সাতক্ষীরায় নির্ধারিত সময়সূচি মেনে শুরু হয়েছে চলতি মৌসুমের আনুষ্ঠানিক আম সংগ্রহ। জেলা প্রশাসন ও কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের যৌথ উদ্যোগে মঙ্গলবার এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হয়। গাছ থেকে সঠিক সময়ে আম পাড়া এবং গুণগত মান বজায় রেখে বাজারজাত নিশ্চিত করতেই এই উদ্যোগ।
উদ্বোধন ও অংশগ্রহণ
সদর উপজেলার ফিংড়ি ইউনিয়নে আমচাষি আবু সাইদের বাগানে প্রধান অতিথি হিসাবে উপস্থিত থেকে আম সংগ্রহ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক (ভারপ্রাপ্ত) বিষ্ণুপদ পাল। সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অর্ণব দত্তের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক কৃষিবিদ সাইফুল ইসলাম, উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনির হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও বিপুলসংখ্যক আমচাষি অংশ নেন।
উৎসবমুখর পরিবেশ
উদ্বোধনের পরই বাগানজুড়ে শুরু হয় আম পাড়া। চাষিদের ব্যস্ততায় পুরো এলাকা ফিরে পায় প্রাণচাঞ্চল্য, তৈরি হয় উৎসবমুখর পরিবেশ। আমচাষি আবু সাইদ জানান, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর এ সময়টি আসে। চলতি মৌসুমে গাছে ফলন ভালো হয়েছে। নির্ধারিত সময় অনুযায়ী আম সংগ্রহ শুরু হওয়ায় তিনি ভালো দাম পাওয়ার আশা করেন।
আম ক্যালেন্ডার ও নজরদারি
জেলা প্রশাসনের ঘোষিত ‘আম ক্যালেন্ডার’ অনুযায়ী, ৫ মে থেকে গোপালভোগ, গোবিন্দভোগ, বোম্বাই ও গোলাপখাস জাতের আম সংগ্রহ শুরু হয়েছে। ১৫ মে থেকে বাজারে আসবে সুগন্ধি হিমসাগর, ২৭ মে থেকে ল্যাংড়া এবং ৫ জুন থেকে আম্রপালি সংগ্রহ করা হবে। নির্ধারিত সময়ের আগে আম পাড়া বা বিক্রি করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে। কৃষি বিভাগ জানায়, নির্ধারিত সময় মেনে আম সংগ্রহ শুরু হওয়ায় ফলের স্বাভাবিক পরিপক্বতা বজায় থাকবে, যা সাতক্ষীরার আমের সুনাম ধরে রাখতে সহায়ক হবে। পাশাপাশি অপরিপক্ব ও রাসায়নিকযুক্ত আম বাজারজাত ঠেকাতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মাঠপর্যায়ে কঠোর নজরদারি চালাচ্ছে।
উৎপাদন ও রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য মতে, চলতি মৌসুমে জেলায় ৪ হাজারের বেশি হেক্টর জমিতে ৫ হাজারেরও বেশি বাগানে প্রায় ১২ হাজার চাষি আম চাষ করেছেন। এ বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৭০ হাজার টন। সংশ্লিষ্টরা জানান, সাতক্ষীরার আম এখন দেশীয় বাজারের পাশাপাশি ইউরোপসহ আন্তর্জাতিক বাজারেও সমাদৃত। চলতি মৌসুমে প্রায় ১০০ টন আম রপ্তানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।



