চাকরির পেছনে না ছুটে নিজের জমিতেই মরুভূমির ফল আঙুর চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার তরুণ উদ্যোক্তা ইকরাম খান। উপজেলার ফরাজীকান্দি ইউনিয়নের ছোট হলদিয়া গ্রামে পৈতৃক ১৮ শতক জমিতে গড়ে তোলা এই বাগানে এখন শোভা পাচ্ছে ১৫০ জাতের আঙুর। মাত্র কয়েক বছরেই ফল ও চারা বিক্রি করে ইকরাম আয় করেছেন ৯ লাখ টাকারও বেশি।
শুরুটা ছাদ বাগান থেকে
বিএডিসির সাবেক উপ-প্রকৌশলী সায়েদুল ইসলাম খানের ছেলে ২৬ বছর বয়সী ইকরাম খান ২০১৯ সালে এইচএসসি পাস করেন। চাকরির কাঙ্ক্ষিত সুযোগ না পেয়ে ২০২১ সালে প্রবাসে থাকা বড় ভাইয়ের মাধ্যমে ইন্দোনেশিয়া থেকে একটি আঙুরের চারা সংগ্রহ করেন। বাড়ির ছাদে লাগানো সেই চারায় এক বছর পরেই ফল আসে। সেই সফলতাই তাকে বড় পরিসরে বাগান করতে উৎসাহিত করে।
পূর্ণাঙ্গ বাগান গড়ে তোলা
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিদেশ থেকে অনলাইনে ও বিভিন্ন মাধ্যমে আরও ১৫০টি উন্নত জাতের চারা সংগ্রহ করে পূর্ণাঙ্গ বাগান শুরু করেন ইকরাম। মালচিং পদ্ধতিতে গড়ে তোলা এই বাগানে এখন থোকায় থোকায় ঝুলছে লাল, সবুজ ও হলুদ রঙের আঙুর। তার বাগানে বর্তমানে রয়েছে— ব্ল্যাক ম্যাজিক, গ্রিনলন, ভ্যালেজ, সুপারনোভা ও এঞ্জেলিকাসহ বিশ্বখ্যাত সব উন্নত জাত।
বছরে ৯ লাখ টাকা আয়
ইকরাম জানান, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে বাগানে আঙুর পাকা শুরু হয়। এখন পর্যন্ত প্রায় ৬৫০ কেজি বিষমুক্ত আঙুর উৎপাদন হয়েছে। পরিবারের চাহিদা মিটিয়ে প্রায় ৩ লাখ টাকার আঙুর বিক্রি করেছেন তিনি। এর পাশাপাশি মিষ্টি জাতের আঙুর চারা বিক্রি করে আয় করেছেন আরও ৬ লাখ টাকা। সব মিলিয়ে বছরে তার মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৯ লাখ টাকার ওপরে। তার বাগানে ৩০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা মূল্যের চারা পাওয়া যাচ্ছে।
বাজারে না গিয়েই বিক্রি
ইকরামের আঙুর মিষ্টি ও রসালো হওয়ায় বাজারে নিতে হয় না। ক্রেতারা সরাসরি বাগানে এসেই ফল কিনে নিয়ে যাচ্ছেন। এছাড়া অনলাইনের মাধ্যমেও চারা ও ফল বিক্রি করছেন তিনি। তার এই সফলতা দেখে স্থানীয় অনেক বেকার যুবক এখন আঙুর চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
স্থানীয়দের প্রতিক্রিয়া
স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুল হালিম বলেন, পরিশ্রম আর ধৈর্য থাকলে যে সফল হওয়া যায়, ইকরাম তার জ্বলন্ত উদাহরণ। আমরা চাই স্থানীয় অন্য তরুণরাও তাকে দেখে উৎসাহিত হোক। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফয়সাল মোহাম্মদ আলী বলেন, "ইকরামের বাগানটি আমি পরিদর্শন করেছি। বিষমুক্ত ও সুস্বাদু আঙুর চাষ করে সে এলাকায় দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। কৃষি অফিসের পক্ষ থেকে তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সব ধরণের সহযোগিতা প্রদান করা হবে।"



