প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সম্প্রতি হাওরের ফসলহানি ও চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন। কয়েক দিন ধরে সংবাদমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পানিতে ডুবে যাওয়া ফসল ও কৃষকের কান্নার ছবি দেখা যাচ্ছে। সপ্তাহখানেক আগে ফসলের দাম নিয়ে দুশ্চিন্তা, সেচের জন্য জ্বালানির অভাবে খেত শুকিয়ে যাওয়া, ডিজেলের জন্য কৃষকের লম্বা লাইন, পাম্পের সামনে কৃষকের মৃত্যু—এসবই ছিল খবর; কিন্তু প্রচণ্ড গরমে কয়েক দিনের স্বস্তির বৃষ্টি কৃষকের কান্না যেন আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। হাওরের ফসল তলিয়ে গেছে, এটি এখন আমরা সবাই জানি; কিন্তু এই জানাই যথেষ্ট নয়।
হাওরের ফসলের বর্তমান অবস্থা
৩০ এপ্রিল ২০২৫ সমকাল এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, সুনামগঞ্জে ১৯৯ হাওরের ফসল এখন পানির নিচে। চারদিকে থই থই জলরাশি, তার নিচে চাপা পড়ে গেছে কৃষকের সোনালি স্বপ্ন। একই দৃশ্য অন্যান্য হাওর এলাকা কিশোরগঞ্জ, নেত্রকোনা, হবিগঞ্জ, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, মৌলভীবাজারেও দেখা গেছে—কোথাও কম, কোথাও বেশি।
বুধবার সংসদে হাওরের ফসলহানি নিয়ে সুনামগঞ্জের এক এমপি সম্পূরক প্রশ্নে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এর জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, যেসব এলাকার যেসব কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, যাঁদের ফসল নষ্ট হয়েছে, তাঁদের লোকেট (চিহ্নিত) করে আগামী তিন মাস সরকারের পক্ষ থেকে সহযোগিতা দেওয়ার চেষ্টা করা হবে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘কৃষকদের বিষয়টি উদ্বেগের। তিন দিন আগে আবহাওয়া প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে তিনি তিনটি জেলার স্থানীয় প্রশাসনকে নির্দেশনা দিয়েছিলেন, যেন পূর্বাভাস অনুযায়ী বৃষ্টি হলে ব্যবস্থা নেন।’
কৃষকদের প্রতি আন্তরিকতা ও প্রশ্ন
এখানে কৃষকের প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিকতার প্রকাশ পেয়েছে। কৃষককে তিন মাসের সহযোগিতার আশ্বাসও ইতিবাচক। কৃষকদের দুর্দশা একজন সরকারপ্রধানের ভাবনায় অগ্রাধিকার পাবে, এটিই তো কাম্য; কিন্তু হাওরাঞ্চলের কৃষি ও কৃষকের সুরক্ষার বিষয়টি শুধু আবহাওয়ার পূর্বাভাসের ওপর নির্ভর করে পদক্ষেপ নেওয়াটাই কি যথেষ্ট? অন্যান্য এলাকা এবং হাওরের কৃষি উৎপাদনের মধ্যে সময় ও বাস্তবতায় আছে নানা ফারাক। হাওরের ফসল সুরক্ষায় কয়েক মাস আগে থেকে আলাদা পদক্ষেপ নিতে হয়। শুধু বৃষ্টির পূর্বাভাসের আগে নয়, কয়েক মাস আগে থেকেও শুরু করতে হয় সেই প্রস্তুতি।
নতুন ক্ষমতা গ্রহণ করেই সরকার হয়তো অনেক কিছুর দিকে মনোযোগ দিতে পারেনি। নইলে দেখতে পারত গত দুই মাসে হাওরের ফসল রক্ষা বাঁধ নির্মাণ নিয়ে নানা অভিযোগ প্রকাশিত হয়েছে সংবাদমাধ্যমগুলোতে। এটি অবশ্য প্রতিবছরই ঘটে। ২০১৭ সালে হাওরে ভয়াবহ বন্যার পর বাঁধ নির্মাণে দুর্নীতিবাজ ঠিকাদার ও অসাধু কর্মকর্তাদের চক্র ভেঙে দিয়ে স্থানীয় কৃষক ও সুবিধাভোগীদের নিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি (পিআইসি) গঠন করা হয়। পিআইসির মাধ্যমেই বাঁধ নির্মাণ করা হলেও প্রকল্পের লাগাম থাকে মূলত প্রশাসনের হাতে। সেখানেও দেখা যায় নানা দীর্ঘসূত্রিতা, পরিকল্পনাহীনতা, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ। একটি আলোচনা আছে, পিআইসিকে ব্যর্থ প্রমাণ করতে একটি গোষ্ঠীর প্রচেষ্টা চলমান, যাতে এই ফসল রক্ষা বাঁধের প্রকল্প আবার ঠিকাদার–কর্মকর্তাদের চক্রের হাতে ফেরত যায়।
কৃষকদের গণসমাবেশ ও দাবি
১১ এপ্রিল সুনামগঞ্জে কৃষকেরা একটি গণসমাবেশ করেছিল, সরকার কি সেটি জানে? কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে জেলার ‘হাওর ও নদী রক্ষা আন্দোলন’-এর উদ্যোগে এ সমাবেশ হয়। এতে জেলার বিভিন্ন উপজেলার প্রতিনিধি ও স্থানীয় কৃষকেরা অংশ নেন। এর আগে প্রতিটি উপজেলায় একই কর্মসূচি পালন করা হয়। সেই গণসমাবেশে বক্তাদের বক্তব্যে উঠে আসে—পিআইসির মাধ্যমে বাঁধ তৈরি হলেও অপরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণ ও লুটপাটের কারণে হাওরের ক্ষতি হচ্ছে। গণসমাবেশ থেকে ১০ দফা দাবি জানানো হয়। সেগুলো সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনগুলোও নিশ্চয়ই জানে; কিন্তু উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের কৃষকদের সেই সমাবেশকে গুরুত্ব দিলে ফসল সুরক্ষায় পদক্ষেপ হয়তো আরও আগেই শুরু করা যেত।
আবার, এটিও বলতে হয় সুনামগঞ্জে গত এক দেড় সপ্তাহ ধরে কৃষকদের দ্রুত ফসল কাটতে নানাভাবে তাগাদা দিয়ে গেছে স্থানীয় প্রশাসন, তৎপরতা দেখিয়েছে। অন্যান্য জেলার প্রশাসন কি সেভাবে তৎপর ছিল?
এক মৌসুমের ফসল হারানোর ধাক্কা কৃষককে সইতে হয় কয়েক মৌসুম পর্যন্ত। এর পরও কৃষককে আগামী তিন মাস সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী, সেটি বাস্তবায়িত হলে প্রাথমিক ধাক্কাটা কাটিয়ে উঠতে পারবেন কৃষক; কিন্তু এই সহযোগিতা কৃষকের ব্যক্তিগত ক্ষয়ক্ষতি পূরণে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে, যেটি অবশ্যই জরুরি; কিন্তু কৃষকের এই ফসল যে গোটা দেশের মানুষের খাদ্যনিরাপত্তার অংশ, সেখানে যে একটা ধাক্কা লাগল, সেটির প্রভাব তো ঠিকই বাজারে এসে পড়বে কয়েক মাস পর, তা কীভাবে সামাল দেওয়া যাবে?
জ্বালানিসংকটের ফলে কৃষি উৎপাদনে একটি ধাক্কা গেছে, এখন অতিবৃষ্টিতে আরেকটি ধাক্কা গেল। ইতিমধ্যে ২০২৬ সালের গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসিসের প্রতিবেদনে বাংলাদেশকে নিয়ে একটি অস্বস্তিকর বার্তা প্রকাশ হয়েছে। ২০২৫ সালে উচ্চমাত্রার তীব্র খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় থাকা বিশ্বের শীর্ষ ১০ দেশ ও অঞ্চলের মধ্যে বাংলাদেশের নাম রয়েছে। অর্থনীতিবিদেরাও খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। ফলে সরকারের সেটি উপেক্ষা করার সুযোগ নেই।
চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা: বাস্তবতা ও সরকারের ভূমিকা
মৌসুমের প্রথম ভারী বৃষ্টিতে চট্টগ্রাম শহরের অনেক এলাকা ডুবে গেছে। বাণিজ্যিক রাজধানীখ্যাত এ শহরের জলাবদ্ধতা সমস্যা নিয়ে আলোচনা, সমালোচনা, তর্ক–বিতর্ক কম নয়। সেখানে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রকল্প চলমান। মেয়াদ বাড়ে, ব্যয় বাড়ে কিন্তু প্রকল্প শেষ হয় না। অতীতেও জনগণের বিপুল টাকা খরচ করা হয়েছে। চট্টগ্রামকে সিঙ্গাপুর বানানোর নাম করে পানিতে ভাসানো নিয়ে ট্রল ও মিমের কোনো শেষ নেই।
নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব গ্রহণের প্রথম মৌসুমে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সমস্যাকে বিএনপি সরকার গুরুত্ব দিয়েছে, এটি ইতিবাচক। জলাবদ্ধতার কারণে কষ্টের শিকার হওয়া চট্টগ্রাম মহানগরের বাসিন্দাদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দায় অস্বীকারের এ দেশে সামান্য দুঃখ প্রকাশও বড় পরিবর্তন বলতে হবে। শুধু তা–ই নয়, সরেজমিনে পরিদর্শনের জন্য স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীকেও তিনি চট্টগ্রাম পাঠিয়েছেন। এতে স্পষ্ট, সরকার আসলে সমস্যা সমাধানে আন্তরিক। প্রতিমন্ত্রীও চট্টগ্রামে গিয়ে আন্তরিকভাবে জলাবদ্ধতা–সংকটের বিষয়টি বোঝার চেষ্টা করেছেন। খালগুলো পুনরুদ্ধারের চলমান প্রকল্প দ্রুত শেষ করার বিষয়ে আশা প্রকাশ করেছেন ও দিকনির্দেশনা দিয়েছেন।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য ও বিতর্ক
প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম সংবাদমাধ্যমে বলেন, ‘সোশ্যাল মিডিয়ায় চব্বিশ–তেইশ সালের বিভিন্ন ছবি প্রকাশ করে একটা অপপ্রচার চালানো হয়েছে যে চট্টগ্রাম মহানগর পানির মধ্যে ভাসছে।...যেভাবে মিডিয়ায় নিউজটা এসেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও, এ রকম জলাবদ্ধতা আমি দেখিনি।...অনেকে ট্রল করে বলেছেন, মাননীয় মন্ত্রীর চশমায় সমস্যা আছে। চোখে কম দেখেন।’
প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের বলেন, ‘...অনুরোধ করি, শুকনা রাস্তাকে আপনারা ভাই চট্টগ্রাম বৃষ্টির মধ্যে ভাসছে এটা দেখাইয়েন না। আপনারা তো কাল থেকে আমার সাথে ছিলেন। আজকে তো কোথাও আপনারা জলাবদ্ধতা দেখেননি। এখন প্রশ্ন এটা হতে পারে প্রবর্তকের মোড়সহ কয়েকটি জায়গায় হঠাৎ বৃষ্টি হওয়ার কারণে। হঠাৎ করে এ রকম মহানগরীতে ৮০, ৮৫ বা ৯০ মিলিমিটারের ভারী বৃষ্টি যদি হয়, স্বাভাবিক কারণেই এই পানিটা সরতে একটু সময় লাগবে। এটাকে আমরা জলাবদ্ধতা বলব না, এটাকে আমরা জলজট বলব।’
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্যে কি দায় অস্বীকারের ইঙ্গিত পাওয়া যায় না? সেই সঙ্গে মিডিয়া বা সাংবাদিকদেরও কি দায় দিচ্ছেন না তিনি? চট্টগ্রাম ঘুরে এসে আজ বৃহস্পতিবার সংসদেও প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যের শুরুতে বলেন, ‘চট্টগ্রাম মহানগরী পানির ওপর ভাসছে, এ রকম একটি বিষয় আসছিল এবং এটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রচার হয়েছিল। আমি গতকালই চট্টগ্রামে গিয়েছিলাম এবং আজ দুপুর পর্যন্ত আমি চট্টগ্রাম ঘুরেছি। বিষয়টি সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট, কাল্পনিক এবং ২৪ সালের ছবি প্রচার করে একটি অপপ্রচার চালানো হয়েছিল।’
প্রতিমন্ত্রীর মন্তব্যে চট্টগ্রামের অনেক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। প্রতিমন্ত্রী যাওয়ার আগে অনেক এলাকা দুইদিন ধরে পানিতে ডুবে ছিল। মহোদয়ের প্রতি বলতে হয়, চট্টগ্রাম ও অন্যান্য এলাকার জলাবদ্ধতা সমস্যার মধ্যেও ফারাক আছে। এখানে জলাবদ্ধতা ও জলজটের বাস্তবতাও ভিন্ন। প্রতিবছর চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার কোটি কোটি টাকার ক্ষতিতে পথে বসেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আর উদ্যোক্তারা। পানিতে তলিয়ে কেউ হারান সারা জীবনের পুঁজি, কেউবা মালামাল ও পণ্য হারিয়ে হন দিশেহারা। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় পানিতে নষ্ট হয় শত শত দোকানের পণ্য। এবারও সেটি হয়েছে।
