গৌরীপুরে বন্যায় ধান ও সবজির ব্যাপক ক্ষতি, কৃষকরা দুর্ভোগে
গৌরীপুরে বন্যায় ধান ও সবজির ব্যাপক ক্ষতি

ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলায় ভারি বৃষ্টিপাত ও খাল ভরাটের কারণে সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় বোরো ধান ও শাকসবজির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। কৃষি অফিসের হিসাবে প্রায় ৫ হাজার ১০০ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন এবং মোট ৮ কোটি ২ লাখ ১৫ হাজার টাকার ফসল নষ্ট হয়েছে।

পানির নিচে ধান পচন

উপজেলার বিভিন্ন বিল ও জলাশয়ে কয়েক দিনের ভারি বৃষ্টির পানি জমে আছে। খাল ভরাট ও অপরিকল্পিত পুকুর খননের কারণে পানি নিষ্কাশন হচ্ছে না। এতে বিলের ধান পানিতে তলিয়ে গেছে এবং পানির নিচে থাকা ধানে পচন ধরেছে। কয়েক দিন ধরে রোদের অভাবে কেটে ফেলা ধানও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। বুধবার (৬ মে) বিকালের ভারি বর্ষণে কৃষকের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা

রামগোপালপুর ইউনিয়নের গোপীনাথপুর, নওয়াগাঁও ও পৌর শহরের সতিষা এলাকায় পানির নিচে আধাপাকা ধানে পচন ধরেছে। পাকাধান কেটেও বিপাকে কৃষক, কারণ এসব ধানে চারা গজিয়ে নষ্ট হচ্ছে। ডৌহাখলা ইউনিয়নের কেইলা বিলেও পানি সরছে না, ফলে হাজারও কৃষকের ধান পচে নষ্ট হচ্ছে। বোকাইনগর ইউনিয়নের পাগলা বিলেও একই অবস্থা।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কৃষকদের বক্তব্য

ডৌহাখলা ইউনিয়নের বীর মুক্তিযোদ্ধা রতন চন্দ্র সরকার জানান, অধিকাংশ খাল ভরাট ও অপরিকল্পিত পুকুর খননের কারণে বিলে পানি আটকে আছে। পানি নিষ্কাশনের কালভার্ট ও ব্রিজও ভরাট হয়ে গেছে। ভাংনামারী ইউনিয়নের কৃষক মজিবুর রহমান জানান, ব্রহ্মপুত্র নদ এখন শুকনা, পায়ে হেঁটে যাওয়া যায়। কিন্তু নদের সঙ্গে সংযোগ খালগুলো ভরাট হওয়ায় ফসল নষ্ট হচ্ছে। কৃষক আব্দুল গনি, মজিবুর রহমান ও সুমন মিয়া জানান, তাদের জমির উপর দিয়ে পানি প্রবাহিত হচ্ছে এবং সোনালি ধান পানির নিচে দুলছে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কৃষি অফিসের তথ্য

উপজেলা কৃষি অফিসার নিলুফার ইয়াসমিন জলি জানান, ঝড়ো আবহাওয়া ও অতিবৃষ্টিতে ৫ হাজার ১০০ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। বোরো আক্রান্ত ফসলি জমি ৫৫০ হেক্টর, যার মধ্যে সম্পূর্ণ ফসল নষ্ট হয়েছে ১৮০ হেক্টরে এবং আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৩৭০ হেক্টরে। এতে ৩ হাজার ৮৫০ জন কৃষকের ৬ কোটি ৪১ লাখ ৬৫ হাজার টাকার ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এছাড়া ৫০ হেক্টর জমির শাকসবজি আক্রান্ত হয়েছে, যার মধ্যে ৩০ হেক্টর সম্পূর্ণ ও ২০ হেক্টর আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত। এতে ১ হাজার ২৫০ জন কৃষকের ১ কোটি ৬১ লাখ ৫০ হাজার টাকার মৌসুমি শাকসবজি নষ্ট হয়েছে। উপজেলায় মোট ১ হাজার ৩০৯ মেট্রিক টন ধান ও ৬৪৬ মেট্রিক টন শাকসবজি নষ্ট হয়েছে।