বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম আমিত শুক্রবার বলেছেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে কৃষকদের ক্ষতি পূরণে সহায়তা করতে সরকার কৃষকদের জন্য ফসল বীমা চালু করবে।
বর্তমান মৌসুমের জন্য সরকারের বোরো ধান সংগ্রহ কর্মসূচির উদ্বোধনকালে তিনি এই ঘোষণা দেন।
জেলা প্রশাসন এবং খাদ্য অধিদপ্তরের যৌথ আয়োজনে শহরের রেল রোডে অবস্থিত সরকারি সাইলোতে এই অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।
প্রধান অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ফসল বীমা প্রকল্প বন্যা, ঝড়, খরা এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের আর্থিক সুরক্ষা প্রদান করবে, যা তাদের দুর্বলতা কমিয়ে কৃষি উৎপাদনে অধিকতর নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।
তিনি আরও বলেন, কৃষক কার্ড চালুর মাধ্যমে সরকার ইতিমধ্যে কৃষকদের জন্য তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন শুরু করেছে। এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকরা ভর্তুকি মূল্যে কৃষি উপকরণ কিনতে এবং প্রয়োজন হলে স্বল্প সুদে কৃষি ঋণ পেতে সক্ষম হচ্ছেন।
আমিত বলেন, কৃষক সম্প্রদায়ের প্রতি সমর্থনের অংশ হিসেবে সরকার ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষি ঋণও মওকুফ করেছে।
দেশের কৃষি অগ্রগতি তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের কৃষি উন্নয়নের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান। খনন কর্মসূচি এবং উন্নত সার, বীজ ও কৃষি যন্ত্রপাতি প্রবর্তনের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে তিনি এই ভিত্তি গড়ে তোলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারিক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার কৃষি খাতে গতি বজায় রাখতে সেই উদ্যোগগুলো পুনরুজ্জীবিত করেছে।
বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও, সরকার কৃষকের চাহিদা অনুযায়ী বিদ্যুৎ, ডিজেল ও সারের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে, যা এ মৌসুমে বোরো ধানের বাম্পার ফলনে ভূমিকা রেখেছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
ধান সংগ্রহে যেকোনো অনিয়মের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সতর্ক করেন আমিত এবং কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন।
প্রান্তিক কৃষকদের কাছ থেকে সরাসরি ধান ক্রয়ের মাধ্যমে বোরো সংগ্রহ কার্যক্রমের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন প্রতিমন্ত্রী। পরে তিনি অনুষ্ঠানস্থলে একটি গাছ রোপণ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ আশেক হাসান।
পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সফাউর রহমান, সদর উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা মো. মামুনুর রহমান, জেলা পরিষদ প্রশাসক দেলোয়ার হোসেন খোকন, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শাহরিয়ার হক এবং জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
সফাউর রহমান জানান, এ বোরো মৌসুমে যশোর জেলার জন্য সংগ্রহ লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ হাজার ১৬৬ টন। সরকার ধানের সংগ্রহ মূল্য প্রতি কেজি ৩৬ টাকা নির্ধারণ করেছে।
কৃষকরা সরকারি সংগ্রহ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন, বলেছেন এটি তাদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য পেতে সহায়তা করবে।