জলাবদ্ধতা নিরসনে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রয়োজন
সমুদ্র, নদী, পাহাড়ের শহর এবং পাহাড়ি ঢলে বালু ও মাটিতে খাল ও নালা ভরাট হয়ে যাওয়া, সমুদ্রের জোয়ারের কারণে প্লাবিত হওয়ার বিষয়টি এ শহরের জলাবদ্ধতা সমস্যাকে আলাদা করেই দেখতে হবে। আর মেয়রসহ সরকারি অন্যান্য প্রতিষ্ঠানের কর্তারা প্রতিমন্ত্রীকে যেসব এলাকা ঘুরিয়ে দেখিয়েছেন, সেসবই চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা সম্পর্কে প্রকৃত চিত্র পাওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়। রাস্তাগুলো থেকে হয়তো কয়েক ঘণ্টায় পানি নেমে যায় ঠিকই; কিন্তু পাঁচলাইশ, কাতালগঞ্জ, কাপাসগোলা, বাদুড়তলা, ডিসি রোড, শুলকবহর—এই রকম অনেক এলাকার অলিগলি ও ঘরবাড়ির নিচতলা পানিতে ডুবে থাকে। সেসব জায়গায় প্রতিমন্ত্রীকে কেউ নিয়ে যাবেন না। আর হঠাৎ বৃষ্টিতে চট্টগ্রামে এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তা নয়, প্রতিবছরই এ সময় বা মৌসুমের প্রথম বৃষ্টিতে ও পরে বর্ষাকালেও এ ধরনের জলাবদ্ধতা তৈরি হয়।
এখানেও একটি বিষয় পরিষ্কার করতে হয়, খাল পুনরুদ্ধারের প্রকল্প শেষ হলেই চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতার সমস্যা নিরসন হয়ে যাবে, তা নয়। তবে নিঃসন্দেহে সহায়ক ভূমিকা রাখবে। এ শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও এর সঙ্গে জোরালোভাবে যুক্ত। এর আগেও অনেকবার খাল খনন করা হয়েছে; কিন্তু সমস্যা থেকেই গেছে এবং পরবর্তী সময়ে আরও গভীর থেকে গভীরতর হয়েছে। চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার সমস্যা নিরসনও প্রতিবছর বৃষ্টির মৌসুমের কয়েক মাস আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়ার বিষয়। যেটি অন্তর্বর্তী সরকার বিশেষ মনোযোগ দিয়ে করেছিল। চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতার সমস্যা নিরসনে অন্তর্বর্তী সরকার কয়েকজন উপদেষ্টাকে বিশেষ দায়িত্ব দিয়েছিল এবং তাঁরা জানুয়ারি মাস থেকে প্রস্তুতি শুরু করেছিলেন। এর সুফলও পাওয়া গিয়েছিল, এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমগুলোও প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। ফলে চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতা নিরসনের বিষয়টি নিয়মিত মনিটরিংয়ের বিষয়। প্রতিবছর জানুয়ারি মাস থেকেই প্রস্তুতি ও কার্যক্রম শুরু না করলে এ সমস্যা মোকাবিলা করা কঠিন।
সমন্বয় ও জবাবদিহিতার অভাব
তবে প্রতিমন্ত্রীকে একটি বিষয়ে সাধুবাদ জানাতে হয়, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ বা সিডিএ অফিসে গিয়ে তাদের জবাবদিহি চাওয়া। কারণ, সিটি করপোরেশন ও সিডিএর রেষারেষি, দায় অস্বীকার ও সমন্বয়হীনতা চট্টগ্রামের জলাবদ্ধতাকে প্রকট করেছে। মেয়রকে যতটা জবাবদিহির মুখে পড়তে হয়, সেই তুলনায় সিডিএ চেয়ারম্যানের গায়ে টোকাও লাগে না, অথচ অনেকাংশে তাদের দায় বরং বেশি। সিটি করপোরেশন, সিডিএ, ওয়াসাসহ সব নাগরিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠানকে সমন্বয় ও জবাবদিহির মধ্যে না আনলে এ শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে সব প্রচেষ্টা যে বৃথা যাবে, তা বলার অপেক্ষা রাখে না।



