রৌমারীতে জরাজীর্ণ কৃষি কোয়ার্টার, মাদকের আখড়ায় পরিণত
রৌমারীতে জরাজীর্ণ কৃষি কোয়ার্টার, মাদকের আখড়া

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় কৃষি বিভাগের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের (বিএস) জন্য নির্মিত কোয়ার্টারগুলো এখন জরাজীর্ণ অবস্থায় পরিত্যক্ত পড়ে আছে। যথাযথ রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এই ভবনগুলো বর্তমানে স্থানীয় বখাটে ও মাদকসেবীদের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত হয়েছে। এতে একদিকে গ্রামের যুবসমাজ ধ্বংসের পথে ধাবিত হচ্ছে, অন্যদিকে কৃষি পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন প্রত্যন্ত অঞ্চলের সাধারণ কৃষকরা।

স্থানীয়দের দাবি ও বর্তমান অবস্থা

স্থানীয়দের দাবি, এই ভবনগুলো দ্রুত সংস্কার করে পুনরায় ব্যবহারের উপযোগী করা হোক যেন কৃষক ও যুবসমাজ উভয়েই উপকৃত হয়। সরেজমিনে গত ৭ মে উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন ঘুরে দেখা গেছে এক হতাশাজনক চিত্র। বন্দবেড় ইউনিয়নের বাঞ্ছারচর বাজার, দাঁতভাঙ্গা বাজার, শৌলমারী ইউনিয়নের বড়াইকান্দি বাজার, রৌমারী সদর ইউনিয়নের চুলিয়ারচর, মির্জাপাড়া এবং রৌমারী বাজার ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন কোয়ার্টারগুলো ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে।

একতলা এই ভবনগুলোর ছাদ ও দেয়ালের পলেস্তারা খসে পড়ছে, দরজা-জানালাসহ মূল্যবান আসবাবপত্র চুরি হয়ে গেছে। কোয়ার্টারগুলোর ভেতরে ও চারপাশে ঝোপ-জঙ্গল তৈরি থাকায় রাতের আঁধারে কিশোর ও যুবকরা সেখানে বসে মাদকের আড্ডা জমায়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কৃষি সেবায় প্রভাব

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, মূলত ইউনিয়ন পর্যায়ে কৃষকদের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যেই এই বিএস কোয়ার্টারগুলো নির্মিত হয়েছিল। প্রতিটি কোয়ার্টারে দুটি শয়নকক্ষ, একটি রান্নাঘর ও বাথরুম রয়েছে। আশির দশকে সরকার সিড গোডাউনগুলোকে সংস্কার করে কৃষি কর্মকর্তাদের বসবাসের উপযোগী করেছিল। সেই সময় কর্মকর্তারা এখানে অবস্থান করে কৃষকদের সার, বীজ এবং চাষাবাদের আধুনিক পরামর্শ দিতেন।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কিন্তু বর্তমানে ভবনগুলো বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় মাঠ পর্যায়ের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তারা নিজ নিজ এলাকায় অবস্থান করতে পারছেন না, যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্থানীয় কৃষি উৎপাদনে। চুলিয়ারচর ও দাঁতভাঙ্গা এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তারা ছোটবেলা থেকেই ভবনগুলোকে অযত্নে পড়ে থাকতে দেখছেন। বর্তমানে এগুলো কেবল মাদকের আখড়া ছাড়া আর কিছুই নয়।

কৃষকের প্রতিক্রিয়া

শৌলমারী এলাকার কৃষক আমিনুল ইসলাম আক্ষেপ করে বলেন, আগে বিএস কোয়ার্টারে কর্মকর্তা থাকায় সরাসরি পরামর্শ পাওয়া যেত। এখন কোয়ার্টার না থাকায় কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা কঠিন হয়ে পড়েছে, ফলে ফসলি জমির সমস্যা নিয়ে সময়মতো সমাধান পাওয়া যাচ্ছে না। স্থানীয়দের দাবি, সরকার যদি পুরনো ভবনগুলো ভেঙে আধুনিক কৃষি সেবা কেন্দ্র ও কর্মকর্তাদের আবাসস্থল নির্মাণ করে, তবে সরকারি সম্পত্তি দখলের হাত থেকে রক্ষা পাবে এবং এলাকার কৃষিচিত্র বদলে যাবে।

কৃষি কর্মকর্তার বক্তব্য

এই বিষয়ে রৌমারী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, বিএস কোয়ার্টারগুলো কৃষি মন্ত্রণালয়ের নিজস্ব সম্পত্তি। এগুলো দীর্ঘদিন পরিত্যক্ত থাকায় জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। কোয়ার্টারগুলো নতুন করে নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা স্বীকার করে তিনি জানান, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে জানানো হয়েছে। ভবনগুলো নতুন করে থাকার উপযোগী করা হলে কৃষকরা সহজেই কৃষি কর্মকর্তাদের কাছ থেকে সরাসরি সেবা ও পরামর্শ সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন।