কেরানীগঞ্জে চাঁদাবাজি কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ৬
কেরানীগঞ্জে চাঁদাবাজি কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, আহত ৬

ঢাকার দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া বাসস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এ সময় ককটেল ফাটিয়ে দেওয়া হয়। এই ঘটনায় অন্তত ছয়জন আহত হয়েছেন। বুধবার (৬ মে) দুপুরে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের তেঘরিয়া বাসস্ট্যান্ডে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

আহতদের পরিচয়

আহতদের মধ্যে চারজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন মো. মালেক গাজী (৫৩), মো. শাহীন (৩০), মো. সাজ্জাদ হোসেন (২২) ও মাহমুদ হাসান (২৭)। সংঘর্ষের ঘটনায় দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

স্থানীয় সূত্রের তথ্য

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার সংঘর্ষের সময় ককটেল বিস্ফোরণ করা হলে পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। তবে কোন পক্ষ ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে, সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেনি পুলিশ। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই স্থানে অবৈধভাবে বাস থামিয়ে যাত্রী ওঠানামা করানো হয় এবং প্রতিটি বাস থেকে নির্দিষ্ট হারে টাকা আদায় করা হয়, যা মাসে কয়েক লাখ টাকায় দাঁড়ায়।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

কর্মচারীর বক্তব্য

তেঘরিয়া বাসস্ট্যান্ডের কর্মচারী মো. মিজান বলেন, রিফাত মোল্লার লোকজন দীর্ঘদিন ধরে বাসস্ট্যান্ডে অতিরিক্ত যাত্রী বা মালামাল তোলা হলে ১০০ টাকা করে চাঁদা নিয়ে আসছিল। এ বিষয়ে কেউ বাধা দিতে গেলে রিফাত মোল্লাসহ তার লোকজন অকথ্য ভাষায় গালাগালি করত। দুপুরে রিফাত মোল্লার লোকজন বাসস্ট্যান্ডে আমাদের কাউন্টারে ভাঙচুর করলে কাউন্টারের সবাই এগিয়ে আসে। এ সময় সংঘর্ষ বাধে।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

রিফাত মোল্লার বক্তব্য

অভিযোগ অস্বীকার করে রিফাত মোল্লা বলেন, পরিকল্পিতভাবে আমার লোকজনের ওপর হামলা করেছে বাসস্ট্যান্ডের কিছু বিএনপি নেতা। ওই স্ট্যান্ডে আমার একটি কাউন্টার রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে একটি মহল আমাকে কাউন্টার ছেড়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিচ্ছিল। সর্বশেষ বুধবার আমার কাউন্টারের কর্মচারীরা দুটি মোটরসাইকেলে করে বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছালে সেখানে মো. বিশালের নেতৃত্বে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এই বিষয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় অভিযোগ দিতে গেলে পুলিশের সামনে বিএনপির নামধারী মেহেদী হাসান সম্রাট ও জহিরুল ইসলামসহ ২০-৩০ জন আমাকে ধাক্কা দিয়ে থানা থেকে বের করে দেয়। হামলাকারীরা বাসস্ট্যান্ড থেকে আমার দুটি দামি মোটরসাইকেল নিয়ে গেছে। তিনি আরও দাবি করেন, আমার পুরো পরিবার বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত। বিএনপির রাজনীতি করার কারণে আমি নিজেও জেল খেটেছি।

বিএনপি নেতার বক্তব্য

এদিকে সংঘর্ষের খবরে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট নিপুণ রায় চৌধুরী ঘটনাস্থল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বলেন, তেঘরিয়া বাসস্ট্যান্ডে চাঁদাবাজি বন্ধে অনেক আগেই পুলিশকে অবহিত করা হয়েছিল। তিনি অভিযোগ করেন, রিফাত মোল্লাই বিএনপি নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়েছেন এবং তিনি দলের কেউ নন। কেরানীগঞ্জে চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের কোনো স্থান হবে না বলেও তিনি জানান।

পুলিশের বক্তব্য

এ বিষয়ে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার ওসি সাইফুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের ঘটনায় বাসস্ট্যান্ডে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বাসস্ট্যান্ড দখল নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। সংঘর্ষের ঘটনায় বিশাল নামে এক ব্যক্তি থানায় মামলা দায়ের করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।