নিরাপত্তা প্রহরী না থাকায় রাতের দায়িত্ব পালনের সময় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে হয়। পাশাপাশি জনবল সংকটের কারণে দিন-রাত মিলিয়ে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে হলেও বাড়তি কর্ম-ঘণ্টার জন্য কোনো আর্থিক সুবিধা নেই।
ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার মন্তব্য
ঈশ্বরদী আবহাওয়া পর্যবেক্ষণ অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হেলাল উদ্দিন বলেন, “১৪ জনের জনবল কাঠামোর বিপরীতে বর্তমানে মাত্র ৬ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী দিয়ে অফিসের কার্যক্রম চালাতে হচ্ছে। এতে সবাইকে অতিরিক্ত চাপ নিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। আবাসিক ভবনগুলো বসবাসের অনুপযোগী হয়ে দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত পড়ে আছে। ফলে সেখানে ভুতুড়ে পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। ভবনগুলোর দরজা-জানালাও অনেক আগেই চুরি হয়ে গেছে।”



