পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের কারিগরি, জরিপ ও সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রায় শেষ হওয়ায় সরকার শিগগিরই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ মন্ত্রী শাহিদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি। বুধবার সচিবালয়ে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা বলেন।
সমীক্ষা প্রায় সম্পন্ন
মন্ত্রী বলেন, ‘পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পের সমীক্ষা প্রতিবেদন, কারিগরি দিক ও সম্ভাব্যতা মূল্যায়ন প্রায় শেষ।’ সরকার প্রকল্পটি নিয়ে আলোচনার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, খুব শিগগিরই প্রকল্পটি একনেক সভায় উপস্থাপন করা হবে, সেখানে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
প্রধান উপদেষ্টার সভাপতিত্বে বৈঠক
পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিষয়ক এই বৈঠকটি প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হয়, যাতে সভাপতিত্ব করেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। প্রধান উপদেষ্টার অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, এক ঘণ্টার এই বৈঠকে খাল খনন, শুষ্ক মৌসুমে সেচ সুবিধা এবং পদ্মা ব্যারেজসহ বড় প্রকল্প নিয়ে আলোচনা হয়।
পদ্মা ব্যারেজের উপকারিতা
বৈঠকের পর এ্যানি বলেন, পদ্মা ব্যারেজ প্রকল্পটি দেশের অন্যতম বৃহৎ প্রকল্প এবং এটি জনসংখ্যার একটি বড় অংশ, বিশেষ করে উত্তরাঞ্চলের জেলাগুলোর জন্য উপকার বয়ে আনবে। সেচের পাশাপাশি এই প্রকল্প পানি প্রবাহ বজায় রাখতে, ভূগর্ভস্থ পানির স্তর উন্নত করতে এবং মৎস্য ও কৃষি খাতকে সহায়তা করবে।
তিস্তা মাস্টার প্ল্যান নিয়েও আলোচনা
মন্ত্রী আরও বলেন, বৈঠকে তিস্তা মাস্টার প্ল্যান নিয়েও আলোচনা হয়েছে। এর সম্ভাব্যতা সমীক্ষা চলছে এবং আরও অধ্যয়নের প্রয়োজন হবে। তিনি বলেন, ‘আমরা আলোচনা করেছি কীভাবে এলাকার জনগণ ও দেশের জন্য সুবিধা নিশ্চিত করা যায়, সব কারিগরি দিক ও জরিপ বিবেচনায় নিয়ে।’
খাল খনন কর্মসূচি
এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, খাল খনন কর্মসূচি চলছে এবং প্রধান উপদেষ্টা বর্ষা মৌসুম শুরুর আগে ১৬ মে চাঁদপুরে ও ২৫ মে ফেনীতে এই কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এ্যানি আরও জানান, সরকার আগামী পাঁচ বছরে সারা দেশে প্রায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের পরিকল্পনা নিয়েছে।



