পানিনিষ্কাশনের নালায় বাঁধ, তারাগঞ্জে শত একর ধান তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা
পানিনিষ্কাশনের নালায় বাঁধ, তারাগঞ্জে ধান তলিয়ে যাওয়ার শঙ্কা

আজ শনিবার বেলা ১১টার দিকে রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার তারাগঞ্জ চৌপথী এলাকায় রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন কৃষকেরা। তাঁদের অভিযোগ, পানিনিষ্কাশনের নালার মুখে বাঁধ দেওয়ায় জলাবদ্ধতায় শত একর বোরো ধান তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জলাবদ্ধতায় ফসলের ক্ষতির শঙ্কা

কৃষকদের দাবি, উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের ফলিমারী এলাকায় চলতি মৌসুমে প্রায় ২৫০ একর জমিতে বোরো ধানের আবাদ হয়েছে। সাধারণত বর্ষার পানি ফলিমারী বিল হয়ে সতীপাড়া ঘাট দিয়ে চিকলী নদীতে নেমে যায়। কিন্তু সতীপাড়া ঘাট এলাকায় কুশা গ্রামের খলিলুর রহমান মাছ চাষের জন্য নালার মুখে বাঁধ দেওয়ায় পানি নিষ্কাশন বন্ধ হয়ে গেছে। টানা কয়েক দিনের বৃষ্টিতে জমে থাকা পানি বের হতে না পেরে অন্তত ১০০ একর জমির ধান তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। কৃষকেরা আশঙ্কা করছেন, পানি নামানো না গেলে প্রায় কোটি টাকার ক্ষতি হতে পারে।

সরেজমিনে দেখা গেছে জলাবদ্ধতা

আজ দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, ফলিমারীর মাঠজুড়ে থইথই পানি। কোথাও কোথাও পানির ওপর ভেসে আছে ধানের শিষ। নালার মুখে বাঁধ দিয়ে জাল টানিয়ে মাছ চাষ করা হচ্ছে। কৃষক গোলাম সরওয়ার বলেন, তাঁর ১০ একর জমিতে পানি জমেছে। দ্রুত পানি সরানো না গেলে সব ধান নষ্ট হবে। ২ একর জমিতে ধান চাষ করা কৃষক শুকুর আলী জানান, তাঁর জমিও পানিতে ডুবে আছে। সময়মতো পানি না নামলে পুরো ফসল পচে যাবে। কৃষক হাফি মিয়া বলেন, গত বছরও একই কারণে ধান তলিয়ে গিয়েছিল, এবারও ১০০ থেকে ১৫০ একর জমির ধান নষ্ট হওয়ার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

Pickt প্রশস্ত ব্যানার — টেলিগ্রামের জন্য সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

অভিযোগের জবাবে মাছচাষির বক্তব্য

অভিযোগের বিষয়ে খলিলুর রহমান বলেন, তিনি মাছ চাষের জন্য বাঁধ দিয়েছেন। এটি সরকারি কোনো খাল নয়। ওই নালা দিয়ে পানি গেলে তাঁর জমির ফসলের ক্ষতি হয়। তিনি বলেন, তিন লাখ টাকার মাছ ছাড়া আছে। ক্ষতিপূরণ দিলে তিনি বাঁধ কেটে দেবেন; কিন্তু কৃষকেরা সেটা শুনছে না। গত বছরও ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি বলে জানান তিনি।

Pickt নিবন্ধের পরে ব্যানার — পারিবারিক চিত্রসহ সহযোগী শপিং লিস্ট অ্যাপ

প্রশাসনের উদ্যোগ

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোনাব্বর হোসেন বলেন, বিষয়টি নিয়ে দুই পক্ষের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। খলিলুর রহমানকে ক্ষতিপূরণ দিয়ে বাঁধ আংশিক কেটে জাল দিয়ে নালা তৈরি করে পানি নিষ্কাশনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।